হাটে ঘাটে বাটে বাজারে আলোচনা হচ্ছে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘‌ওপেনহাইমার’ নিয়ে। বেশি বলা মনে হতে পারে, তবে বাস্তবে নোলানের এ সিনেমা নিয়ে বাংলাদেশেও আলোচনা হচ্ছে এবং সিনেমাটি নিয়ে কথা বলছে সাধারণ দর্শক। আর পশ্চিমা গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যতম আলোচিত বিষয় নোলানের ওপেনহাইমার। পারমাণবিক বোমা ও তার অন্যতম মাস্টার ওপেনহাইমারকে নিয়ে নোলান এ সিনেমা নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সিনেমায় ব্যবহার করেননি কোনো সিজিআই (কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারি)। আজকের দিনে এমনটা ভাবা যায় না। নোলানের সিনেমা মানেই ভিন্ন কিছু। পাশাপাশি সিজিআইয়ের ব্যবহার না রেখে তিনি আরো বড় আলোচনা তুলেছেন। সম্প্রতি সিনেমার প্রিমিয়ারে তার সিনেমা, নির্মাণ পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও কথা বলেছেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ওপেনহাইমার মোমেন্টে চলে গেছে।

নিউইয়র্কে আয়োজিত হয়েছিল ওপেনহাইমারের প্রিভিউ স্ক্রিনিং। এটি ‘‌মিট দ্য প্রেস’ উপস্থাপক চাক টডের উপস্থাপনায় আয়োজিত হয়। উপস্থিত ছিলেন নোলান, লস অ্যালামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির পরিচালক ড. থম ম্যাসন, পদার্থবিজ্ঞানী কার্লো রভেলি ও ড. কিপ থর্ন। আরো ছিলেন লেখক কাই বার্ড। তার লেখা ‘‌অমেরিকান প্রমিথিউস: দ্য ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি অব রবার্ট ওপেনহাইমার’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নোলান। এদের উপস্থিতিতে আলোচনার মধ্যে নোলান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গে আসেন। তিনি বলেন, ‘‌১৫ বছর ধরে কতগুলো কোম্পানি অ্যালগরিদম নিয়ে কথা বলছে। তাদের অনেকেরই কোনো গাণিতিক জ্ঞান নেই। এমনকি আমার পেশার অনেকেই হরহামেশা কথাটি বলেন, কিন্তু জানেন না এর কাজটা কী।’

নোলান আরো বলেন, ‘‌সেখান থেকে সরে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কথা বলি তাহলে বলতে হয় অবস্থা ভয়ানক। এজন্য নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের বর্তমান ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে পারে, বরং এজন্য যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিউক্লিয়ার অস্ত্রের ক্ষেত্রেও ভয়াবহ পরিণাম আনতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সেখানে বসিয়ে দিলে নিজের মতো এমন কিছু পরিবর্তন সম্ভব যা ধ্বংসাত্মক। এজন্য আসলে এ নিয়ে যারা কাজ করে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। কেননা এ ধরনের বিষয় মানবসমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ নোলান এ কথা বলেছেন কারণ তার সিনেমাও এমন একটি ব্যাপার নিয়ে নির্মিত। ওপেনহাইমার ছিলেন একজন বিজ্ঞানী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কথামতো বোমা তৈরি করেছিলেন।

টডের এক প্রশ্নের জবাবে নোলান বলেন, ‘‌কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টি এখন ওপেনহাইমারের মতো অবস্থানে আছে। তার আবিষ্কার যেমন অভাবনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লাগামহীনভাবে চললে তেমনই একটা বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’

ক্রিস্টোফার নোলানের ওপেনহাইমার মূলত রবার্ট ওপেনহাইমারের একটি জার্নির কথা বলে। ওপেনহাইমার একজন জিনিয়াস ছিলেন, কিন্তু তার বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছিল আমেরিকার সেনাবাহিনী। সিনেমায় ওপেনহাইমারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিলিয়ান মারফি। এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা সিনেমা হতে যাচ্ছে বলেই এখন ধারণ করছেন সবাই। সিনেমাটি নোলান শুট করেছেন আইম্যাক্সে এবং এর আগে তিনি বলেছিলেন, সিনেমার সেরা ভিজুয়াল এক্সপেরিয়েন্স পেতে যত বড় পর্দায় সম্ভব সিনেমাটি দেখা উচিত। 

সূত্র: ভ্যারাইটি