হলিউডে চিত্রনাট্যকার ও ক্রু-মেম্বারদের ধর্মঘট ১০৮ দিন পেরিয়ে গেছে। গত সপ্তাহে রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা জানিয়েছিল, স্টুডিওগুলোর দেয়া প্রস্তাবের বিপরীতে তারা নিজেদের কথা জানাবে। আরো একটি বৈঠক হয়েছে, কিন্তু সমাধানের পথ দেখছে না কেউ। যদিও কোনো কোনো প্রতিবেদন বলছে, সমাধানের দিকে এগোচ্ছে বৈঠকগুলো, কিন্তু বাস্তবে সমাধান বা ধর্মঘট দ্রুতই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ আসলে নেই।
প্রথমত, রাইটার্স গিল্ড, স্টুডিওর পক্ষ থেকে আসা কিছু প্রস্তাবের প্রতি নমনীয় হয়েছিল, কিন্তু সব ক্ষেত্রে তারা রাজি হয়নি। মূলত চিত্রনাট্যকারদের নিয়ে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট আটকে গেছে লেখকদের বিষয়ে সিদ্ধান্তে। কেননা গিল্ডের প্রস্তাব ছিল কোনো কনটেন্টের ক্ষেত্রে লেখক সংখ্যা সর্বনিম্ন রাখা। কিন্তু স্টুডিও-জোট (এএমপিটিপি) বলছে, শো যারা চালায় (স্টুডিও বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান) লেখকসংখ্যা নির্ধারণের স্বাধীনতা তাদের হাতেই থাকা উচিত। এখানে রাজি হতে চাইছে না গিল্ড।
কেবল এখানেই নয়। সমস্যা আছে আরো কয়েকটি জায়গায়। যেমন স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ ভাগাভাগি নিয়েও সমঝোতা হয়নি। গিল্ডের দাবি ছিল লভ্যাংশের একটি অংশ, কিন্তু সেখানে আলোচনা এগোয়নি। এগোনোর কথাও নয়। এদিকে সাম্প্রতিক আলোচনার পর ধর্মঘটের বিষয়টি সমাধানের দিকে যাবে বলেই মনে করেছিল স্টুডিওগুলো।
রয়টার্স তাদের একটি প্রতিবেদনে জানায় যে দ্য অ্যালায়েন্স অব মোশন পিকচার অ্যান্ড টেলিভিশন প্রডিউসারের সঙ্গে (এএমপিটিপি) রাইটার্স গিল্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল। সিরিজ ও সিনেমায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার কমিয়ে আনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এএমপিটিপি। চিত্রনাট্যকাররা ধর্মঘট শুরুর পর এআইয়ের ব্যবহারও একটি ইস্যু হয়ে উঠেছিল। সুতরাং সেটিকেও আমলে নিয়েছে এএমপিটিপি। এছাড়া লেখক ও চিত্রনাট্যকারদের বকেয়াসহ সব ধরনের সম্মানী বা পারিশ্রমিক ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। কিন্তু অন্য বিষয়গুলোয় সমঝোতা না হওয়ায় ধর্মঘট দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: ভ্যারাইটি










