চলচ্চিত্র নিয়ে এশিয়ার বৃহত্তম আয়োজন বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতি বছরই আয়োজন হয় এটি। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি সেখানে অভিনেতা, নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার প্রমুখকে সম্মাননা দেয়া হয়। এ বছর বুসানে সম্মাননা দেয়া হবে কোরিয়ান অভিনেতা লি সুন-কিওনকে। আয়োজকরা গতকাল জানান অভিনেতাকে মরণোত্তর কোরিয়া সিনেমা অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে।

লি বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তবে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন বং জুন-হো পরিচালিত ‘প্যারাসাইট’ থেকে। ২০১৯ সালে সিনেমাটি অস্কার পেয়েছিল। আর লির মরদেহ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পাওয়া যায় তার নিজের বাড়িতে। ধারণা করা হয়েছিল তিনি মাদকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মারা যান। আত্মহত্যাই করেছিলেন এ অভিনেতা। চলচ্চিত্রে তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার মরণোত্তর পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি।

কোরিয়া সিনেমা অ্যাওয়ার্ড মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্রকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেয়ার অবদান রাখার জন্য দেয়া হয়। উৎসব কর্তৃপক্ষের দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর প্রয়াত অভিনেতা লি সুন-কিওনকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে, কেননা তিনি সিনেমার মাধ্যমে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও কোরিয়ান সিনেমাকে পৌঁছে দিয়েছেন। পাশাপাশি এও জানানো হয় বুসান উৎসবের উদ্বোধনী দিন আগামী ২ অক্টোবর এ সম্মাননা দেয়া হবে।

কেবল সম্মাননাই না, আছে আরো আয়োজন। উৎসবে লি অভিনীত ছয়টি সিনেমা ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখানো হবে। এর মধ্যে আছে প্যারাসাইট, আওয়ার সুহি ও টেলিভিশন সিরিজ মাই মিস্টার। এছাড়া লি অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘ল্যান্ড অব হ্যাপিনেস’ প্রদর্শন করা হবে। এতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার একজন মিলিটারি পার্সনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিনেমাটি ১৯৭০ সালের পটভূমিতে নির্মিত।

লির ক্যারিয়ার ও জীবন বর্ণাঢ্য। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত কোরিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব আর্টস থেকে স্নাতক হন। এরপর ২০০০ সালে শুরু হয় তার অভিনয় জীবন। ২৩ বছরে নানা চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এ অভিনেতা। এর মধ্যে প্যারাসাইট তো আছেই। তবে ২০১৮ সালের টিভি সিরিজ ‘মাই মিস্টার’-এর মধ্য তিনি কোরিয়ার বাইরে থেকেও প্রশংসা পান। 

সূত্র: ইয়ন