কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে উত্তাল পুরো দেশ। কয়েক দিনে হতাহত হয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। পুরো দেশ থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এ ক্রান্তিলগ্নে তাদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন তারকারাও।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানাই। কিন্তু ভয়াবহ যে ছাত্র হত্যা এটা আমাদের কাছে কোনোভাবে কাম্য না। আসলে ছাত্র আন্দোলনটা কোনদিকে যাচ্ছে এটা বুঝতে পারছি না। সরকারি স্থাপনায় আগুন লাগানো হচ্ছে, এগুলো কারা করছে তাও জানি না। এদিকে ইন্টারনেট বন্ধ বলে কিছুই দেখতে পারছি না। আন্দোলনটা ঠিক কেমন হচ্ছে বা কোথায় যাচ্ছে। চতুর্দিকে একটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্বাভাবিক জীবনযাপন বিঘ্নিত হচ্ছে। আসলে এ মুহূর্তে ছাত্র আন্দোলনটা কী আন্দোলনে রূপ নেবে এটাও বোঝা যাচ্ছে না। 

আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে এখন এটা আর ছাত্র আন্দোলন নেই বলে আমার মনে হচ্ছে। কারণ আমার বাসার পাশে অনেক জায়গায় আগুন দেয়া হয়েছে। তারা কেউ ছাত্র ছিল না। পুরো আতঙ্কিত ছিলাম। আমরা পানি নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম যেন আমাদের বিল্ডিংয়ে আগুন না আসে। রাত সাড়ে ১১টার পরে যখন ফায়ার সার্ভিস আসে তখন আমরা স্বস্তি বোধ করেছি। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি পুরো দেশে যে নাশকতা চলছে এবং এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল। ইন্টারনেট না থাকার কারণে কী হচ্ছে এটা বুঝতে পারছি না। আবার আন্দোলনটা যে শুধু ছাত্র আন্দোলন নেই সেটাও পরিষ্কার। কোথায় যাচ্ছে পরিস্থিতি সবাই যেমন দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে আমরাও এ রকম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’

ছাত্ররা যে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে মাঠে আছে তাদের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে নাসিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের যে দাবি তুলেছে সে দাবির সঙ্গে আমি একমত এবং কোটা সংস্কারের পক্ষে যে আন্দোলনটা শুরু হয়েছিল তার সঙ্গেও একমত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যে নাশকতা হলো এগুলো তো আমরা আশা করিনি। শিক্ষার্থী হত্যা হলো কেন সেটাও বোধগম্য না। সহিংসতা বেড়ে গেছে। ছাত্রদের পাশাপাশি আরো অন্যরা যুক্ত হয়েছে। আমার কোনোভাবেই মনে হয় না ছাত্ররা কোনো জায়গায় আগুন দিয়েছে।’

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাঁধন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরিস্থিতি যা হয়েছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাকর। যা হয়েছে এটা আমরা একদমই আশা করি না। সাধারণ জনগণসহ বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা হুমকির মুখে পড়ছে। এটা লজ্জার পাশাপাশি ভয়ংকর।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে দাবি তুলেছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা যেত, সেটা না করে পরিস্থিতি এ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে যে এটা মেনে নেয়া খুবই কঠিন, কারণ অনেক ছোট ছোট বাচ্চাকে গুলি করে মারা হয়েছে, এটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া অনেক কঠিন।’ 

শিক্ষার্থীরা যে কোটা সংস্কারের দাবি তুলেছে এটার সঙ্গে একমত কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের দাবি সম্পর্কে এত খতিয়ে দেখিনি। তবে যতটুকু জেনেছি তাদের দাবি আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। আমার এখন আর সরকারি চাকরি করার সময় নেই বা আমার সার্টিফিকেট ব্যবহার করে কখনো কিছু করিনি। আমি সবসময় সব জায়গায়ই আমার যোগ্যতায় চান্স পেয়েছি। শিক্ষার্থীরা যে দাবিটা করছে আমার কাছ মনে হয়েছে সেটার যৌক্তিকতা আছে এবং আমি তাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করি।’

তিনি আরো যুক্ত করেন, ‘যেকোনো বিষয়ই সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন জরুরি। সময়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যেকোনো কিছু সংশোধন, সংস্কার করা যায়। সুযোগটা সবসময় আছে। আমি বলতে চাই শিক্ষার্থীরা যখন দাবিটা তুলেছে তখনই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি যেদিকে গেছে একটা স্বাধীন দেশে সাধারণ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নেই, এটা কোনোভাবেই কাম্য না।’

বাঁধন আরো বলেন, ‘যা চলছে এটা নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি। আমার একটা বাচ্চা আছে, আমি আর আমার বাচ্চা তো এসবের মাঝখান দিয়ে যেতে হবে। আমাদের তো দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই যে যা হয় হোক আমি দেশের বাইরে চলে যাব। আমি তো এ দেশেই থাকব। আমার দেশটাকে সুন্দর দেখতে চাই। এমন রক্তাক্ত দেখতে চাই না।’

কেবল তিনিই নন এর আগে চঞ্চল চৌধুরী, শাকিব খান, আফরান নিশো, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অভিনেত্রী সাফা কবির, আইশা খানও ছাত্রদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। শোবিজের সবাই এ আন্দোলন নিয়ে কমবেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।