গায়ের রঙ নিয়ে কথা শুনতে হয় না এমন নারী উপমহাদেশে বিরল। বাদ যান না অভিনেত্রীরাও। বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও লাস্যময়ী অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়াকেও শুনতে হয়েছিল। তাই ‘মিস ইন্ডিয়া’ খেতাব জয়ের পরও তার মনে হয়েছিল তিনি যথেষ্ট সুন্দরী নন। সম্প্রতি বলিউড হাঙ্গামার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় যুক্ত হয়েছিলেন প্রিয়াংকা চোপড়ার মা মধু চোপড়া। গায়ের শ্যামলা রঙ নিয়ে প্রিয়াংকার হীনন্মন্যতা ও মানসিক জটিলতায় ভোগা প্রসঙ্গে মধুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি এটিকে প্রিয়াংকা চোপড়ার ‘চাইল্ডহুড ট্রমা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রিয়াংকার পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) থাকতে পারে।’ এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, চোপড়া পরিবারের সবাই ছিলেন ফর্সা। কিন্তু তার বাবা ছিলেন শ্যামলা। প্রিয়াংকা বাবার মতোই হয়েছেন। মধু চোপড়ার মতে, প্রিয়াংকা দেখতে মোটেও খারাপ ছিলেন না। খুবই সুন্দর ছিলেন। গায়ের রঙ ছিল গমের মতো। কিন্তু কিছু মানুষ গায়ের রঙ নিয়ে তাকে খোঁচা দিত। সেটিই তার মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। মধু চোপড়া বলেন, ‘আসলে সে অনেক সুন্দর ছিল।’ এমনকি শৈশবেও প্রিয়াংকা চোপড়া অনেক সুন্দর ছিলেন বলে জানান তিনি। তার মতে, প্রিয়াংকা চমৎকার এক শিশু হিসেবে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। তিনি দেখতে সবসময়ই সুন্দর ছিলেন। এ প্রসঙ্গে একটি অভিজ্ঞতার কথাও বললেন মধু চোপড়া। তিনি প্রিয়াংকার সঙ্গে দেখা করতে একবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। প্রিয়াংকার বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর। মধু তাকে চিনতে পারেননি। কারণ তার সৌন্দর্য অনেক বেশি চোখ ধাঁধানো ছিল। মধু বলেন, ‘বিমান বন্দরে আমি তাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলাম। তাকে চিনতেই পারলাম না। এতটাই সুন্দর লাগছিল তাকে।’

গায়ের রঙ নিয়ে বিভিন্ন জটিলতায় ভুগলেও প্রিয়াংকা চোপড়া মানসিক শক্তি হারাননি বলে দাবি করেন মধু চোপড়া। তিনি জানান, তাদের পরিবারের অনেক সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন প্রিয়াংকাকে খোঁচা দিতেন। তিনিও তাদের সমুচিত জবাব শুনিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের জন্যই আমি আজ এতদূর আসতে পেরেছি। আপনারা আমাকে খোঁচা দিয়েছেন। তাই আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করেছি।’

অ্যামাজনের সিটাডেল ও লাভ অ্যাগেইন সিনেমায় সর্বশেষ প্রিয়াংকা চোপড়াকে পর্দায় দেখা গিয়েছিল। আসন্ন ‘‌হেডস অব স্টেট’‌ সিনেমায় জন সিনা ও ইদ্রিস এলবার সঙ্গে তাকে দেখা যাবে। মুক্তির অপেক্ষায় তার অভিনীত বলিউডের সিনেমা ‘জি লে জারা’।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস