দেবাশীষ মাখিজার ২০২৩ সালের সিনেমা ‘জোরাম’। অভিনয় করেছেন মনোজ বাজপেয়ী। সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব রটারড্যাম, সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বহু চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখানে প্রশংসিতও হয়েছে। ২০২৪ সালের ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসে সমালোচকদের বিচারে সেরা সিনেমা ও সেরা গল্পের পুরস্কার পেয়েছে জোরাম। এর আগে দেবাশীষ নির্মাণ করেছেন ‘ভোঁসলে’ ও ‘আজ্জি’র মতো সিনেমা। দুটিই সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত। সম্প্রতি এ নির্মাতা জানিয়েছেন, জোরাম নির্মাণ করতে গিয়ে তিনি দেউলিয়া হয়ে গেছেন। একটা সাইকেল কেনার মতো পয়সাও তার কাছে নেই। কিন্তু এ রকম দুরবস্থার মধ্যেও সিনেমার সঙ্গে আপস করেননি দেবাশীষ। এমনকি তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকলেও সিনেমা যেন চলতে থাকে।
সম্প্রতি প্রণব চক্রবর্তীর ইউটিউব পডকাস্টে অংশ নেন দেবাশীষ। তিনি সেখানেই তার আর্থিক অবস্থা ও অন্যান্য সংগ্রামের কথা জানান। আর্থিক সমস্যা হয়েছিল, কেননা জোরাম বক্স অফিসে ভালো করেনি। কিন্তু সিনেমাকে ভালোবাসেন দেবাশীষ। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ওই একটা জিনিস নিয়েই ভেবেছি আর তা নিয়েই কাজ করেছি।’
এত কিছুর মধ্যে কীভাবে কাজ করেন তা নিয়ে দেবাশীষ বলেন, ‘আসলে নিজেকে সঠিক প্রশ্ন করলে সঠিক উত্তরও পাওয়া যায়। আমরা সাধারণত বাইরের দুনিয়ার দিকে তাকাই। নিজের ভেতর কী চলছে তা কখনো জানার চেষ্টা করি না। যতক্ষণ শুনি, ততক্ষণে অনেক কিছু শেষ হয়ে যায় বা বদলে যায়। এমনো হয়, আপনার হয়তো শারীরিক কষ্ট হতে থাকে, কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছতে নিজের মনের কথাটাই শুনতে হয়।’
নানা সময়ে শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে গেছেন দেবাশীষ। ৩১ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তার। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল কাজ নিয়ে ভাবতাম। বাকি সব ছেড়ে দিয়েছি। ৩১ বছর বয়সে আমার একটা হার্ট অ্যাটাক হয়। কিন্তু ৭ লাখ টাকা খরচ করে পেসমেকার বসানোর সামর্থ্য আমার ছিল না। এ ঘটনার পাঁচদিন পর আমি আবার কাজে ফিরি। ১৮ ঘণ্টা কাজ করতাম।’
দেবাশীষের পরিচালনায় আজ্জি মুক্তি পায় ২০১৭ সালে। এ সিনেমা নির্মাণের সময় প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন দেবাশীষ। প্রতিদিন রক্তপাত হতো তার। কিন্তু সিনেমা বন্ধ করেননি তিনি। দেবাশীষ বলেন, ‘আমি সহকারী পরিচালককে বলেছিলাম, যদি মরেও যাই শুটিং যেন চলতে থাকে।’
দেবাশীষ ভিন্ন ধারার সিনেমা নির্মাণ করেন। তার ভোঁসলে ও আজ্জি সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। জোরাম স্বীকৃতি পেয়েছে বিদেশী চলচ্চিত্র উৎসবে। কিন্তু সে অনুসারে, আর্থিক সাফল্য আসেনি। এসব নিয়ে দেবাশীষ মাখিজা যে খুব চিন্তিত, তা মনে হয় না। তিনি নিজের মতো করে সিনেমা নির্মাণ করে যাবেন।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










