১৯৮৩ সালের ভ্যালি গার্লের মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় যাত্রা নিকোলাস কেজের। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত সিনেমার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০টিতে। শিগগিরই হরর সিনেমা ‘লংলেগস’-এ দেখা যাবে তাকে। দীর্ঘ এ পথ চলায় দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি পেয়েছেন নানা সম্ভাবনা। ‘লিভিং লাস ভেগাস’-এর জন্য ঝুলিতে তুলেছেন অস্কার। ১৯৮৭ সালের ‘মুনস্ট্রাক’, ১৯৮৮ সালের ‘ভ্যাম্পায়ার্স কিস’ ও ২০০২ সালের ‘অ্যাডাপটেশন’ এখনো ফিরে ফিরে আসে ভক্তদের আলোচনায়। তার পরও নিকোলাস কেজ নিজে এদের কোনোটি নিয়েই সন্তুষ্ট নয়। তিনি বরং ২০২১ সালের ড্রামা পিগ তুলে নিয়েছেন নিজের প্রিয় হিসেবে। সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্কারের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিকোলাস তুলে ধরেন চমৎকার এক দাবি। দর্শককে যদি তিনি তার অভিনীত একটা সিনেমাও দেখতে বলেন, সেটা হবে ‘পিগ’।
পিগ সিনেমাটিতে তিনি এক সাবেক শেফের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এর গল্প নির্মিত হয়েছে এ শেফকে ঘিরেই। তার প্রিয় শূকর চুরি হয়ে গেলে শেফ চোরদের ধরার জন্য বের হন। এটি কেজের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে প্রশংসিত সিনেমাগুলোর একটি। রটেন টমেটোতে ৯৭ শতাংশ ইতিবাচক মতামত নিয়ে এগিয়ে আছে এ সিনেমা। কেজ বলেন, ‘পিগ এমন একটা সিনেমা, যেখান থেকে মানুষ অনেক কিছু নিতে পারবে বলে আমি মনে করি। কারণ বিশাল এ ট্র্যাজেডির কোনো না কোনো অংশে গিয়ে মানুষকে ঠিক স্পর্শ করবে। হতে পারে একেক জনের জন্য একেক বিষয় হবে স্পর্শের কারণ। এটা আমার কাছে কোনো এক লোকজ সংগীতের মতো। খুব প্রশান্ত ও নীরব। এখানে আমি অন্য সব সিনেমা থেকে আলাদা। মানুষ সাধারণত আমাকে অ্যাকশনধর্মী ও চটপটে সিনেমায় দেখেই অভ্যস্ত। এটা সে রকম নয়।’
তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, সিনেমাটি তার নিজেকে কতটা ধারণ করতে পেরেছে। কেজ জবাবে জানান, এটা তার জন্য অনেকটাই ব্যক্তিগত। এটা তার জন্য অনেক বেশি ভারসম্যপূর্ণ ছিল। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে গিয়ে কেজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে তার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে একটা কম্পিউটারের মধ্যে রেখে আমার চোখের রঙ বদলে দিচ্ছে। অথচ আমি জানতেও পারছি না। তারা আমার শরীরকে চুরি করে নিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে যা খুশি করছে। আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সে অর্থে সন্তুষ্ট নই, বরং আমি ভীত। এজন্যই এর বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার ছিলাম।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উল্লম্ফন নিয়ে কেজ তার ভীতি প্রকাশ করেন। তার মতে, এটা অবিশ্বাস্য এক ট্র্যাজেডি। তিনি বলেন, ‘শিল্পীদের শিল্পসত্তা কোথায় গিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠেকবে? এটাকে কি প্রতিস্থাপন করা হবে? নাকি বিবর্তিত হবে? আমি মারা গেলে আমার শরীর আর চেহরা নিয়েইবা কী হবে? আমি চাই না এমনটা হোক।’
পিগ সিনেমাটি বর্তমানে হুলুতে দেখা যায়। অন্যদিকে লংলেগস চলতি সপ্তাহেই আসবে প্রেক্ষাগৃহে।
সূত্র: হলিউড রিপোর্টার










