জোয়াকিন ফিনিক্স নভেম্বরে আসছেন নেপোলিয়ন হয়ে। মাসখানেক আগে মুক্তি পেয়েছে সিনেমার ট্রেলার। জোয়াকিনকে নেপোলিয়ন চরিত্রে দেখে তার ভক্তরা উচ্ছ্বসিত। কেবল জোয়াকিনের ভক্তই নয়, সিনেমার ভক্তরাও তাকে নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখছেন। এ সিনেমার মাধ্যমে রিডলি স্কটের সিনেমায় জোয়াকিন ফিরলেন বহুদিন পর। নেপোলিয়নে তাকে দেখে দর্শকরা বারবার গ্ল্যাডিয়েটরের প্রসঙ্গ সামনে আনছেন। তবে ট্রেলার দেখে সবাই বলছেন, গ্ল্যাডিয়েটরকেও ছাড়িয়ে যাবে এ সিনেমা। বিশেষত নেপোলিয়ন চরিত্রে জোয়াকিনকে পছন্দ করছেন তারা। কিন্তু মজার ব্যাপার জানালেন রিডলি স্কট নিজেই। সিনেমার শুটিংয়ের ১০ দিন আগেও জোয়াকিন জানতেন না, তাকে ঠিক কী করতে হবে। কোনো প্রস্তুতি ছিল না তার।
সিনেমা নিয়ে জোয়াকিনের এ খামখেয়ালের কথা উল্লেখ করে স্কট বলেন, ‘শুটিংয়ের সবকিছু তৈরি তখন একদিন সে এসে বলল, ‘‘আমি বুঝতে পারছি না কী করতে হবে। আমি তাকে বললাম, ‘‘এসব কী বলছ?’’ সে আবার বলল, ‘‘আমি জানি না আসলে কেমন করে কী করব।’’ আমি তাকে বসালাম। শান্ত করলাম। তারপর ১০ দিন ধরে একটা একটা সিন ধরে তাকে বুঝিয়েছি। প্রত্যেকটা দৃশ্য আলাদা করে বুঝিয়ে আমরা রিহার্স করেছিলাম।’
জোয়াকিন সাধারণত এমন করেন না। তিনি সবসময় প্রস্তুতি নিয়েই কাজে নামেন। কিন্তু নেপোলিয়নের ক্ষেত্রে কোনো কারণে ব্যতিক্রম হয়েছিল। এমনিতে রিডলি স্কটের অন্যতম প্রিয় অভিনেতা জোয়াকিন ফিনিক্স। স্কট বলেন, ‘সে যেকোনো ধরনের ট্র্যাজিক চরিত্র ভালো ফুটিয়ে তুলতে পারে। আমি শুরু থেকেই নেপোলিয়ন চরিত্রে জোয়াকিনকে ভেবে রেখেছিলাম।’ জোয়াকিন নিজেও এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রিডলি স্কটের সিনেমায় অভিনয় করা নিয়ে তাকে বেশি ভাবতে হয় না।
গ্ল্যাডিয়েটর ২৩ বছর আগের সিনেমা হলেও, দুজনের মনেই সে সিনেমার স্মৃতি তাজা। ফিনিক্স বলেন, ‘রিডলির সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার মধ্যে নস্টালজিয়া কাজ করে। গ্ল্যাডিয়েটরের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। আমি তখন তরুণ ছিলাম। ওটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় সিনেমা। আমি তার পর থেকেই স্কটের সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। সে আমাকে বেশকিছু চরিত্রের প্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু আমরা দুজনেই বুঝেছিলাম, আমরা ভিন্ন কিছু করতে চাই। নেপোলিয়ন সে রকমই একটি প্রজেক্ট।’
স্কটও সেভাবেই এগিয়েছিলেন। এম্পায়ার ম্যাগাজিনকে তিনি জানিয়েছেন যে জোয়াকিনের জন্য নেপোলিয়নের পুরো চিত্রনাট্য সাজিয়েছিলেন নতুন করে। জোয়াকিন যেন ভালো করে অভিনয় করতে পারে, সে কারণেই এ পরিবর্তন। স্কট বলেন, ‘জোয়াকিন অন্য অভিনেতাদের মতো নয়। সে মনের কথা শুনে অভিনয় করে। কোনোকিছু পছন্দ না হলে সে প্রশ্ন তোলে। নেপোলিয়ন ভালো হয়ে উঠেছে জোয়াকিনের প্রশ্ন করার কারণে।’
জোয়াকিনের প্রস্তুতি ছিল না, কারণ তিনি রিডলির সঙ্গে বসে কাজটা করতে চেয়েছিলেন। রিডলি স্কট বলেন, ‘জোয়াকিনের সঙ্গে বসে একটা চিত্রনাট্য নতুন করে লেখাই যায়। নেপোলিয়নের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। আমরা বোঝাতে চেয়েছি নেপোলিয়ন আসলে কে ছিলেন। পুরো বিষয়টিতে ছিল জোয়াকিনের নানা গঠনমূলক মত। সে সিনেমাটি ভালো করার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










