নতুন এক জরিপে প্রকাশিত হয়েছে ২০২০ সালে হলিউডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ও স্টাফদের প্রায় ৮০ শতাংশ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের কম আয় করেছেন। আর এক-তৃতীয়াংশ আয় করেছেন ৩০ হাজার ডলারের নিচে। আয় হারিয়ে হলিউডের অন্তত ২০ শতাংশ কর্মী লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে নিজের বাড়ি বা বন্ধুবান্ধবের আশ্রয়ে চলে গেছেন।

সোমবার সেকেন্ড পেআপ হলিউড জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মূলত হলিউডে সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে কাজ করা কর্মীদের নিয়ে হয়েছে এ জরিপ। ২০১৯ ও ২০২০ সালে সক্রিয় ছিলেন এমন এক হাজার কর্মী জরিপে অংশ নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও উন্নয়ন বিভাগের সংজ্ঞামতে, যাদের বাসা ভাড়া বাবদ মোট আয়ের ৩০ শতংশের বেশি ব্যয় করতে হয় তাদের ‘কস্ট বার্ডেনড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং এরা তাদের খাদ্য, পোশাক, যাতায়াত ও চিকিৎসা খাতে দরকারি অর্থ ব্যয় করতে পারেন না। আর ফ্রেডি ম্যাক স্টাডির মতে, লস অ্যাঞ্জেলেসে যার বার্ষিক আয় ৫৩ হাজার মার্কিন ডলারের কম তারা ‘কস্ট বার্ডেনড’ বিভাগে পড়েন। অর্থাৎ হলিউডের কর্মীদের বড় একটি অংশই তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কভিড-১৯ মহামারীর কারণে হলিউডের কাজকর্ম গত বছর প্রায় বন্ধ ছিল। তাই অনেক কর্মীই আর নিয়মিত কাজের সুযোগ পাননি। জরিপে অংশ নেয়া কর্মীদের অর্ধেক জানিয়েছেন, ২০২০ সালে সংসারের খরচ চালাতে তাদের হলিউডের কাজের বাইরেও খুচরা কাজ করতে হয়েছে। ১৯ শতাংশ জানিয়েছেন, মহামারীর কারণে উপার্জন হারানোয় তারা লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে পরিবার কিংবা বন্ধুদের কাছে ফিরে গেছেন।

যারা কাজ টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন তাদের ক্ষেত্রে বেড়েছে চাপ। জরিপে অংশ নেয়াদের এক-তৃতীয়াংশই জানিয়েছেন এ রকম অভিজ্ঞতার কথা। মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে এ অবস্থা। অনেক ক্ষেত্রে অফিস দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করত। কিন্তু হোম অফিসে তারা সে রকম সুযোগ পাননি।

প্রায় ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা এনেছেন।

মহামারী হলিউডের কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মহামারীকালে কাজে পরিবেশ বাড়িয়েছে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা। অনেকের দেখা দিয়েছে ইনসমনিয়া।

 

সূত্র: হলিউড রিপোর্টার