মন্দার বাজারে হলিউডকে ব্লকবাস্টার দিয়েছেন টম ক্রুজ। তার টপ গান: ম্যাভেরিক আয় করেছে ১৫০ কোটি ডলার। সিনেমাটি কেবল ব্যবসাই করেনি, সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছে। এটিকে বলা হচ্ছে সর্বকালের অন্যতম সেরা সিকুয়াল। নতুন ও পুরনো অভিনেতাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে টপ গান: ম্যাভেরিক। আশির দশকে মুক্তি পাওয়া টপ গান যারা দেখেছিলেন, ম্যাভেরিক তাদের জন্য তৈরি করেছিল একটি আবেগঘন দৃশ্য। আইসম্যান ও ম্যাভেরিকের এ দৃশ্য সম্ভব হয়েছিল টম ক্রুজের দেয়া শর্তের কারণে। তিনিই বলেছিলেন, নতুন সিনেমায় ভ্যাল কিলমারকে রাখতে হবে আইসম্যান চরিত্রে। এর পরই তাকে সিনেমায় আনা হয় ও তৈরি হয় তাদের দৃশ্যটি।

টপ গান আশির দশকের অন্যতম হিট সিনেমা। এর সিকুয়াল আদৌ হবে, তা কেউ ভাবেনি। তাও হলো ৩০ বছর পর। টপ গান: ম্যাভেরিক নিয়ে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ হয় না। কিন্তু টম সেটা করেছেন। কেবল টম নন, এর পেছনে সিনেমার পরিচালক জোসেফ কোসিনস্কি ও প্রযোজক জেরি বাকহাইমার। ৩০ বছর পর নির্মিত এ সিনেমায় প্রয়োজন ছিল নতুন গল্প, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। সে বিষয়ের সঙ্গে পুরনো সিনেমার আঙ্গিক, অভিনেতাদেরও বাদ দেয়া যায় না। টপ গান: ম্যাভেরিকে নতুন পুরনো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ঠিকভাবে ব্যালান্স করা হয়েছে। এ ব্যালান্সের কারণে সিনেমাটি ভালো হয়েছে ও ব্যবসা করেছে। আর নতুনের সঙ্গে পুরনোর একটি সংযোগসূত্র ছিল আইসম্যান।

সিনেমার গল্পে ম্যাভেরিকের সঙ্গে আইসম্যানের একটি দ্বন্দ্ব থাকে। আইসম্যানকে বলা যায় প্রতিনায়ক। ১৯৮৬ সালে মুক্তি পাওয়া টপ গানের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল ম্যাভেরিকের সঙ্গে আইসম্যানের দ্বন্দ্বটি। এরপর ধীরে ধীরে তারা বন্ধুতে পরিণত হয়। এমন একটি চরিত্রকে টপ গানের সিকুয়ালে না রাখা অসংগত হতো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সিনেমায় চরিত্রটি থাকে, কিন্তু অভিনেতা বদলে যায়। টপ গান: ম্যাভেরিকের ক্ষেত্রেও সে রকম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। কেননা ভ্যাল কিলমার ২০১৪ সাল থেকে পর্দার আড়ালেই আছেন। ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন তিনি। এ অবস্থায়ও টম ক্রুজের শর্ত ছিল আইসম্যানের চরিত্রে ভ্যালকেই রাখতে হবে। সেটি নিশ্চিত করে তিনি সিনেমার চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।

টম ক্রুজের জেদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন সিনেমার নির্মাতারা। আইসম্যানের জন্য একটি গল্প তৈরি করেছেন তারা। কিলমারের মতো আইসম্যানও ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। এর মধ্যেই ম্যাভেরিকের সঙ্গে তার কথা হয়। পরস্পরকে সাহায্য করেন তারা। অসুখের কারণে ভ্যালের কথা বলতে কষ্ট হয়। সিনেমায় আইসম্যান ও ম্যাভেরিক পুরোটা সময় টেক্সট মেসেজে যোগাযোগ করে। ফলে তাদের দেখা হওয়ার দৃশ্যটি সিনেমায় আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যখন সেটা হয়, স্ক্রিনের দিকে তাকানো বহু দর্শকের চোখ ভিজে উঠেছিল।

টপ গান: ম্যাভেরিক নানা কারণেই বক্স অফিসে হিট হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করেছিল। এর মধ্যে কিলমারের উপস্থিতি ছোট একটি কারণ। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ, কেননা অভিনেতা হিসেবে টম ক্রুজ আরেকজন অভিনেতাকে তার প্রাপ্য স্থানটি দিয়েছেন।

সূত্র: স্ক্রিন র‍্যান্ট