সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুক্তি পেল ‘লাল সালাম’। দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত অভিনীত সিনেমাটির পরিচালনায় ছিলেন তারই কন্যা ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত। এরই মধ্যে বিপুল কৌতূহল তৈরি করেছে ভক্তদের মধ্যে। সম্প্রতি নেয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া তার পিতার সঙ্গে প্রথমবারের মতো কাজ করার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ঐশ্বরিয়া বলেছেন, ‘বাবার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হবে, এমন কথা আমি কখনই ভাবিনি। বিষয়টি আশীর্বাদের মতো। তার সঙ্গে কাজের মধ্যে থাকা প্রতিটি দিনই ছিল দুর্দান্ত। সেটে তিনি ইন্ডাস্ট্রির একজন পেশাদার শিল্পীর মতো কাজ করেছেন। এ সময়ে এসেও তার একাগ্রতা, ঐকান্তিকতা ও কাজের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়াটা থেকে ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেকেই শিখতে পারে।’

রজনীকান্ত নিজেই একটি ইন্ডাস্ট্রি। এ নিয়ে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, তার চারপাশে থাকা মানুষ অবিরত তার কাছ থেকে শিখতে পারে। আর তিনি এখনো মনে করেন, তার শেখার অনেক কিছু আছে। তার সঙ্গে কাজ করে অন্য পরিচালকরা যেমন অভিজ্ঞতা লাভ করেন, আমিও সেভাবে প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি। লাল সালাম নির্মাণের ক্ষেত্রে বাবা আমাদের মনে একজন শিল্পী ও অভিনেতা হিসেবে দাগ কেটে গেছেন।’

এআর রহমানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন ঐশ্বরিয়া। রহমানকে তিনি একজন ‘ফকির’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যিনি সত্য ও প্রশান্তিকে একত্র করেন। ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘তার সঙ্গে কাজ করাটা অবিশ্বাস্য ও পরাবাস্তব অভিজ্ঞতার মতো। তিনি একদিকে ফকির ও অন্যদিকে চমৎকার একজন মানুষ। নিজে সত্যকে ধারণ করেন ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেন। আর সবসময় বর্তমানের সঙ্গে বসবাস করার ক্ষমতা কতটা অভূতপূর্ব হতে পারে, তিনি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

রহমানের প্রশংসা করে ঐশ্বরিয়া আরো বলেন, ‘সিনেমাটি নির্মাণের সূত্র ধরে তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। চলচ্চিত্রের বিষয়েই বলি বা ব্যক্তিগত বিষয়ে, তার সহযোগিতা ছিল দুর্দান্ত। আমি মনে করি, আমাদের এ সম্পর্ক জীবনের বাকি দিনগুলোতেও থাকবে।’

লাল সালাম একই সঙ্গে ক্রিকেট ও সম্প্রীতির গল্প বলে। লাইকা প্রডাকশন প্রযোজিত লাল সালামের সিনেমাটোগ্রাফার বিষ্ণু রাঙ্গাসামি এবং সম্পাদক প্রবীণ ভাস্কর। গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও হিসেবে থাকবেন ভারতের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার কপিল দেব। সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন সেনথিল, জীবিথা, বিষ্ণু বিশাল, বিক্রান্ত ও বিবেক প্রসন্ন। 

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস