কালজয়ী জাপানিজ নির্মাতা আকিরা কুরোসাওয়াকে বিশেষভাবে সম্মান প্রদর্শন করলেন স্বনামধন্য সিনেমা ও মঞ্চ পরিচালক জুলি টেমোর। জুলির সিনেমার ঝলমলে দুনিয়ায় প্রবেশ করা এবং বহু সাংস্কৃতিক বিশ্বের দর্শনে প্রভাব রাখার ক্ষেত্রে তার কৃতিত্ব অনেক।

টোকিও ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জুরির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন টেমোর। প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত সিনেমাগুলো দেখার আগে আয়োজিত জুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

স্মৃতিচারণ করে টেমোর বলেন, ১৫ বছর বয়সে প্যারিসে প্রথম বিদেশী সিনেমা ‘রাশোমন’ দেখেছিলাম। সেটা আমার জীবন পুরোপুরি বদলে দিল। আমার সিনেমা পরিচালক হওয়ার পেছনে কুরোসাওয়ার সিনেমাই কারণ।

১৯৫১ সালে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গোল্ডেন লায়ন তকমা জেতে জাপানি ফোক সিনেমা রাশোমন। তারপর থেকেই সেটাকে বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে ক্ল্যাসিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সামনেই কোরিয়ান গল্প ‘বায়েখো’র (হোয়াইট টাইগার) ভিত্তিতে ‘অ্যান ইন্টারস্পেসিস লাভ স্টোরি’ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী টেমোর। সিনেমাটি নিয়ে তার প্রত্যাশাও বেশি। তার মতে, প্রাণিরাজ্য বা প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করানোটা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হতে পারে এখনই সঠিক সময়। একজন শিল্পী হিসেবে আমি সবার চোখ খুলে দেয়ার জন্য শেষ চেষ্টা করে যাব।

টেমোর সংস্কৃতি গ্রাস থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির টিকে থাকার জন্য বহু সংস্কৃতিতে প্রবেশ করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘আমি পূর্ব থেকে পশ্চিমে কিছু করছি, যা এ সময়ে কঠিন। সবাই নিজেদের পরিচয় নিয়ে কথা বলছে। আপনি শুধু নিজের গল্পই করতে পারেন। আফ্রিকান, আমেরিকান হলে নিজের গল্প, জাপানিজ হলে নিজের গল্প। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে টিকে থাকা কঠিন হবে। টিকে থাকতে আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি ভাগাভাগি করে নিতে হবে।’

টেমোর টোকিও উৎসবের প্রতি ধন্যবাদ জানান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আকিরা কুরোসাওয়া অ্যাওয়ার্ড ফের চালু করার জন্য। তিনি বলেন, কুরোসাওয়া সত্যিই সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও গল্প বলার মাস্টার। শেকসপিয়ারও আমার পছন্দের। তার সিনেমা দেখলেই খুব অনুপ্রাণিত ও অভিভূত অনুভব করি। কুরোসাওয়ার ‘থ্রোন অব ব্লাড’ এবং ‘রান’ উইলিয়াম শেকসপিয়ারের নাটক থেকেই নেয়া।

 

সূত্র: ভ্যারাইটি