এ বছর বলিউডে তর্কে-বিতর্কে যিনি সবসময় মধ্যমণি ছিলেন তিনি অবশ্যই কঙ্গনা রানাওয়াত। বলিউডে স্বজনতোষণ থেকে ভারতে চলমান কৃষক আন্দোলন—সবসময়ই বিভিন্ন বিষয়ে নিজের বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলেছেন কঙ্গনা। কঙ্গনা বলেছেন, বলিউডে স্বজনতোষণ নিয়ে কথা বলায় তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। আবার কোটা ও করণি সেনার বিরুদ্ধে কথা বলায় অনেক হিন্দু ও রাজপুত তাকে ঘৃণা করে।
নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে কঙ্গনা একটি লেখা পিনড করে রেখেছেন—‘ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিষয়ে অকপটে কথা বলেছি, তাই তাদের বেশির ভাগ আমার বিরুদ্ধে। আমি রিজার্ভেশনের বিরুদ্ধে, তাই অনেক হিন্দু আমাকে ঘৃণা করেন। মণিকর্নিকার মুক্তির সময় আমি করণি সেনার সঙ্গে বিরোধ করেছি, তাই রাজপুতরা আমাকে হুমকি দিয়েছে। ইসলামিস্টদের বিরোধিতা করায় অনেক মুসলিম আমাকে ঘৃণা করেন। খলিস্তানিদের বিপক্ষে দাঁড়ানোয় বেশির ভাগ শিখ এখন আমার বিরুদ্ধে। আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলই আমার মতো ভোট নষ্ট করা মানুষকে পছন্দ করে না। তাই কোনো রাজনৈতিক দল আমাকে বাহবা দেয় না। প্রায় সবাই অবাক হন কেন আমি এমন করি। এ দুনিয়ার বাইরে আমার চেতনার জগতে আমি প্রশংসিত।’
ভারতের চলমান কৃষক আন্দোলন নিয়ে অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা টুইটারে তর্ক হয়েছে কঙ্গনার। সেখানে এক পর্যায়ে কঙ্গনা দিলজিৎ দোসাঞ্জের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন তিনি নতুন কৃষি বিলের বিরোধিতা করছেন। তার জবাব দিতে গিয়ে দিলজিৎ বলে ওঠেন, সব বিষয়ে নিজেকে কর্তৃপক্ষ ভাবার অভ্যাস বাদ দাও। সম্ভবত তার এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই কঙ্গনা সব বিষয়ে কথা বলার পেছনে তার নিজস্ব দর্শনকে ব্যাখ্যা করেছেন।
কঙ্গনা টুইটারে লিখেছিলেন, ‘দিলজিৎ দোসাঞ্জজি কৃষি বিল ২০২০-এর ঠিক কোন দিকগুলো আপনার পছন্দ নয়? যেমন নির্দিষ্ট করে বললে বিলের একটা বিষয় আমার খুব পছন্দ যে কৃষকরা এখন দেশের যেকোনো প্রান্তে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারবেন, যেভাবে আপনি চাইলে দেশের যেকোনো জায়গায় অর্থ উপার্জন করতে পারেন। কৃষকরা চাইলে এখন মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি ভোক্তা বা গ্রাহকদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। সবাই বুঝছেন যে ভারতের কৃষকদের দুর্দশা দূর করার জন্য সরকার এসব বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাহলে আপনি কেন বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছেন? আপনার যুক্তিগুলো আমি জানতে চাই।’
সূত্র: ডিএনএ










