শীতের রাতে শহর যখন ঘুমে মাতাল, তখন রাজধানীর বুকে চলছে সুর আর স্বরের খেলা। কণ্ঠ, যন্ত্র আর বাঁশিতে ভাঙছে রাত্রির নীরবতা। তবলার তাল, বাঁশি আর শুদ্ধসংগীতের স্বর যেন গগন বিঁধিছে। সংগীতগুরু মিথুন দে’কে উৎসর্গ করে অনুষ্ঠিত হয় ছায়ানটে শুদ্ধসংগীত উৎসবের এবারের আসর। ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী চলে সুরের এ খেলা। ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া এ পর্ব শেষ হয় পরদিন সকাল ৭টায়। খায়রুল আনাম শাকিল তার কণ্ঠের সুরে মাতোয়ারা করে রাখেন উপস্থিত শ্রোতাদের। সুর-তাল আর লয়ের সম্মিলনে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত আর রাত পেরিয়ে কখন সকাল হয়ে গিয়েছে, তা টের পাননি শ্রোতারা। নবীন-প্রবীণদের পরিবেশনায় বিচিত্র রাগ-রাগিনীর সুরে মুগ্ধ হয়েছেন তারা। রাত্রিকালীন ভোজের পর কণ্ঠ সংগীত নিয়ে আসেন প্রিয়ন্ত দেব। তিনি শোনান রাগ রাগেশ্রী। তারপর মাঝ রাতে ঘুম ঘুম চোখে সবাই যখন ঢুলু ঢুলু, তখন মঞ্চে আসেন এক নবীন কিশোর! একের পর এক গুণীজন যখন সংগীত পরিবেশন করে মাতোয়ারা করে চলেছেন, তখন মঞ্চে উঠে এলেন শৌণক দেবনাথ ঋক নামের ১৬ বছরের এ কিশোর। ওস্তাদদের মাঝে যন্ত্র হাতে মূল ভূমিকায় তাকে দেখে প্রথমে অনেকেই হয়তো অবাকই হয়েছেন। কিন্তু তার হাতের সারেঙ্গিতে রাগ পটদীপ শুনে মুহুর্মুহু করতালিতে অনন্য মাত্রা পায় উৎসব।

এছাড়া তৃতীয় অধিবেশনে কণ্ঠ সংগীত এবং সেতার ও তবলায় সাজানো শুদ্ধসংগীত পরিবেশন করেন রেজোয়ান আলী, অসিত দে, লতিফুন জুলিও, বিপুল কুমার, সুপ্রিয়া দাস, কানিজ হুসনা আহম্মাদী সিম্পী, মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, মৌমিতা হক সেঁজুতি, আফরোজা রুম্পা, প্রিয়ন্ত দেব, সিতাব তাহমিদ।

সারা রাত কণ্ঠ আর যন্ত্রের জাদুতে মুগ্ধ দর্শকরা যখন সকালের আগে একটু ক্লান্ত, তখন অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মো. মনিরুজ্জামানের বাঁশিতে নতুন করে উন্মাদনা ছড়ায় দর্শকের মাঝে। তার বাঁশির সুরের বাঁকে বাঁকে করতালিতে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে থাকে শ্রোতারা।