দক্ষিণ ভারতীয় কিংবদন্তি অভিনেতা মামুত্তি। সম্প্রতি তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার (৮ অক্টোবর) তামিলনাড়ু ও কেরালাজুড়ে একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এদিন অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমার ও দুলকার সালমানের বাড়িসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৭টি স্থানেও অভিযান চালায় সংস্থাটি। মূলত বিলাসবহুল গাড়ি চোরাচালান মামলায় এ অভিযান চালানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুলকার সালমানকে এরই মধ্যে তলব করেছে ইডি। এর দুই সপ্তাহ আগে কাস্টমস ও সেন্ট্রাল এক্সাইজ বিভাগ তাদের বাড়ি ও কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এবার অভিযান চালানো হয় দুলকারের চেন্নাইয়ের গ্রিমস রোডের বাড়ি ও কদাভান্থারার বাসভবনে। পাশাপাশি তার বাবা মামুত্তির পনামপিলি নগরের বিখ্যাত বাড়ি ‘মামুত্তি হাউসে’ও তল্লাশি চালায় ইডি কর্মকর্তারা।
অবশ্য এখন পর্যন্ত অভিনেতা দুলকার সালমান বা পৃথ্বীরাজ সুকুমার কেউই আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। দুজনেই বিলাসবহুল গাড়ির অনুরাগী হিসেবে পরিচিত। তাদের সংগ্রহে রয়েছে একাধিক ভিনটেজ ও আধুনিক উচ্চমানের গাড়ি। এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে পৃথ্বীরাজ জানিয়েছিলেন, দুলকারের প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে।
অভিযানের পর ইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাতুরভিত্তিক একটি চক্র বিলাসবহুল গাড়ি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তারা ভারতের সেনাবাহিনী, মার্কিন দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নামে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে এসব গাড়ি আনে। এরপর অরুণাচল ও হিমাচল প্রদেশের আরটিওতে এসব গাড়ি ভুয়া নিবন্ধনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
অবৈধভাবে আনা গাড়িগুলোর মধ্যে ছিল ল্যান্ড ক্রুজার, ডিফেন্ডার ও মাসেরাতি। বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে এসব গাড়ি ধনী ক্রেতাদের, বিশেষ করে চলচ্চিত্র তারকাদের কাছে বিক্রি করা হতো। ইডি জানিয়েছে, গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টের ৩, ৪ ও ৮ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শুনানিতে দুলকার দাবি করেন, কাস্টমস কর্মকর্তারা তার গাড়ির বৈধ কাগজপত্র পর্যালোচনা না করেই তড়িঘড়ি ও অন্যায়ভাবে গাড়ি জব্দ করেন। যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় ও গাড়িটির দীর্ঘদিনের বৈধ নিবন্ধন বিবেচনা করে আদালত তাকে সাময়িক ছাড় দেয়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










