চলচ্চিত্র শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার কারণে নাইটহুড পাচ্ছেন ক্রিস্টোফার নোলান। পাশাপাশি তার স্ত্রী ও প্রযোজক এমা থমাস পাচ্ছেন ডেমহুড। অস্কারের ৯৬তম আসরের শিরোনাম পুরনো না হতেই এল এমন ঘোষণা। এবারের আসরে সাতটি বিভাগে অস্কার জিতেছে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’। সেখানে সেরা অভিনেতা হিসেবে কিলিয়ান মারফি ও সেরা সহ-অভিনেতা হিসেবে রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের নামও রয়েছে। 

৫৩ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার নোলান। তাকে ও তার স্ত্রী এমা থমাসকে দেয়া ব্রিটিশ সম্মাননার ঘোষণাটি কিছুটা ব্যতিক্রম। এ সম্মাননাগুলো সাধারণত বছরে দুবার দেয়া হয়। নববর্ষের আগের দিন ও রাজা তৃতীয় চার্লসের জন্মদিনে। তবে এবারের ঘোষণা মূলত দেয়া হয়েছে বিশেষ অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে। নোলানের দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সম্প্রতি অস্কার প্রাপ্তিকেও নেয়া হয়েছে বিবেচনায়। নোলান জন্মগ্রহণ করেছেন লন্ডনে। তার বাবা-মা ছিলেন ব্রিটিশ ও মা মার্কিন। স্ত্রী এমা থমাসের সঙ্গে তার কলেজের দিনগুলো থেকেই প্রেম। তখন তারা দুজনই লন্ডনে পড়াশোনা করতেন। তখন থেকেই চলচ্চিত্র নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি। বর্তমানে তাদের চারটি সন্তান। পরিচালনা করেন সিনকপি নামে একটি প্রযোজনা সংস্থাও। 

যুক্তরাজ্য সরকার নাইটহুড ও ডেমহুড প্রদান করে সাধারণত শিল্প ও খেলাধুলার ব্যক্তিত্বদের জন্য। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বাকিংহাম প্যালেসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। প্রায়ই ব্রিটেনের সম্রাট নিজেই এ সম্মাননা দেন। তবে ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন থাকায় রাজা তৃতীয় চার্লস এ মুহূর্তে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না। এ কারণে নোলান ও থমাস দম্পতি কবে নাগাদ সম্মাননাটি গ্রহণ করবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

চলতি বছরে ক্রিস্টোফার নোলান ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট ফেলোশিপও পেয়েছেন। এ সময় তাকে ‘বিশ্বের অন্যতম উদ্ভাবনী ও প্রভাবশালী চলচ্চিত্র পরিচালক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। নোলান তার স্ত্রী এমা থমাসকে তার বক্তৃতায় এর কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেছিলেন যে চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় তিনি কখনো একাকিত্ব অনুভব করেননি, কারণ এমা থমাস সবসময় তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি সবসময় বিষয়গুলো দেখেছেন যেভাবে নোলান নিজে অনুভব করেছেন। নোলান ও এমার যৌথ প্রচেষ্টা ও প্রযোজনা সংস্থা ‘সিনকপি’। এ প্রযোজনা সংস্থা থেকে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ব্যাটম্যান’ ট্রিলজি, ‘দ্য প্রেস্টিজ’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘টেনেট’ ও সর্বশেষ ‘ওপেনহেইমার’।

মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে উপন্যাস লিখেছিলেন ‘‌কাই বার্ড’ ও ‘‌মার্টিন জে শেরউইন’। উপন্যাসটি ২০০৬ সালে পুলিৎজার পুরস্কার পায়। সে উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করেই এ সিনেমা নির্মাণ করেছেন ক্রিস্টোফার নোলান।

সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার