পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায় দেশ। দিন যত গড়াচ্ছিল হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলছিল। শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের রায় তাদের অনুকূলে হলেও শিক্ষার্থী হত্যার দায়ে সরকারকে পদত্যাগ করার একদফা দাবি জানায় তারা। সোমবার ঢাকাকেন্দ্রিক ‘মার্চ ফর ঢাকা’ কর্মসূচি থেকে গণভবন অভিমুখে যাত্রা করে শিক্ষার্থী-জনতা। এর আগেই দেশ ছেড়ে পালান শেখ হাসিনা। শুরুতেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পাশে ছিলেন শোবিজ তারকারা। শিক্ষার্থীদের এ বিজয়ে উচ্ছ্বসিত গোটা বাংলাদেশের মানুষ। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তারকারাও এবং তাদের নিজের ফেসবুকে লিখেছেন উচ্ছ্বাসের বার্তা।
পরিচালক শিহাব শাহীন তার ফেসবুকে লেখেন, ‘গেম ওভার। প্রমাণিত হলো অহংকার পতনের মূল! এবং নিশ্চয়ই সবাইকে একদিন না একদিন তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হয়। এরপর আরেক স্ট্যাটাসে তিনি আবার লেখেন, ‘শান্তি চাই! লুটপাট, থানা আক্রমণ, প্রতিহিংসা চাই না! আমরা সংযত হই, দায়িত্ববান হই। প্রিয় বাংলাদেশে আর রক্তপাত চাই না।’
এ বিষয়ে ফেসবুক লাইভে এসে রীতিমতো কাঁদতে শুরু করেন নাট্যনির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমার শহীদ ভাই-বোনদের রক্ত বৃথা যায়নি। আলহামদুলিল্লাহ আমরা পেরেছি। ছাত্র-জনতা জিতেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা ’৭১ দেখিনি, কিন্তু ২০২৪ দেখেছি। আমার ভাইদের রক্ত, বোনদের রক্ত বৃথা যায়নি। এ জনগণ, এ শক্তি, এ মজলুমের দোয়া আল্লাহ শুনেছেন।’
এ নিয়ে নির্মাতা মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী লেখেন, ‘বিজয়ের আনন্দ অবশ্যই করব, কিন্তু এখন সময় সংযমের। স্বাধীন দেশে স্বাগত! কী করে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্থপতির কন্যা থেকে পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম ও নিষ্ঠুরতম স্বৈরশাসকে পরিণত হলেন শেখ হাসিনা। এটা ভবিষ্যতে ইতিহাসের ছাত্ররা মনোযোগ দিয়ে পাঠ করবেন এবং রাজনীতিকরা শিক্ষা নেবেন আশা করি। বিজয়ের আনন্দ অবশ্যই করব! কিন্তু এখন সময় সংযমের, চোখ-কান খোলা রাখার। আমরা ২০ বছর প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখেছি। প্রতিহিংসার উত্তর দেব আমরা কাইন্ডনেস ও এমপ্যাথি দিয়ে। পাশাপাশি চোখ খোলা রাখব আগামী দু-তিনদিন। নিশ্চয়ই আমরা একটা মানবিক গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাব। লাস্টলি, স্যালুট টু বাংলাদেশী ইয়ুথ অ্যান্ড পিপল ফ্রম অল ওয়ার্কস। টুগেদার উই স্ট্যান্ড টল।’
সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর লেখেন, ‘একটা স্বৈরাচারের পতন হলো। যেভাবে দেশ চলছিল সেভাবে আসলে দেশ চলে না। শেষ পর্যন্ত আমাদের ছাত্রসমাজ বিজয়ী হয়েছে। প্রমাণ হয়ে গেল, বাংলাদেশে ১৯৫২, ’৬৯, ’৯০ ও ২০২৪-এ ছাত্ররা কখনো ব্যর্থ হয়নি। এখন নতুন বাংলাদেশ হবে। আগের মতো লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি হবে না, এটাই প্রত্যাশা। প্রতিটি দল থেকে গণতন্ত্রচর্চা শুরু করতে হবে। তাহলে দেশের গণতন্ত্র দৃঢ় থাকবে। এ আন্দোলন রাজনীতিবিদদের জন্য অ্যালার্ট। ভবিষ্যতে ভুল করলে এমন পরিণতি ভোগ করতে হবে। স্বজনপ্রীতি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি আর চলবে না। নতুন প্রজন্ম জেগে উঠেছে। তারা আর সহিংসতাভিত্তিক দলের সঙ্গে থাকবে না। প্রতিহিংসা ভুলে সবাই আমরা নতুন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী লেখেন, ‘এটা নতুন প্রজন্মের জয়। ফার্মগেটে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের সংহতি জানিয়ে বলেছিলাম, ওরাই রাষ্ট্র ঠিক করবে। ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ চাই, এটা ছাত্ররাই ঠিক করবে। সুতরাং নতুন সরকারে তাদের অংশগ্রহণ যেন থাকে। সংবিধানে যেখানে পরিবর্তন প্রয়োজন, সেখানেও যেন তারা অংশগ্রহণ করে। গণতন্ত্র রিস্টার্টের এটা মাত্র শুরু। আমাদের টিচার্স নেটওয়ার্ক থেকে যে রূপরেখা দেয়া হয়েছে, সেটা যেন পালন করা হয়।’
শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান তার ফেসবুকে লেখেন, ‘ম্যাডাম আপনি গেছেন ভালো কথা, কিন্তু যারা জাতীয় পুরস্কারের আশায় ছিল তাদের পুরস্কারটা দিয়ে যাইতেন!’
এছাড়া শোবিজের সঙ্গে জড়িত আরো অনেকে হাসিনা পদত্যাগে যার যার জায়গা থেকে উচ্ছ্বাস করছেন।










