দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সিনেমা হল চেইন যুক্তরাষ্ট্রের এএমসি থিয়েটারস। বলাবাহুল্য করোনাভাইরাসের মহামারী চলচ্চিত্র দুনিয়াকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। এএমসি থিয়েটারসের জন্যও পরিস্থিতি তার ব্যতিক্রম নয়। বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের ক্ষতির পরিমাণও অনেক বেশি। ২০২০ সালে তাদের মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৪৫৮ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে এএমসির মোট ক্ষতি ছিল প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। এ হিসাবে ২০২০ সালে তাদের শেয়ারপ্রতি ক্ষতি ছিল প্রায় ৪০ মার্কিন ডলার আর ২০১৯ সালে প্রায় দেড় ডলার।

৫ মার্চ এএমসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ৫৮৯টি সিনেমা হলের মধ্যে চালু হয়েছে ৫২৭টি। আর বিদেশে থাকা ৩৫৬টি হলের ৭৮ শতাংশ খুলে দেয়া হয়েছে।

এএমসি সভাপতি ও সিইও অ্যাডাম অ্যারন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, তারা সামনের দিনের বড় ছবিগুলোকে প্রদর্শন করবেন, যার মধ্যে আছে ব্ল্যাক উইডো, টপ গান: মাভেরিক এবং এফনাইন। অ্যাডাম অ্যারন বলেছেন, ‘দুটো বড় স্টুডিওর সিইও আমাকে বলেছেন, এএমসির অবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ রূপক হচ্ছে এমন—আমার যেন বজ পাতের কারণে বন্ধ থাকা লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর; অন্যদিকে অবতরণের জন্য অনেক বিমান মাথার ওপর চক্কর কাটছে।’ অ্যারনের মতে, ২০২০ সালে পিছিয়ে যাওয়া অন্তত ৪০টি সিনেমা মে মাস থেকে এএমসির পর্দায় মুক্তি পেতে থাকবে।

ওয়াল স্ট্রিট জোর দিচ্ছে এএমসির তারল্যের ওপর। প্রতিষ্ঠানের সিইও অ্যারনও আশ্বস্ত করেছেন যে ২০২১ ও ২০২২ সালে ঠিকঠাক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের আছে। ‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই বলতে চাই যে কভিড-১৯-এর ঝড় সামাল দিতে এএমসি সক্ষম হবে—এ বিষয়ে আমি আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী। আমরা এখন আর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়ছি না বরং আমাদের দর্শকদের হলে আসতে উৎসাহী করা ও এএমসির আর্থিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করছি।’

অ্যারন আরো জানিয়েছেন, ওয়ার্নার ব্রস স্টুডিওর সঙ্গেও তারা এক ধরনের চুক্তি করেছেন। এর আগে তাদের ছবিগুলো এএইচবিও ম্যাক্সে মুক্তি দেয়ার কারণ এএমসি ওয়ার্নার ব্রসকে সমালোচনা করেছিল। অ্যারন বলেছেন, ‘সবাই হয়তো খেয়াল করেছেন যে আমরা ওয়ার্নার ব্রসের ছবি প্রদর্শন করছি। আপনারা ঠিকই ধারণা করেছেন যে ওয়ার্নারের সঙ্গে আমরা একটা চুক্তিতে এসেছি এবং তারা এখন থেকে তাদের কোনো নীতি এমনভাবে পরিবর্তন করবেন, যার দ্বারা এএমসির শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’ অবশ্য চুক্তির কোনো শর্ত বা বিবরণী অ্যারন প্রকাশ করেননি।

গত বছর জুলাইতে এএমসি ইউনিভার্সাল স্টুডিওর সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করেছিল। এ চুক্তি অনুসারে ইউনিভার্সাল তাদের কোনো ছবি স্ট্রিমিং সাইটে দেয়ার আগে অন্তত ১৭ দিন সিনেমা হলে প্রদর্শন করতে হবে, যার মধ্যে থাকবে তিনটি সাপ্তাহিক বন্ধের দিন।

অ্যারনের আশা মহামারীজনিত লকডাউন পুরোপুরি উঠে গেলে দর্শকরা হলে ফিরবেন দ্রুত এবং পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তার মতে, মানুষ ঘরের বাইরে যেতে পারলে খুশি হবে। অ্যারন মনে করেন মহামারী কেটে গেলেই মানুষ স্ট্রিমিং সাইটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে হলে গিয়ে সিনেমা দেখা শুরু করবে।

উল্লেখ্য, এএমসি থিয়েটারসের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার এখন চীনা কংগ্লোমারেট ওয়ান্ডা গ্রুপ।

 

সূত্র: হলিউড রিপোর্টার