ছোট পর্দার নিয়মিত মুখ তাসনিয়া ফারিণ। নিয়মিত ওটিটির বিভিন্ন কনটেন্টে দেখা মেলে এ অভিনেত্রীর। অন্যদিকে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান। খুব কম হলেও প্রায়ই ওটিটির বিভিন্ন কাজে দেখা মেলে প্রীতমের। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’। এতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন প্রীতম হাসান ও তাসনিয়া ফারিণ। ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’-এর দ্বিতীয় ওয়েব ফিল্ম এটি। ওয়েব ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন শিহাব শাহীন।
লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ সম্পর্কের গল্প নিয়ে ওয়েব ফিল্মটি। স্ট্রিমিং শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রশংসা পাচ্ছে প্রীতম ও ফারিণ। ওয়েব ফিল্মটির গল্প নিয়ে পরিচালক শিহাব শাহীন বলেন, ‘জীবনে অসংখ্য প্রেমের গল্প বানিয়েছি। কিন্তু এবারের প্রেমের গল্প বলতে গিয়ে নতুন কিছু অনুভূতি হয়েছে। এটা একদম নতুন গল্প। যদিও প্রতিটি কাজেই নতুন কিছু অভিজ্ঞতা হয়। দূরত্ব ভালোবাসার ওপর কীভাবে স্ট্রেস দেয়, কীভাবে সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি করে, তা নিয়েই ওয়েব ফিল্মটি। যারা প্রবাসে থাকেন তারা এটা ভালো ধরতে পারবেন। এটা একটা স্পর্শের গল্প।’
কাছের মানুষ দূরে থুইয়ার কিছু শুটিং হয়েছে বাংলাদেশে আর কিছু অংশ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। দেশের বাইরে পুরো ইউনিট নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল জানিয়ে পরিচালক বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার শুটে যারা জড়িত ছিল সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। তাদের ছাড়া কাজটি করা কঠিন হতো। আমরা রাজশাহীতেও কাজ করেছি। সেখানকার সবাই ভালোবাসা ভালো লাগা থেকেই আমাদের সাহায্য করেছেন। রাজশাহী ও অস্ট্রেলিয়া দুই জায়গায়ই প্রেমের গল্প বলার মতো দারুণ জায়গা পেয়েছি। আর এখন দর্শকের কাছেও ইতিবাচকভাবে সাড়া পাচ্ছি।’
কাছের মানুষ দূরে থুইয়া ওয়েব ফিল্মটি নিয়ে তাসনিয়া ফারিণ জানান, এ ওয়েব ফিল্মের গল্পের সঙ্গে নাকি তার জীবনের অনেকখানি মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ সিনেমার গল্প আমার জীবনের সঙ্গে অনেকখানি মিলে যায়। আমার আর আমার হাজব্যান্ডের লং ডিসটেন্স রিলেশন ছিল। তাই নিজের সঙ্গে কানেক্ট করে কাজ করা সহজ হয়েছিল আমার জন্য। সিনেমায় আমার চরিত্রের নাম শারমিন। সে অতীতের সম্পর্ক নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েছিল। তবে ফারহানের সঙ্গে মিট করার পর দারুণ কিছু হয়।’
ওয়েব ফিল্মটির অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ফারিণ বলেন, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া আমার খুব ভালোবাসার একটা কাজ। শিহাব ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করাটা সবসময় ব্লেসিংয়ের। সেই সঙ্গে পুরো টিম জোস ছিল। প্রীতমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটাও খুব ভালো। দর্শক এখন সিনেমাটা দেখে পছন্দ করলে তবেই আমাদের সার্থকতা।’
এ সিনেমার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন এমন প্রশ্নে প্রীতম হাসান বলেন, ‘শিহাব ভাই একদিন হঠাৎ ফোন দিয়ে জানালেন তার কাছে একটা গল্প আছে। তারপর ভাইয়ের সঙ্গে বসে স্ক্রিপ্ট দেখার পর আমি শিওর হয়েছি যে কাজটা করতে চাই। খুব সুন্দর স্টোরি লাইনের ফিল্ম এটা।’
এ সিনেমায় নিজের চরিত্র নিয়ে প্রীতম বলেন, ‘যারা এরই মধ্যে ফিল্মটা দেখেছেন, তারা জেনে গেছেন আমি এখানে রুয়েটের একজন স্টুডেন্টের চরিত্র করেছি। একটা ট্রমাটিক ও হার্ডশিপ চাইল্ডহুড নিয়ে বড় হয় ছেলেটি। সে বেশ রুক্ষ আর অনেক কিছু সম্পর্কে তার ভালো জানা নেই। তবে প্রথমবার প্রেমের পর অনেক কিছুই বদলে যেতে থাকে তার জীবনে।’ অভিনয় নিয়ে পরিকল্পনা কী বা অভিনয়ে নিয়মিত হবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ে নিয়মিত হব কিনা এটা ভাবার চেয়ে ভালো কাজ করার ভাবনা বেশি। অভিনয় তো খুব কম করা হয়। কম কাজই বেশি সময় নিয়ে করতে চাই। কাছের মানুষ দূরে থুইয়া আমার জন্য অন্য রকম ভালোবাসার কাজ। সিনেমাটা দেখে দর্শক আমাকে পছন্দ করছে, আমাদের কাজটা দেখছে এটাই প্রাপ্তি।’
কাছের মানুষ দূরে থুইয়ার চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক শিহাব শাহীন নিজেই, ও সঙ্গে ছিলেন জাহান সুলতানা। সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন কামরুল ইসলাম শুভ। ওয়েব ফিল্মটিতে মিলেছে নতুন মুখ রূপন্তী আকিদ। এছাড়া এতে আরো অভিনয় করেছেন সমাপ্তি মাশুক, খলিলুর রহমান কাদেরী, শিরিন আলম, শুভজিৎ ভৌমিক, শাহীন শাহনেওয়াজ প্রমুখ।










