বছরজুড়েই সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন ঢাকাই সিনেমার নায়ক ফেরদৌস আহমেদ। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার একাধিক সিনেমা। এরই মধ্যে নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন এ অভিনেতা। সিনেমার নাম ‘যুদ্ধ জীবন’। গত সোমবার চট্টগ্রামে ফেরদৌস সিনেমাটির শুটিং শুরু করেছেন। শুটিং সেটে নতুন লুকে দেখা গেছে ফেরদৌস আহমেদকে। সিনেমাটি বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মাণ হচ্ছে।
রিফাত মোস্তফা টিনার পরিচালনায় সিনেমায় অভিনয় করছেন ফেরদৌস আহমেদ। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী নাবিলা বিনতে ইসলাম। রিফাত মোস্তফা টিনা বলেন, ‘যুদ্ধ জীবন মূলত আমার মা অধ্যাপক ড. শিরীন আক্তার রচিত সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মাণ হচ্ছে। প্রথম লটে আমরা টানা সাত-আটদিন শুটিং করব। আগামী নভেম্বরে দ্বিতীয় লটে আমরা ১০ দিন শুটিং করার আশা রাখছি।’
সিনেমাটি প্রসঙ্গে ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন গল্প নিয়ে নির্মিত “দামপাড়া’’ সিনেমার জন্য কাজ করেছিলাম চট্টগ্রামে। টিনার নির্দেশনায় দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রামেই যুদ্ধ জীবন সিনেমার কাজ করছি। গল্পটা আশির দশকের পরবর্তী সত্য একটি ঘটনা অবলম্বনে। আপাতত গল্পটা শেয়ার করতে পারছি না। কিন্তু এটুকু বলতে পারি, গল্প যে বিষয় বা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এবং তাকে ঘিরে যেসব স্থান, সেসব স্থানেই শুটিং হচ্ছে। যে কারণে কাজটি করতে আমার ভালো লাগছে। সে সময়টা আসলে আমি অনুভব করার চেষ্টা করছি। অভিনয়ে তা প্রভাব ফেলছে। পরিচালকসহ পুরো ইউনিটই খুব সহযোগিতা করছে। তাছাড়া চট্টগ্রামবাসীর আন্তরিকতা মুগ্ধ করে আমাকে। সব মিলিয়ে সিনেমাটি বেশ ভালো হচ্ছে।’
চলচ্চিত্র নির্মাতা শুদ্ধমান চৈতনের প্রথম সিনেমা দামপাড়া। মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে এ সিনেমা। এতে ফেরদৌস আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা। পর্দায় এসপি শামসুল ইসলামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ এবং তার স্ত্রী মাহমুদা হক চৌধুরীর ভূমিকায় আছেন ভাবনা। দামপাড়ার গল্প, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন আনন জামান। চট্টগ্রামে একটি গানের দৃশ্যায়নের মধ্য দিয়ে এর শুটিং শেষ হয়েছে। চলতি বছরেই মুক্তি পেতে চলেছে দামপাড়া।
সিনেমাটি প্রসঙ্গে ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনসে অস্ত্রের গুদামের দায়িত্ব ছিল এসপি শামসুল ইসলামের কাছে। পাকিস্তানি আর্মিরা তার কাছে গুদামের চাবি চেয়েছিল। কিন্তু তিনি পাকিস্তানি আর্মিদের নজর এড়িয়ে সব অস্ত্র চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ছড়িয়ে দেন। যে কারণে পরবর্তী সময়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আর্মিরা তাকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে খুন করে। এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করে আমি গর্বিত।’
সম্প্রতি ফেরদৌস অভিনীত দুটি সিনেমা মুক্তি পায়। একটি শাহীন-জাফরুল পরিচালিত ‘মাইক’ ও অন্যটি হৃদি হক পরিচালিত ‘১৯৭১ সেইসব দিন’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে উপজীব্য করে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র মাইক নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তি পায় গত ১১ আগস্ট। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখা মেলে ফেরদৌস আহমেদ ও তানভীন সুইটির। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হৃদি হক নির্মাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ১৯৭১ সেইসব দিন। এ সিনেমায় হৃদি হকের বিপরীতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ। অভিনেতা জানান, নতুন সিনেমার শুটিংয়ের পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে আসার প্রহর গুনছেন তিনি।










