দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড অ্যাশেজ। এ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট জুনায়েদ ইভান। তার একাধিক গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। ইভানের বেশির ভাগ সময় যায় গানকে কেন্দ্র করেই। ঈদ উপলক্ষে নিজের ও অ্যাশেজের হালচাল নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি নিয়ে বলুন।
ঈদের সঙ্গে জড়িত ছোটবেলার স্মৃতি তো অনেক চমৎকার। এখন তো বড় হয়েছি। আমার বাসার সবাই যুক্তরাষ্ট্রে থাকে। আমার ছোট বোন কিছুদিন আগে বাংলাদেশে এসেছিল। আমার আব্বু ও আরেক বোন ঈদকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশে আসছে। অনেক বছর পর আমাদের বাসার সবাই একসঙ্গে ঈদ করছি। একসঙ্গে সময় কাটাতে যাচ্ছি। এটা নিয়ে আমি অনেক উচ্ছ্বসিত।
ঈদে অ্যাশেজের ব্যস্ততা কেমন এবার?
প্রথমত, ঈদের আগেই আমরা তিনটি কনসার্ট করেছি ভারতে। আর ঈদের তৃতীয় দিন থেকেই আমরা কনসার্ট শুরু করব। টানা চারদিনে চারটি কনসার্ট। এ নিয়ে তো ব্যস্ততা থাকছেই। তাছাড়া আমরা একটি সিনেমায় কাজ করছি। এটি বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি সিনেমা। নাম অন্তর্জাল। এ সিনেমায় আমরা গান করছি। সিনেমাটি ঈদের পরেই মুক্তি পাবে। বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে অন্তর্জাল। সিনেমাটিকে ঘিরেও আমাদের ব্যস্ততা আছে। কারণ আমরা শেষ সময়ে এটির কাজ শুরু করেছি। রমজানেই আমরা সিনেমাটির কাজ করছি। সুতরাং ঈদকে কেন্দ্র করে এটিও আমাদের ব্যস্ততা। আমাদের নতুন অ্যালবাম মুক্তি পাবে। সে অ্যালবামের প্রথম গানের শিরোনাম ‘শেকড়’। এটি ঈদের এক সপ্তাহের মধ্যেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এগুলোই আমাদের ব্যস্ততা।
একটা সময়ে ঈদে নতুন ক্যাসেট বাজারে আসত। ওই সময়ের কোনো স্মৃতি আছে?
ছোটবেলায় ঈদকে কেন্দ্র করেই কিন্তু আমাদের ক্যাসেট কেনা হতো। সে সময় কিছু ক্যাসেটের দোকানের সামনে যে ক্যাসেটগুলো পাওয়া যেত, সে ক্যাসেটগুলোর কাভার পোস্টার থাকত। আমরা তো সে সময় এলআরবির-বাচ্চু ভাই কিংবা নগর বাউল-জেমস ভাই, তাদের ক্যাসেট কিনতাম। সঙ্গে ক্যাসেটের পোস্টারও কিনতাম ঈদে। সে পোস্টারগুলো সব দোকানে পাওয়া যেত না। আমি সেসব সংগ্রহ করে আমার কাছে রাখতাম। এগুলো অনেক বছর আগের কথা। তখন আমি স্কুলে পড়ি। ফাইভ-সিক্সে। ঈদের এ স্মৃতিগুলো অনেক সুন্দর।
কীভাবে কাটে ঈদের দিন?
ঈদের দিন আমি সারা দিন ঘুমাই। একবার আমার একটি কনসার্ট ছিল ঈদের দিন। বাসার সবাইকে আমি জানিয়েছিলাম। তারা আমাকে বকা দিয়েছিল। আমি বলেছিলাম যে আমি তো এমনিতেই ঈদের নামাজ পড়ে এসে ঘুমাই। আমাকে কনসার্ট করতে দিলে কী হতো! কিন্তু আমাকে আর কনসার্ট করতে দেয়নি। যা-ই হোক, ঈদে সে অর্থে আমি আসলে কোথাও যাই না। বাসায়ই থাকি। সাধারণত পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজ আদায় করতে যাই। বাসায় ফিরে সে পাঞ্জাবিটাই পরে থাকি। আমার পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাই। আমার স্টুডিও আমার বাসার ছাদেই। সেখানেও আমি থাকি।
ঈদের কেনাকাটা কি শেষ?
প্রথমত, আমি কেনাকাটা করতে বের হতে পারি না। কারণ মানুষজন যারা চেনে তারা ঘিরে ধরে। ফলে একটু তো ঝামেলা হয়ই। সে কারণে আমি তেমন শপিং করতে বের হই না। তবে নিতান্ত প্রয়োজনে গভীর রাতে বের হই। গতবার চাঁদরাতে আমি ৩টায় বের হয়েছিলাম। কিছুদিন আগে আমি ভারতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বেশকিছু জিনিস আমি কিনেছি। মনে হয় না, আর কিছু লাগবে। এখন অনেক ভিড় মার্কেটে। এমন ভিড়ের মধ্যে বের হওয়া, কেনাকাটা করা সম্ভব না। শপিং মলগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। তাছাড়া অনেক গরমও পড়ছে। আর আমি কিন্তু অত বেশি জামাকাপড় কিনি না। সবসময় দেখবেন, কালো টি-শার্ট আর কালো প্যান্ট পরে থাকি। তাই আমার অত কিছু কিনতে হয় না। সুতরাং এক্ষেত্রে আমার টাকা সাশ্রয় হয় কিন্তু...(হাসি)।
আপনার ঈদের পছন্দের খাবার কী?
ঈদের পছন্দের খাবার সেমাই, চটপটি। এগুলো কমন। ঈদে যত খাবারই সামনে আসুক না কেন, আমার মায়ের হাতে বানানো খাবারগুলো অতুলনীয়।










