সিনেমাটির নাম রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে। সংক্ষেপে আরএইচটিডিএম নামেই এটি অধিক পরিচিত। ২০০১ সালে রোমান্টিক ড্রামা ঘরানার সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল। পরিচালনা করেছেন গৌতম বাসুদেব মেনন। রচয়িতাও তিনি। সম্প্রতি সিনেমাটির কিছু বিষয় নিয়ে এ প্রজন্মের দর্শকরা আপত্তি তুলেছেন। সেসব কথার জবাব দিলেন মাধবন।
রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন আর মাধবন, সাইফ আলী খান ও দিয়া মির্জা। এখানে মাধবনের চরিত্রটির নাম ম্যাডি। সে এমন এক যুবক, যে রিনা নামের এক তরুণীর প্রেমে পড়ে। রিনা চরিত্রে দিয়া মির্জা দুর্দান্ত অভিনয় করেন। সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তবে একে ঘিরে সমালোচনাও কম নেই। একজন নারীকে চুপিসারে অনুসরণ করার ব্যাপারটিকে রোমান্টিক হিসেবে দেখানোর জন্য এ সিনেমাকে বারবার কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সমালোচকরা সিনেমাটিকে ‘শোভিনিস্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
দ্য নিউ ইন্ডিয়ানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেছেন আর মাধবন। তিনি জানান, সিনেমাটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি ও পরিচালক গৌতম বাসুদেব মেনন তাদের সহজাত চিন্তাকে অনুসরণ করেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে সিনেমায় নারীদের যথাযথভাবে উপস্থাপন না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে মাধবন বলেন, ‘গৌতম ও আমি সাহস দেখিয়েছিলাম। আমরা মিন্নালের মতো সিনেমা তৈরি করেছি। তার প্রতিদানও আমরা পেয়েছিলাম। রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে তেমনই একটি সিনেমা। এটা ঠিক, আমরা অনেক বিষয়ের জন্য অভিযুক্ত হয়েছি। নারীদের সঙ্গে আচরণ কেমন হওয়া উচিত, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আমাদের সমালোচনা করা হয়েছিল। এসব বিষয়ে আমার নিজের বক্তব্য আছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সিনেমাটি জনপ্রিয় হয়। মানুষ এটি পছন্দ করেছিল। এখনো সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা হয়।’
সাক্ষাৎকারে মাধবনকে তার অন্যান্য সিনেমা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। তানু ওয়েডস মানু ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তিনি স্ত্রীর বশে থাকা এক স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেখানে শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি ঠাট্টার শিকার হন। দর্শক তানু ওয়েডস মানুতে একজন পুরুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে করা কৌতুক শুনে মজা পাচ্ছে। কিন্তু আরএইচটিডিএম সিনেমায় জেন্ডার পলিটিকসের কারণে আহত হচ্ছে। এ বৈপরীত্য তাকে বিস্মিত করে বলে জানান মাধবন। তিনি বলেন, ‘অনেক বেশি স্বাধীনতা নেয়া হয়েছে। যারা রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে সিনেমায় শোভিনিস্টিক হওয়ার জন্য আমাদের অভিযুক্ত করে। আমিও তাদের দিকে একই প্রশ্ন ছুড়ে দিতে পারি। তানু ওয়েডস মানুতে একজন পুরুষকে নিয়ে ঠাট্টা করলে তোমরা মজা পাও। তোমরা ভাবো, এটি স্রেফ একটি কৌতুক। যেন এগুলো একজন পুরুষকে আহত করে না। আমি নিশ্চিত, পুরুষরাও এসব বিষয়ে স্পর্শকাতর।’
এসব বিষয়ে এত বেশি সংবেদনশীল হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন মাধবন। তিনি বলেন, ‘আমি এসব নিয়ে কিছুই মনে করি না। আমার মনে হয় না, আমাদের এতটা সংবেদনশীল হওয়া উচিত। অনেক বেশি নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করে পশ্চিমা সংস্কৃতি। কিন্তু বাস্তবে আমরা কেউই ত্রুটিহীন নই। নারী-পুরুষ উভয়েরই নিজেদের অনেক দোষ-ত্রুটি আছে।’
সূত্র ও ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










