ফের শিরোনামে গ্রেটা গারউইগ। ২০২৩ সালে ‘বার্বি’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। বক্স অফিসে রেকর্ড তৈরির পাশাপাশি সাড়া ফেলেছে সমালোচক মহলেও। ঝুলিতে তুলেছেন অস্কার। কান চলচ্চিত্র উৎসবের আসরে জুরিপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে সে তালিকায় এবার তার নামের পাশে যুক্ত হলো নতুন বিশেষণ। সম্প্রতি চলচ্চিত্র জগতের সম্মানজনক পুরস্কার ‘উইল রজার্স পাইওনিয়ার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেতে যাচ্ছেন তিনি। এলিজাবেথ বাঙ্কসের পর এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো নারী জিতলেন এ পুরস্কার। লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিল্টনে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর উইল রজার্স মোশন পিকচার্স পাইওনিয়ার্স ফাউন্ডেশনের বার্ষিক ডিনারে হাজির হয়ে তিনি সম্মাননা তুলে নেবেন।
এককভাবে গারউইগের লেখা ও পরিচালনায় নির্মিত সিনেমা ‘বার্বি’, ‘লেডি বার্ড’ ও ‘লিটল উইমেন’। তিনটি সিনেমাই অস্কারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন পায়। লেডি বার্ডের জন্য গারউইগ নমিনেশন পান সেরা পরিচালক বিভাগে। বেস্ট অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিনপ্লে বিভাগে মনোনয়ন পান লিটল উইমেন ও বার্বি সিনেমার জন্য। এদিকে বার্বির সফলতাও ছিল আকাশচুম্বী। কোনো একক নারীর প্রথম সিনেমা হিসেবে বৈশ্বিক বক্স অফিস থেকে সিনেমাটি শতকোটি ডলার আয়ের নজির তৈরি করেছে।
৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে দেয়া হয় পাইওনিয়ার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড। পুরস্কারটির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত সেসব ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়, যাদের নেতৃত্বদানের গুণাবলি ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। বিজয়ীকে উইল রজার্স পাইওনিয়ার্স অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়, যদি তাদের প্রয়োজন হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রোসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেফ গোল্ডস্টেইন বলেন, ‘গ্রেটা গারউইগ একজন বহুমাত্রিক নির্মাতা। তিনি কেবল দর্শককে আনন্দ দিয়েই ক্ষান্ত হন না, তাদের সবদিক দিয়ে অনুপ্রাণিতও করেন।’
গারউইগ এর আগে নির্মাণ করেছেন ‘হানাহ টেকস দ্য স্টেয়ার্স’ ও ‘নাইটস অ্যান্ড উইকেন্ডস’-এর মতো সিনেমা। ‘গ্রিনবার্গ’ মুক্তির পর তার অভিনয়ের মুনশিয়ানাও স্পষ্ট হয়। তবে তার মনোযোগ পরিচালনার দিকে। বর্তমানে সিএস লুইসের লেখা ‘দ্য ক্রনিকল অব নারনিয়া’ অবলম্বনে চিত্রনাট্য তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রেটা। এমন সময় এ পুরস্কার তাকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছে পুরস্কারদাতা কর্তৃপক্ষ। বার্বি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেফ গোল্ডস্টেইন বলেন, ‘গ্রেটা ছাড়া আর কারো পক্ষে এ প্রজন্মের আইকনকে এমন আবেগপূর্ণ ও বিনোদনমূলক গল্পের মাধ্যমে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে পারা সম্ভব নয়।’
এর আগে পাইওনিয়ার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের মধ্যে ছিলেন টম ক্রুজ, এরিক লোমিজ, বারবারা ব্রোকোলি, মাইকেল জি উইলসন, ডোনা ল্যাংলি, শেরিল বোন, জ্যাক ওয়ার্নারের মতো নাম।
সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার










