রণবীর কাপুরের অভিষেক হয়েছিল সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘সাভারিয়া’ দিয়ে। কিন্তু ক্যারিয়ার তিনি শুরু করেন একজন সহকারী পরিচালক হিসেবে। সেখানেও কাজ করেন সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গেই। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো হয়নি। সাভারিয়ায়ও রণবীর সহকারী পরিচালক ছিলেন। অন্যদিকে সিনেমাটিও ২০০৭ সালে মুক্তি পেয়ে বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছিল। ঋষি কাপুর খুশি ছিলেন না এ সিনেমার গল্প নিয়ে। সে যা-ই হোক, এত ব্যর্থতার মধ্যেও রণবীরের প্রতি সঞ্জয়ের আছে ভালো ধারণা। তিনি তাকে একজন প্রতিভাবান অভিনেতা মনে করেন। বিশেষত সাভারিয়ার ক্লাইম্যাক্সে রণবীরের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বানসালী।

দি হলিউড রিপোর্টারের এক সাক্ষাৎকারে বানসালি বলেন, ‘নিজের সিনেমার মধ্যে সাভারিয়ার ক্লাইম্যাক্স আমার অন্যতম পছন্দের। রণবীরও সেখানে দারুণ কাজ করেছে। প্রায় সাত মিনিটের একটা সিকোয়েন্স, কিন্তু কোনো সংলাপ নেই। একজন অভিনেতা এই এক শটে কী করতে পারেন, তা সে দেখিয়েছিল। আমি বসে দেখছিলাম এবং অশ্রুসিক্ত হয়েছি। কারণ বুঝতে পেরেছিলাম, সে কত বড় মাপের অভিনেতা।’

সাভারিয়ার আগে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘ব্ল্যাক’-এ সহকারী পরিচালক ছিলেন রণবীর। এ সিনেমায় রণবীরের সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, ‘আমি কেবল তারকাদের নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করিনি। কাজ করেছি নানা পাটেকরের মতো অসাধারণ এক অভিনেতার সঙ্গে। মনীষাও দারুণ অভিনেতা। সীমা বিশ্বাসও তাই। ‘‘দেবদাস’’-এর শাহরুখ খান আমার কাছে খুবই স্পেশাল। তাই বলতে পারি, আমি অভিনেতাকে চিনি। রণবীর যে সময় ব্ল্যাকে আমার সহকারী ছিল তখন তাকে বলেছিলাম, সে দারুণ একজন অভিনেতা। ওর মধ্যে যে অভিনেতার সত্তা আছে তা অনেকের মধ্যে অনুপস্থিত।’

এদিকে বানসালির সহকারী হিসেবে কাজ করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন রণবীর। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘খুব কঠিন ছিল তার সঙ্গে কাজ করা। কোনো ভুলের মাফ ছিল না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখতেন। কোনো ভুল হলে আমাদের গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করতেন না। একটা সময় গিয়ে মনে হলো আমার পক্ষে এভাবে আর সম্ভব নয়।’

এত কিছুর পরও তার হাত ধরেই রণবীরে অভিষেক। আর সে সিনেমার প্রায় দুই দশক পর আবারো একসঙ্গে কাজ করছেন তারা। ২০২৬ সালে আসছে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ নামে বানসালির নতুন সিনেমা।

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস