আশফাক নিপুণের নির্মাণে উঠে আসে বাস্তবতা। সমাজে চলমান অসংগতি নিয়ে প্রায় সময় কথা বলেন এবং প্রতিবাদ করেন তিনি। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে এক দফা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সমর্থন দিয়ে মাঠে ছিলেন এ নির্মাতা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ, সরকার পতন ও বর্তমানে তার কাজের খবর নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শুরু থেকেই আপনি সক্রিয় ছিলেন। তাদের এক দফা দাবিতে আওয়ামী সরকারের পতন হয়েছে, কেমন বোধ করছেন?
এ মুহূর্তে আমি অনেক স্বস্তিতে আছি। কারণ ১৫ বছরের স্বৈরশাসকের চাপিয়ে দেয়া ভয় থেকে ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্টের পর আমরা মন খুলে কথা বলতে পারছি, লিখতে পারছি, এটা একটা বিশাল স্বস্তির জায়গা। আমার কাছে এ মুহূর্তে অনুভূতি হচ্ছে বিজয়ের। দীর্ঘ বছর ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে একটা ফল এল সেটার কারণে আমি এখন স্বস্তি ও বিজয়ী অনুভব করছি।
আন্দোলনে আপনার সরাসরি সমর্থন ছিল। এ কারণে আপনার কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল?
এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা তো ছিলই। ছাত্রদের সঙ্গে যুক্ত হতেই হতো কারণ আমি অনেক বছর ধরে আমার কনটেন্ট, লেখালেখি, বিভিন্ন অ্যাক্টিভিজমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই আমি ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতাম। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হঠাৎ যুক্ত হইনি। আমি এ প্রশাসনযন্ত্রের অন্যায়ের বেশ আগে থেকেই বিরোধী। তারপর আবার এ ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হই, যার কারণে প্রশাসন কর্তৃক আমার ওপর অনেক চাপ ও ঝুঁকি ছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
এ সরকারের কাছে আমার দাবিগুলো হচ্ছে—
১) গণতান্ত্রিক, মানবিক সাম্যবাদী রাষ্ট্র বা সমাজ গঠন এবং সংস্কার করা যেসব জায়গায় বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সেসব জায়গা একেবারে তুলে দেয়া। সরকার নিজেদের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য যত পরিবর্তন এনেছে এটা যেন পরিপূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়।
২) বিচার বিভাগ যেন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও আলাদা থাকে। নির্বাহী বিভাগ যেন কোনোভাবেই বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করতে না পারে।
৩) সরকারের মন্ত্রী, সচিব এমনকি পিয়নসহ সবাইকে বিচারের সম্মুখীন করানো। আমাদের সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ার একটা বড় কারণ আমরা ক্ষমতাবানদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারি না। এখানে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা জড়িত, এমনকি কিছু সংবাদমাধ্যমের মালিকরাও জড়িত। তাদের সবাইকেই বিচারের আওতায় আনা।
৪) প্রশাসনে মেধার ভিত্তিতে ছাড়া যত রকমের দলীয় নিয়োগ পেয়েছে সব বাতিল করা। যেমন পুলিশের মধ্যেও ব্যাপক দলীয়করণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ বাহিনীর একটা অংশ সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। ফলে সাধারণ জনগণ একটা ক্ষোভের কারণে থানাগুলোয় হামলা চালায়। প্রশাসন, সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, পুলিশ বাহিনী যেখানেই দলীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছে সবাইকে বাতিল করা।
৫) আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কিছু গণমাধ্যম সরকারের লেজুড়বৃত্তির নিউজ প্রচার করেছে। টেলিভিশনে আসল সত্য খবর আমরা পাচ্ছিলাম না। ইন্টারনেটে যা পাচ্ছিলাম তাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমকে একেবারে নিজের করে নিয়েছে। এ সরকারের কাছে আমার চাওয়া অবাধ সংবাদপ্রবাহ যেন নিশ্চিত করা হয়।
নাটক-সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কাছে আপনার কী চাওয়া?
প্রথমেই চাইব আমাদের সেন্সর বোর্ড যেন বাতিল করা হয়। সেন্সর বোর্ড একটি পুরনো প্রথা, এটিকে বাতিল করার জন্য আমরা অনেক আগে থেকেই আন্দোলন করে আসছি। পৃথিবীর কোথাও এ সিস্টেম নেই। এছাড়া ওটিটি নীতিমালা যেন নির্মাতাবান্ধব হয়। সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট জনবান্ধব হয়। ক্ষমতাশীলদের অত্যাচার করার হাতিয়ার যেন না নয়।
ছাত্র আন্দোলন ও শিক্ষার্থী হত্যা নিয়ে আপনি কোনো সিনেমা তৈরি করবেন কিনা?
এ মুহূর্তে ইচ্ছে নেই। এখন যদি এটাকে নিয়ে সিনেমা বানাতে চাই তাহলে এটা আবেগকে পুঁজি করে বানানো হবে। আমি অবশ্যই সিনেমা বানাতে চাইব। তবে আরো পরে বিষয়টাকে নিয়ে গবেষণা ও পড়াশোনা করে তার পরে চিন্তা করব।
কবে আবার নির্মাণকাজ শুরু করবেন?
আমার লেখা ও পরিচালনায় জয়া আহসানের প্রথম ওয়েব সিরিজ জিম্মি। যেটা বানানো হচ্ছে হইচই প্লাটফর্মের জন্য। সেটার শুটিং শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। ছাত্র-জনতার বিশাল আন্দোলনে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। দেশে কারভিউ জারি করা হলো। সে কারণে শুটিং পিছিয়ে পড়েছে। এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। স্বাভাবিক হলে শুটিং শুরু করব।










