গ্রেটা গেরউইগের বারবি নিষিদ্ধ হলো ভিয়েতনামে। মার্গো রবি ও রায়ান গসলিং অভিনীত ওয়ার্নার ব্রোসের সিনেমাটি ২১ জুলাই মুক্তি পাবে। কিন্তু মুক্তির আগে একটি মানচিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি ওঠে ভিয়েতনাম থেকে। সে কারণেই সিনেমাটি নিষিদ্ধ হয়েছে। সিনেমায় একটি মানচিত্র দেখানো হয়েছে, যেখানে দক্ষিণ চীন সাগরে নয়টি ড্যাশ দিয়ে সেখানে চীনের অধিকার বোঝানো হয়েছে। ভিয়েতনামের দাবি হলো এর মাধ্যমে দেশটির সার্বভৌমত্বে আঘাত করা হয়েছে। ভিয়েতনামের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সিনেমা বিভাগের মহাপরিচালক ভি কিন থান এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, দেশটির ন্যাশনাল ফিল্ম ইভল্যুশন কাউন্সিল থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ভ্যারাইটির তরফ থেকে ওয়ার্নার ব্রোসের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি।
চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে এ বিরোধ অনেক দিনের। সঙ্গে আছে আরো কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ। ২০১৬ সালে জাতিসংঘ থেকে এ ‘নাইন ড্যাশ লাইন’ বাতিল করে দেয়। অবশ্য চীনের বক্তব্য হলো তারা বিষয়টি মেনে নিচ্ছে না। কিন্তু এমন একটি বিতর্কের বিষয় সিনেমায় থাকার প্রয়োজন ছিল না। এসব নিয়ে ভি কিন থান বলেন, ‘আমেরিকার সিনেমাটি আমাদের দেশে প্রচারের অনুমতি দেয়া যাচ্ছে না, কেননা তারা নাইন ড্যাশ লাইনকে সেখানে রেখেছে।’ আর ভিয়েতনাম এ বিষয় সবসময়ই গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। তারা এর আগেও বেশকিছু টেলিভিশন সিরিজ ও সিনেমায় বিষয়টি থাকার কারণে সেসবও নিষিদ্ধ করেছে।
অ্যানিমেশন ‘অ্যাবমিনেবল’ ২০১৯ সালে টম হল্যান্ড অভিনীত ‘আনচার্টেড’ একই বিষয় দেখিয়েছিল। ভিয়েতনাম থেকে বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়। কয়েক সপ্তাহ সিনেমা প্রচারের পর ভিয়েতনামে এর প্রচার বন্ধ করা হয়। ২০২০ সালে ‘পুট ইয়োর হেড অন মাই শোল্ডার’ ও ‘ম্যাডাম সেক্রেটারি’ থেকে মানচিত্রের দৃশ্য বাদ দিতে বলা হয়। ২০২১ সালে নেটফ্লিক্সের স্পাই ড্রামা ‘পাইন গ্যাপ’ ভিয়েতনামের বাজার থেকে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল প্লাটফর্মটিকে।
বারবিতে গ্রেটা নিয়ে এসেছেন আশির দশকের গল্প। সিনেমাটি নিয়ে এরই মধ্যে দর্শক আগ্রহ প্রকাশ করছে। এমন একটি সিনেমায় বিতর্কের বিষয় থাকা যেকোনো দেশের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। ভিয়েতনাম তাদের সীমানা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে সবসময়ই সচেতন বলে জানিয়েছেন ভি কিন থান।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট










