বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। সম্প্রতি তার ব্রেইন টিউমারের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে, চলছে টার্গেট থেরাপি ও ওরাল কেমো। এ অবস্থায় দেশের অনেক তারকা সামাজিক মাধ্যমে কাঞ্চনের জন্য দোয়া চেয়েছেন। সুদূর কানাডা থেকেও তার প্রথম সিনেমার নায়িকা ববিতা দোয়া চেয়েছেন। ববিতা বলেন, ‘খবরটি শোনার পরই ভীষণ খারাপ লাগছে। তবে অপারেশন এরই মধ্যে হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনবেন। সবার কাছে আমি দোয়া চাই যেন আল্লাহ তাকে দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ করে দেন। চলচ্চিত্রে তার অবদান যেমন বিশাল, অনুরূপভাবে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তার ভূমিকাও প্রশংসনীয়।’
চলচ্চিত্রজীবনে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় তার। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর এবং প্রথম সিনেমা দিয়েই আলোচনায় চলে আসেন কাঞ্চন। পরবর্তী সময়ে একই পরিচালকের ‘ডুমুরের ফুল’ ও ববিতার সঙ্গে ‘সুন্দরী’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’, ‘শেষ উপহার’, ‘সাক্ষী’, ‘একজন বিদ্রোহী’সহ আরো বহু সিনেমায় অভিনয় করেন। শাবানার বিপরীতে ‘শেষ উত্তর’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন তিনি।
তবে কাঞ্চন সবচেয়ে বেশি জুটি বেঁধেছেন চম্পা, দিতি ও অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে। বিশেষত অঞ্জুর সঙ্গে তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ চলচ্চিত্রটি দেশীয় সিনেমার ইতিহাসে যুগান্তকারী হিসেবে পরিচিত।
ইলিয়াস কাঞ্চনের চলচ্চিত্রজীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ৩৩০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৮৬ সালে আলমগীর কবির পরিচালিত ‘পরিণীতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়া চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শাস্তি’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রের জন্যও পুরস্কার পেয়েছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
চলচ্চিত্র ছাড়াও ইলিয়াস প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবেও পরিচিত। যৌথভাবে প্রথম সিনেমা প্রযোজনা করেছেন ‘সর্পরানী’ ও একক প্রযোজিত সিনেমা ‘বাদশা ভাই’। পরিচালক হিসেবে তিনি দুটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন—‘বাবা আমার বাবা’ (২০০৮) ও ‘মায়ের স্বপ্ন’ (২০১০)।
ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে সাধারণ মানুষের নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন এবং বর্তমানে নিসচার (নিরাপদ সড়ক চাই) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।










