বলা হয়ে থাকে উত্তম কুমারের পর টালিগঞ্জের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। সম্প্রতি স্ট্রিম শুরু হয়েছে প্রসেনজিৎ অভিনীত ওয়েব সিরিজ স্কুপ। পরিচালনা করেছেন হানসল মেহতা। এর আগে তাকে দেখা গেছে জুবিলিতে। সেখানেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক কথোপকথনে তিনি জানালেন, একসময় প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। কাজ করতেন টানা তিন শিফটে। ঘুমাতে হয়েছে গাড়িতে।
ক্যারিয়ারের একটা সময় এক বছরে মুক্তি পেয়েছিল প্রসেনজিৎ অভিনীত ২০টি সিনেমা। ম্যাশেবল ফিল্মসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালে আমার ২২টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এমনিতেও বছরে তখন ১০-১২টি সিনেমা মুক্তি পেত। আমি তখন দিনে তিন শিফটে কাজ করতাম। শেষ শিফটের জন্য সেটে যেতাম রাত ২টায়।’
একসঙ্গে অনেক সিনেমায় অভিনয় করলে চরিত্রগুলো একটার সঙ্গে একটা মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিশ্বাস করতে পারেন, এমনটা হয় না। পুরো ব্যাপারটা নির্ভর করে অনুশীলনের ওপর। আমি একটা সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম, নাম বাবা কেন চাকর। সিনেমাটি হিট করেছিল। কিন্তু হয়তো নামের জন্যই সিনেমাটি বিদ্রুপের শিকার হয়।’ বলে রাখা ভালো নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘বাবা কেন চাকর?’ মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। ২০০৪ সালে এর রিমেক মুক্তি পায় কলকাতায়। সে সময় ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমায়ও কাজ করছিলেন প্রসেনজিৎ।
এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তখন ঋতুপর্ণ ঘোষের উৎসবেও অভিনয় করেছি। এটা কাল্ট ঘরানার সিনেমা। দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। সকালে আমি একটা কমার্শিয়াল সিনেমার শুটিং করেছি, রাতে করেছি বিপরীত ঘরানার আরেকটি সিনেমার কাজ। আমি বিশ্বাস করতাম পেশাদারত্বে। আমি আমার প্রতিটা চরিত্র পেশাদারি মনোভাব নিয়ে করেছি।’
প্রসেনজিতের ঝুলিতে আছে অনেক রেকর্ড। এর মধ্যে একটি হলো একই সময়ে তার নয়টি সিনেমা চলছিল। খবরটি তখন খবরের কাগজে শিরোনাম হয়। প্রসেনজিৎ বলেন, ‘আমি তখন কলকাতায়ই ছিলাম, কিন্তু বাড়ি ফিরতে পারিনি। আমার একটা শিফট ভোর ৫টায় শেষ হতো তো আরেকটা শুরু হতো সকাল ৭টায়। আমি সব কাজই করতাম স্টুডিওতে।’
আউটডোর শুটে বলিউডের অনেক তারকা তাদের ভ্যানিটি ভ্যানে রাত যাপন করেন। কিন্তু প্রসেনজিৎ যে সময়ের কথা বলছেন, তখন টালিগঞ্জের অভিনেতাদের সে সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় কোনো ভ্যানিটি ভ্যান ছিল না। আমি আমার গাড়ির ওপর একটা চাদর বিছিয়ে কোনো একটা গাছের নিচে ঘুমিয়ে পড়তাম।’
সূত্র ও ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










