কালের পরিক্রমায় সবকিছু বদলে যায়। ভালোবাসার ভাষাও অপরিবর্তিত থাকে না। ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই বলেছেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল। 

১৯৯৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটিতে সিমরান ও রাজের প্রেম আদর্শ রোমান্স হিসেবে সিনেমাপ্রেমীরা গ্রহণ করেছিল। এতে সিমরান চরিত্রে কাজল ও রাজ চরিত্রে শাহরুখ খান অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু তিন দশকে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। ক্রমাগত চিঠি লেখা, বার্তা পাঠানো কিংবা কারো দরজার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা, এ ধরনের আচরণ এখন আর রোমান্টিক হিসেবে ধরা হয় না বলে জানান কাজল। এখানে একটি বিবর্তন ঘটেছে। সমসাময়িক সিনেমাগুলোয় তা প্রতিফলিত হচ্ছে। শিগগিরই কাজলকে ‘লাস্ট স্টোরিজ টু’-তে দেখা যাবে। এতে বর্তমান সময়ে সম্পর্কের ধরন ও এর নানা জটিলতা তুলে ধরা হবে। 

বদলে যাওয়া ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নিয়ে সাক্ষাৎকারে কাজল বলেন, ‘ভালোবাসার ভাষা পরিবর্তন হয়েছে। সিনেমায় তার প্রতিফলন ঘটছে। নব্বইয়ের দশকে মানুষ যেগুলোকে আবেগ মনে করত, সেগুলো এখন স্টকিং ও বোকামি হিসেবে ধরা হয়। যদি কেউ ১৫টি চিঠি লেখে ও দরজায় ১০ বার কড়া নাড়ে কিংবা ৩০টি টেক্সট পাঠায়, তখন বিষয়টি এমন যে ‘‌‘স্টকার, দূরে থাকো।’’ এটিই এখনকার সংজ্ঞা।’

সাক্ষাৎকারে কাজল ‘লাস্ট স্টোরিজ টু’-তে তার অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, একজন অভিনেতার জন্য সম্পূর্ণ টিমের সঙ্গে কাজ করে স্বস্তি পাওয়া ও টিমকে বিশ্বাস করাটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘একজন অভিনেতা হিসেবে কোনো কাজে আপনি স্বস্তি না পেলে, আপনার তা নেয়া উচিত নয়। বরং আপনি যেটি ভালোভাবে করতে পারবেন, সে কাজই আপনাকে বেছে নিতে হবে। আমি এটি মেনে চলি।’ কাজল জানান, এসব ক্ষেত্রে একজন অভিনেতার সংশয়ে থাকাটা ঠিক নয়।

‘লাস্ট স্টোরিজ টু’-তে কুমুদ মিশ্রকে সহঅভিনেতা হিসেবে পেয়েছেন কাজল। কুমুদ মিশ্রের মতো চমৎকার একজন সহঅভিনেতার কারণে আরো ভালোভাবে কাজ করতে পেরেছেন বলে জানান এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘কুমুদ স্যার সবকিছুকে ভালো ও স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। তার সঙ্গে কাজ করার পর তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ২০ গুণ বেড়ে গেছে।’ 

কাজল জানান, ২০১০ সালে তার এক ধরনের বোধোদয় হয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি অভিনয়ের নির্দিষ্ট কোনো ফর্মুলায় আটকে থাকবেন না। কারণ দর্শকরা তাদের সিনেমা দেখার ব্যাপ্তি অনেক বাড়িয়েছে। কাজল বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে ফর্মুলা আর কাজ করে না। কারণ আপনি যা বানাচ্ছেন, তার চেয়ে আরো ভালো সিনেমা প্রত্যেকে দেখছে। আপনার চেয়ে আরো ভালো অভিনেতার কাজ তারা দেখছে।’ 

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস