প্রেক্ষাগৃহের বাইরেও আজকাল সিনেমা মুক্তি দেয়ার নানা হিসাব-নিকাশ থাকে। মিউজিক রাইটস, ডিজিটাল রাইটস ও স্যাটেলাইট রাইটসের মতো বিষয়গুলো থেকে আয় করে থাকেন নির্মাতারা। স্বাভাবিকভাবে প্রেক্ষাগৃহের দিকে মাঝে মাঝে গুরুত্ব কমে যায়। তারই আদর্শ উদাহরণ তৈরি করেছে বলিউডের সিনেমা ‘দ্য লেডি কিলার’। সিনেমার নির্মাতারা বক্স অফিসের দিকে খুব একটা নজর দেননি। ফলে দ্য লেডি কিলার পরিণত হলো ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ফ্লপ সিনেমায়।
অজয় বাহলের পরিচালনায় নির্মিত দ্য লেডি কিলারে অভিনয় করেছেন অর্জুন কাপুর, ভূমি পেডনেকর। সিনেমার বাজেট ছিল ৪৫ কোটি রুপি, অথচ ভারতের মাত্র এক ডজন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। প্রথম দিনে টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৯৩টি আর বক্স অফিসের সংগ্রহ মাত্র ৩৮ হাজার রুপি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। এত বড় বিধ্বস্তের প্রধান কারণ ছিল নির্মাতাদের প্রেক্ষাগৃহের দিকে মনোযোগ না দেয়া। সিনেমাটি অনেকটা অসমাপ্ত অবস্থায় মুক্তি দেয়া হয়, যা ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে বিরল। তাছাড়া অভিনয় করা তারকা কিংবা পরিচালক কেউই প্রচারণা চালাননি। ফিল্মের নির্মাতাদের মধ্যে চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণেই এমন অস্বাভাবিক কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চলচ্চিত্রটি ওটিটিতে মুক্তি দেয়া হয়। সে শর্তেই বিক্রি করা হয়েছিল ডিজিটাল স্বত্ব। কিন্তু শর্ত ছিল ওটিটিতে আসার ছয় সপ্তাহ আগে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে হবে। ফলে নভেম্বরের গোড়ার দিকেই প্রায় অসমাপ্ত আকারেই মুক্তি পায় দ্য লেডি কিলার।
সিনেমাটির বক্স অফিস কালেকশন তার প্রডাকশন খরচের দশমিক ১ শতাংশও ছিল না। কিন্তু মুক্তি দেয়ার সময়কে এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তটা ছিল প্রযোজকদের পক্ষ থেকেই। নির্মাতারা প্রেক্ষাগৃহের বাইরে থেকে আয় করতে পারবেন। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, এর মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে অসমাপ্ত সিনেমাকে হাজির করা হচ্ছে, যা সার্বিকভাবে ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর। এ দিয়ে এটাই প্রমাণিত হয় যে ব্যবসার বিপরীতে কনটেন্ট কোনো মূল্য বহন করে না। কনটেন্টের কোয়ালিটির দিকে তাকানোর চাইতে অর্থনৈতিক বিষয়াবলিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন হালের নির্মাতারা।
সূত্র: ডিএনএ ইন্ডিয়া










