রেখা বলিউড অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু মজার ব্যাপার তিনি এসেছেন দক্ষিণ ভারত থেকে। তার বাবা-মা দক্ষিণী। রেখার বাবা জেমিনি গণেশ পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের জনপ্রিয় রোমান্টিক হিরো। সিনেমায় আসা রেখার জন্য নির্ধারিতই ছিল। কিন্তু নানা সময়ে রেখা বলেছেন, সিনেমায় তার খুব একটা আগ্রহ ছিল না। তাকে অনেকটা জোর করেই অভিনয়ে আনা হয়েছে। তবে সম্প্রতি রেখা জানালেন, অভিনেত্রী হওয়ার পেছনে সবেচেয়ে বেশি অবদান ছিল তার মা পুষ্পাবল্লীর। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিত্ব ও সিনেমায় আমার উপস্থিতির যা কিছু নিয়ে প্রশংসা হয়, তা তৈরি হয়েছিল আমার মায়ের প্রভাবে।’
সম্প্রতি রেখা একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ভোগ অ্যারাবিয়ায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘মা আমার মেন্টর ছিলেন। আমার কাছে তিনি ছিলেন একজন দেবীর মতো। তিনি আমাকে সুন্দরভাবে বাঁচতে শিখিয়েছেন। আত্মসম্মানবোধ আমি পেয়েছি তারই কাছ থেকে। ভালোবাসা কী, তাও শিখেছি মায়ের কাছ থেকেই।’ রেখা বলিউডের একজন কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। তিনি এখনো যেখানেই যান না কেন, ক্যামেরা তার দিকে মুখ করে থাকে। সত্তর, আশির দশকে বহু সিনেমা, গানে তার অভিব্যক্তি দর্শকের মন ছুঁয়েছে এবং এখনকার দর্শকদেরও তিনি মুগ্ধ করেন। লোকে বলে রেখার চোখে এক ধরনের চমক আছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘মা আমাকে সবসময় বলতেন, চোখের এ চমক যেন কখনো হারিয়ে না যায়। তার মতে, একটি বীজ থেকে যেমন একটি বড় গাছ তৈরি হয়, চোখের দৃষ্টি তেমনই একটি জাদুকরী বিষয়।’
রেখার মা পুষ্পাবল্লী নিজেও তেলেগু ও তামিল সিনেমার অভিনেত্রী ছিলেন। জেমিনি গণেশের চার স্ত্রীর মধ্যে পুষ্পা একজন। তাদের দাম্পত্য ১৯৪৬ থেকে ১৯৯১ সাল (পুষ্পার মৃত্যুকাল) পর্যন্ত। জেমিনি, তার পরিবার ও তার ক্যারিয়ার রীতিমতো একটি সিনেমাটিক গল্প। তবে জেমিনিকে ভালোবাসতেন পুষ্পা। মেয়েকেও তেমন ভালোবাসা শিখিয়েছেন। রেখা বলেন, ‘মা আমাকে বলতেন, যা আমি ভালোবাসি তা যেন ধরে রাখি সবসময়। তিনি নিজে সেটা করতেন বলেই আমাকে স্পষ্ট করে কথাটি বলেছিলেন।’
অভিনয় ও ভারতীয় সিনেমায় অবদানের জন্য রেখাকে ২০১০ সালে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হয়। রেখার মতে এক্ষেত্রেও পুষ্পাবল্লীর অবদান বেশি। তিনিই শিখিয়েছেন সফল হওয়ার জন্য নিজস্বতা বজায় রাখতে হয়। তিনি বলেন, ‘মা বলতেন, সফলতার মূল হলো স্বাতন্ত্র্য। তার নিজের সেটা ছিল। আমাদেরও সেভাবে গড়ে তুলেছিলেন। তার জগতে অভিনয়ের পাশাপাশি ছিল সুফি সংগীত, উর্দু শায়েরি, বিচিত্র চিত্রকলা আর দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ।’
রেখার শাকাহারী জীবন ও ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা নিয়ে বলিউড, বলিউডের বাইরেও ছিল নানা আলোচনা। এই কিছুদিন আগেও শাহরুখ খান বলেছেন, ‘রেখার মতো সুচারু মানুষ ও অভিনেত্রী বলিউড খুব কমই পেয়েছে।’ এদিকে রেখা বলেন, ‘সব তো মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া। তার জীবন ছিল প্লাস্টিক, সিনথেটিকমুক্ত। তিনি নিজের জন্য যা পবিত্র মনে করতেন, তা নিয়েই বসবাস করতেন। খাদ্যাভ্যাস, প্রসাধন বা জীবনযাপনে তার সে প্রভাব আমাকে কখনো ছেড়ে যায়নি।’
সূত্র ও ছবি: ভোগ অ্যারাবিয়া










