রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরার জনপ্রিয় সিনেমা রঙ দে বাসন্তী। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছিলেন আমির খান, আর মাধবন, সোহা আলী খান, ওয়াহিদা রহমান, শারমান যোশী প্রমুখ। সিনেমাটি দর্শক যেমন পছন্দ করেছিলেন, তেমনি সমালোচকদের কাছেও নন্দিত। প্রেক্ষাপট, গল্প ও অভিনয় বাদেও এ সিনেমার সংগীত আলাদাভাবে জনপ্রিয় ও প্রশংসিত। এআর রহমানের সংগীতে এ সিনেমায় ছিল বিভিন্ন ধারার গান। এর মধ্যে ‘‌লুকা ছুপি’ গানটি আলাদা করে মন ছুঁয়েছে সবার। সিনেমা অনুসারে বিমান দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর পাইলটের মৃত্যুর পর তার শেষ কৃত্যের পটভূমিতে গানটি বাজে। প্রসুর যোশীর লিরিকে এ গানে পুরাণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বর্তমান। রহমানের সুর ও রহমান-লতার কণ্ঠে গানটি বিশেষ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু রহমান জানালেন গানটি এ সিনেমার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত ছিল না।

গানটি তৈরি হওয়ার পেছনে একটি গল্প আছে। রাজীব মাসন্দের সঙ্গে গল্পটি শেয়ার করেছেন রহমান। তিনি বলেন, ‘‌বর্ন অন দ্য ফোর্থ জুলাই সাউন্ডট্র্যাক থেকে একটি গান শুনছিলাম আমি। গানের কথা ছিল, ‘‌‘হোয়্যার হ্যাভ ইউ বিন মাই ব্লু আইড সান।’’ গানটি বেশ নৈব্যক্তিক। আমার মনে হয়েছিল গানটি সিনেমার নির্যাসটা ধরতে পারে। আমি যখন রাকেশকে বলি সে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল। এরপর প্রসুন বলল, ‘‌‘‌এভাবে হবে না।’’ সে এরপর লুকা ছুপি নিয়ে‌ আমার কাছে এল। আমার মনে হলো মায়ের পক্ষ থেকেও একটি উত্তর থাকা উচিত।’

লুক ছুপি গানটি এআর রহমানের জন্য বিশেষ। কেননা তিনি বরাবরই লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে একটি ডুয়েট গাইতে চাইতেন। তিনি বলেন, ‘‌আমার স্বপ্ন ছিল লতাজির সঙ্গে একটা ডুয়েট গাওয়া’। অনেক দিন ধরেই আমার সে ইচ্ছাটা ছিল। কিন্তু আমি যখন সে চেষ্টাটা করেছি তা পূরণ হয়নি। অন্তত ছয়বার আমাদের সে পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এটা হলো লুকা ছুপিতে।’

লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে রহমান আগেও কাজ করেছেন। এর মধ্যে দিল সে সিনেমার ‘‌জিয়া জালে’ অন্যতম। গানটি তৈরি হওয়ার পেছনেও গল্প আছে। গানটি তৈরির সময় লতা মঙ্গেশকরের গলায় কিছুটা সমস্যা ছিল। এ কারণে গানটিতে লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠ তিনি যথাসম্ভব নিচু রেখেছিলেন। লতা মঙ্গেশকরের গলার চড়াই-উতরাই, টেক্সচার সবই জানতেন রহমান। সে কারণে লুকা ছুপি তৈরি করা সহজ হয়। গানটি যখন তৈরি হয় তখন লতা মঙ্গেশকরের বয়স ছিল ৭৫ বছর। ওই বয়সে এমন একটি গান করা খুব সহজ নয়।

লুকা ছুপিতে ওয়াহিদা রহমানের চেহারা, তার আবেগ ও বয়সের সঙ্গে লতার কণ্ঠ বেশ মিলে গিয়েছিল। এ গান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছিলেন রাকেশ মেহরা। লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুর পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‌লতাজি নিয়মিত আসতেন রিহার্সেলের জন্য। প্রায় ৪ ঘণ্টা তিনি রিহার্সেল করেছেন এ গানের জন্য। গানটি যেদিন রেকর্ড হয়, টানা ৮ ঘণ্টা তিনি দাঁড়িয়ে থেকে গানটি রেকর্ড করেছিলেন।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস