সময়টা ব্যস্ত পার করছেন বলিউড তারকা জাহ্নবি কাপুর। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ধড়কের সফলতার সূত্র ধরে একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সানি সংস্কারি কি তুলসী কুমারি, মিস্টার অ্যান্ড মিসেস মাহি ও দেভারা। সম্প্রতি দ্য উইকের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অভিনেত্রী দাবি করেছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে পড়াশোনায় তিনি কিছুই শেখেননি। সেখানকার লি স্ট্রাসবার্গ ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেছেন অভিনয় নিয়ে। তার অভিজ্ঞতায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা করানো হয় কেবল হলিউডকে কেন্দ্রে রেখে। জাহ্নবি বলেন, ‘সেখানে আমি কিছুই শিখিনি। যদিও ক্যালিফোর্নিয়া চমৎকার জায়গা আর স্কুলটাও দারুণ। কিন্তু সার্বিকভাবে আমার জন্য জুতসই ছিল না।’ 

তবে লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি পেয়েছেন অচেনাদের মাঝে বসবাসের অভিজ্ঞতা। বলিউডের কিংবদন্তি তারকা শ্রীদেবী ও প্রযোজক বনি কাপুরের সন্তান হওয়ায় প্রায়ই তাকে ভারতে গণমাধ্যমে সেদিক থেকেই পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিচিত মুখ। লস অ্যাঞ্জেলেসে এমনটা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল প্রথমবারের মতো এমন এক পরিবেশে থাকা, যেখানে আমাকে কারো কন্যা হিসেবে দেখা হয় না। সে অজ্ঞাত পরিচয় অবস্থাটি ছিল উপভোগ করার মতো। সত্যি বলতে সেটাই আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি।’

জাহ্নবি কাপুর মনে করেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের শিক্ষা তাকে ফেরার পর উপকারে আসেনি। তিনি জানান, স্কুলের ফরম্যাট ব্যাপকভাবে হলিউডকেন্দ্রিক। কীভাবে হলিউড কাজ করে, কীভাবে অডিশন প্রক্রিয়া হয়—এসব নিয়েই সেখানকার ব্যস্ততা। প্রিন্সিপল অব মেথড অ্যাক্টিং পড়ার সময়ই দ্রুত বুঝতে পারেন আসলে তিনি মেথড অ্যাক্টর নন। বুঝতে পারেন লস অ্যাঞ্জেলেসের চেয়ে ভারতে থাকলে তার সময়টুকুকে বেশি ভালো ব্যবহার করতে পারতেন। ভারতীয় জনগণ ও এখানকার ভাষা নিয়ে শিখতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে ভালো হতো আমার জনগণ, দেশ ও ভাষা সম্পর্কে শিখলে। কারণ আমি সিনেমায় আমার দেশের মানুষকে নিয়েই গল্প বলব। যখন ধড়কের শুটিং শুরু করেছি, তখনই বুঝতে পেরেছি—আমি আমার দেশের গল্প বলতে চাই। নিজের দেশটাকে জানতে চাই। এখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে, তাদের মতো করে ভাবতে ও অনুভব করতে চাই।’

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস