ইদানীং বলিউড থেকে একটু দূরেই আছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। সিনেমা করছেন কিন্তু তাকে নিয়ে আগের মতো আলোচনা আর নেই। এদিকে নওয়াজ নিজেও বলিউডের অবস্থা নিয়ে শঙ্কিত। কেননা সেখানে কেবল বাণিজ্যিক সিনেমারই জয়জয়কার। সম্প্রতি নওয়াজ জানালেন, তিনি বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করতে পছন্দ করেন কিন্তু এখন আর কোনো সিনেমা ব্যবসা করা তো দূর, আলোচনায়ও থাকে না। ভিন্ন ধারার সিনেমা করতে তিনি পছন্দ করেন আর ইন্ডি সিনেমায় তিনি গত দশকে নিজের অবস্থান শক্ত করেছিলেন।

হিউম্যানস অব বোম্বের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন নওয়াজ। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এখনকার সিনেমার সঙ্গে আশি বা নব্বইয়ের দশকের সিনেমার কতটা পার্থক্য আছে। নওয়াজ বলেন, ‘এখন একই সিনেমা নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। কেবল অভিনেতা ভিন্ন। মেকআপ আর কস্টিউম ভিন্ন। বলিউড সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শঙ্কিত। অনেকে হয়তো আশাবাদী কিন্তু আমি দেখছি কোন ধরনের সিনেমা চলে। ভালো সিনেমা হচ্ছে কিন্তু তা খুব একটা আলোচিত হচ্ছে না। কিন্তু আমি মনে করি সব ধরনের সিনেমারই বেঁচে থাকা, টিকে থাকা দরকার।’

নওয়াজ স্পষ্ট করেই বললেন যে ভারতে সব ধরনের সিনেমা বাজার পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমি বাণিজ্যিক সিনেমার কথা বলছি না। একটা বড় অংশের দর্শক তা পছন্দ করে। কিন্তু অন্য ধরনের সিনেমা আজ আর নিজের জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। সেগুলো মানুষের কাছেও পৌঁছে অনেক দেরিতে। কিন্তু আগে দুই ধরনের সিনেমাই মনোযোগ পেত।’

কিন্তু এসব কারণে কি সিনেমা নিয়ে নওয়াজের আবেগ কমে যাচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি নেতিবাচক উত্তর দেন। সিনেমা নিয়ে তার আবেগ বা ভালোবাসা কমে যায়নি। তিনি মনে করেন সিনেমাকে তার কাছ থেকে কেউ সরাতে পারবে না।

সিনেমার প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি যাদের সঙ্গে কাজ করি তারা এখনো আমার সঙ্গে কাজ করতে চায়। আমি একজন অনুগত অভিনেতা। আমার নির্দেশক যেভাবে বলবেন সেভাবেই কাজ করব। অভিনয়ই আমার জীবনের সব। আমার কাজকে আমি ভালোবাসি।’

অভিনয়কে নিজের পেশা হিসেবে নিয়ে দারুণ খুশি নওয়াজ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ক্যামেরার বাইরের জীবনে সন্তুষ্ট থাকতে পারব না। যদি অভিনয় করতে না পারি কখনো, আমি সেদিন মারা যাব।’

তবে সে অভিনয় জগতে কিছুদিন হয় একটু পিছিয়ে আছেন নওয়াজ। নতুন ধারার সিনেমা তিনি খুব একটা করেননি। গত বছর তার অভিনীত সিনেমা আলোচনায় ছিল কম। তিনি অভিনয় করেছেন ‘আফওয়া’, ‘টিকু ওয়েডস শেরু’, ‘যোগী রা সারা রা রা’ ও ‘হাড্ডি’তে।

সূত্র: হিউম্যানস অব বোম্বে