হ্যারি পটারের স্পিন-অফ ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস শুরুতে দর্শকের ভালো সাড়া পেয়েছিল। কিন্তু এরপর নানা কারণে পিছিয়ে পড়া। ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘দ্য সিক্রেটস অব ডাম্বলডোর’ নির্মিত হয়েছিল ২০ কোটি ডলার বাজেটে। বক্স অফিসে বৈশ্বিকভাবে সিনেমাটি ৪০ কোটি ডলার তুলেছিল। কিন্তু থিয়েটারের ব্যবসার ক্ষেত্রে একে কোনোমতে ব্রেক ইভেন পার করা বলা যায়। একটি সিনেমায় শেষ হলে এটা কোনো সমস্যা তৈরি করত না। কিন্তু ওয়ার্নার ব্রোস ও রাওলিংয়ের পরিকল্পনা বেশকিছু সিনেমার। তাদের বিশ্বাস ছিল হগওয়ার্টসের এ নতুন কাহিনীও হ্যারি পটারের দর্শকরা লুফে নেবে। বাস্তবে তেমনটা হয়নি।
আশা ধরে রেখেছিল ‘দ্য ক্রাইমস অব গ্রিন্ডেলওয়াল্ড’। ২০১৮ সালের সিনেমাটি ৬৫ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছিল। কিন্তু সেখানেও ছিল ব্যর্থতা। টিকিট বিক্রি থেকে ২০১৬ সালের ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস অ্যান্ড হোয়্যার টু ফাইন্ড দেম’ যা আয় করেছিল, ২০১৮ সালের সিনেমা আয় করে তার চেয়ে ২০ শতাংশ কম। এ সিনেমা আয় করেছিল ৮০ কোটি ডলার।
সিনেমার এমন ব্যর্থতার পেছনে এর গল্প ও নির্মাণের দুর্বলতা রয়েছে। হ্যারি পটারের সিনেমাগুলো নির্মিত হয়েছিল রাওলিংয়ের উপন্যাস থেকে। প্রস্তুতি ছিল বেশ অনেকদিনের। কিন্তু ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘সিনেমা বানাতে হবে’ মানসিকতা কাজ করেছে রাওলিং এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রোসের। ফ্যান্টাস্টিক বিস্টসের তৃতীয় সিনেমা যখন থিয়েটারে মুক্তি পাচ্ছে, চতুর্থ সিনেমা নিয়ে তখনো কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। সিনেমার ক্ষেত্রে ‘হ্যারি পটার’ নামটিই বড় হয়ে উঠেছিল।
ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস পিছিয়ে পড়ার পেছনে রয়েছে আরো কিছু কারণ। সিনেমাটির অভিনেতা ছিলেন জনি ডেপ। তার বিরুদ্ধে করা অ্যাম্বার হার্ডের মামলা এ সিনেমাকে প্রভাবিত করেছিল। হলিউডের দর্শকরা কোনো না কোনোভাবে এ নিয়ে প্রভাবিত হয়ে সিনেমা বা ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। অথচ এডি রেডমেইন থেকে শুরু করে অন্যরাও দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন এ সিনেমা-সিরিজে। এর মধ্যে আবার এসে যুক্ত হয় কভিড-১৯ মহামারী। এ কারণে থিয়েটারে সিনেমার ব্যবসা না হওয়া ওয়ার্নার ব্রোসকে কয়েকটি প্রজেক্ট বাদ দিতে বাধ্য করে। ডিসির বেশকিছু সিনেমার কাজ করেও সেসব মুক্তি দেয়নি ওয়ার্নার ব্রোস। অনেকে আবার মনে করেন ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে জেকে রাওলিংয়ের মন্তব্য বা অবস্থানের কারণেও সিনেমা প্রভাবিত হয়েছে। তাহলে ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস ফ্র্যাঞ্চাইজির আর কোনো সিনেমা কি আসছে? এ প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা দ্বিধা হয়। কেননা প্রথমত, এ সিরিজ নিয়ে প্রায় নিশ্চুপ ওয়ার্নার ব্রোস। কোনো কথা না হওয়ার কারণ মূলত ব্যবসায়িক। ডুন ও ওয়ান্ডার ওম্যান ১৯৮৪ মুক্তির পর পরই তারা সিনেমা দুটির সিকুয়েলের কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস নিয়ে জানানো হয়নি কিছু। সম্প্রতি ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারির প্রধান ডেভিড জাসলাভ অবশ্য মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, এ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে ‘কিছু একটা’ ভাবা হচ্ছে। জাদুর দুনিয়ার এ সিনেমা নিয়ে ‘এগোনো হবে’। তার এ দায়সারা গোছের জবাব শুনে খুব একটা সম্ভাবনা তৈরি হয় না। সিনেমা যতটা বড় পরিসরে শুরু হয়েছিল বা ভাবা হয়েছিল তেমন আর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সূত্র: ভ্যারাইটি










