‘হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ, পাখিটি ছাড়িল কে?’ গানটি বাংলা লোকসংগীতের যে কিংবদন্তি নামকে স্মরণ করিয়ে দেয় তিনি আবদুল আলীম। মারফতি ও মুর্শিদি গানের জন্য যিনি অমর হয়ে আছেন। পাঁচ শতাধিক গান গেয়েছেন তিনি, যেগুলো পেয়েছে শ্রোতাদের ভালোবাসা।
আবদুল আলীমের গাওয়া দেড় শতাধিক গান রয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের করাচিতে। গানগুলো দেশে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে গায়কের পরিবার। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের করাচি রেডিওতে থাকা আবদুল আলীমের প্রায় দুই শত গান অফিশিয়ালি বাংলাদেশে আনার জন্য চেষ্টা করছেন তার পরিবার। এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে আবদুল আলীমের স্মৃতি ধরে রাখতে তার নামে একটি উড়ালসড়ক নামকরণের আবেদন জানানো হয়েছে। দুই বছর আগে ‘আবদুল আলীম খিলগাঁও ফ্লাইওভার’ নামকরণের জন্য আবেদন করেছেন তারা। উল্লেখ্য, আবদুল আলীম খিলগাঁওয়ে বসবাস করতেন।
আবদুল আলীমের মেয়ে সংগীতশিল্পী নূরজাহান আলীম বাবার স্মৃতি রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন কয়েক বছর ধরেই। আগামী বইমেলায় বাবাকে নিয়ে একটি বই প্রকাশ করতে কাজ করছেন তিনি। নূরজাহান আলীম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে নিজের কোনো কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারছি না। কারণ বাবার গানগুলো পাকিস্তান থেকে আনার জন্য সচিবালয়ে যেতে হচ্ছে। আবার ফ্লাইওভারের নামকরণের জন্যও আবেদন করে রেখেছি। বাবাকে নিয়ে একুশে বইমেলায় বই প্রকাশ করব। এজন্য এখন খুব বেশি সময় নেই। সেই সঙ্গে বাবাকে নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাই। সরকারের কাছে অনুদানের জন্য আবেদনও করে রেখেছি। বাবাকে ঘিরে কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলেই আমার শান্তি।’
নূরজাহান আশা করেন বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তার বাবার অবদান বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনুদান দেবে। চলতি বছরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোক সংগীতশিল্পী আবদুল আলীমের ৯১তম জন্মবার্ষিকীতে স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। বাংলা গানের এ কিংবদন্তি শিল্পী ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই পশ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তার সংগীতগুরু ছিলেন সৈয়দ গোলাম আলী। অল্প বয়স থেকেই বিভিন্ন পালা-পার্বণে লোকসংগীত গেয়ে জনপ্রিয় হন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বের হয় তার প্রথম রেকর্ড। গান দুটি হলো, ‘তোর মোস্তফাকে দে না মাগো’ ও ‘আফতাব আলী বসল পথে’। এত অল্প বয়সে গান রেকর্ড ছিল সত্যিই বিস্ময়কর ঘটনা। ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভক্তকুলকে কাঁদিয়ে ৪৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আবদুল আলীম।










