কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে উত্তাল পুরো দেশ। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সারা দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের সব কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে। শিক্ষার্থীদের এ ক্রান্তিলগ্নে তাদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষ। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তারকারাও। চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন তারা।
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলা ও হতাহতের ঘটনায় মুখ খুলেছেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। ১৭ জুলাই দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রাণের বাংলাদেশ এভাবে রক্তাক্ত হতে পারে না। কারো মা-বাবার বুক এভাবে খালি হতে পারে না। আপনারা যারা অভিভাবক পর্যায়ে আছেন, তাদের কাছে অনুরোধ রইল, এখনই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ সংকটের যৌক্তিক সমাধান বের করুন।’
কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে বুধবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, ‘সমাধানের অন্য কোনো পথ কি খোলা ছিল না? গুলি কেন করতে হলো? বুকের রক্ত না ঝরিয়ে সুষ্ঠু সমাধান করা যেত না?’ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘যা ঘটে গেল, এটা যেমন মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়, বিষয়টা তেমনই হৃদয়বিদারক, মর্মান্তিক ও সভ্যতাবহির্ভূত।’
রাজনীতির নামে রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে চঞ্চল চৌধুরী শেষে আরো লেখেন, ‘তরুণ তাজা যে প্রাণগুলো অকালে ঝরে গেল, তার দায় কে নেবে? যে মায়ের বুক খালি হলো, তার আর্তনাদ কি কোনো জনমে শেষ হবে? হায়রে দুর্ভাগা দেশ! নোংরা রাজনীতির নামে এ রক্তপাত বন্ধ হোক!’
এছাড়া বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘আপনারা যারা ভাবছেন আন্দোলনটা স্রেফ একটা চাকরির জন্য, তারা বোকার স্বর্গে আছেন। আপনারা এর সব স্লোগান খেয়াল করেন। দেখবেন, এ আন্দোলন নাগরিকের সমমর্যাদার জন্য। এ আন্দোলন নিজের দেশে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে না বাঁচার জন্য।’
অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব তার ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘সংঘাত রক্তপাতে কোনো সমাধান আসে না। শিক্ষার্থীদের কথাগুলো শুনে তাদের সঙ্গে কথা বলে যুক্তিতর্ক দিয়ে কি সমাধান হয় না? আমাদের কি কথা বলার মতো কারো মুখ নেই? কথা শোনার মতো কান নেই?’ তিনি আরো যুক্ত করেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আঘাত করা হচ্ছে তারা আমাদেরই কারো না কারো সন্তান, ভাই, বোন, বন্ধু, সহপাঠী। আমার করজোড়ে অনুরোধ, দয়া করে সব প্রতিনিধি আলোচনায় বসুন, সব ভুল- বোঝাবুঝির অবসান ঘটুক অতি দ্রুতই।’
এ তালিকায় ছিলেন অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো। নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করলেন একটি কবিতা। কবিতায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন লাল-সবুজের পতাকায় আজ কেন এত লাল?
এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দেলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন শোবিজের সঙ্গে জড়িত আরো অনেকে।










