‌টুয়েলফথ ফেইল সিনেমার জয়জয়কার দেখেছে সবাই। সেই সঙ্গে অভিনয়ে নতুন আসন পেয়েছেন বিক্রান্ত ম্যাসি। ফিল্মফেয়ারের আগে থেকেই বিক্রান্ত হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের অন্যতম তারকা। কোনো রকম প্রথাগত নায়কোচিত বৈশিষ্ট্য ছাড়াই তিনি মনোযোগ পাচ্ছেন অভিনয়গুণের কারণে। তবে টুয়েলফথ ফেইলই না কেবল, এর আগে থেকেই তিনি ভালো কাজ করছিলেন। তাকে দেখা গেছে ‘‌মির্জাপুর’-এ, তার আগে ক্রিমিনাল জাস্টিস এমনকি কঙ্গনা সেন শর্মার ‘‌ডেথ ইন দ্য গঞ্জ’-এ। অবশ্য বিক্রান্ত বেশ আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন টেলিভিশন সিরিজের জন্য। কিন্তু সেটিও তিনি ছেড়েছিলেন সিনেমার হাতছানিতে। আর এজন্য ছেড়ে এসেছিলেন মাসিক ৩৫ লাখ রুপি পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ।

বিক্রান্ত অভিনীত জনপ্রিয় সিরিজ ছিল ‘‌বালিকা বধূ’। এ সিরিজের ১৩ বছর পর সিনেমায় তার অভিষেক হয়। বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে পরিচালিত ‘লুটেরা’য় অভিনয় করেছিলেন তিনি। টেলিভিশনে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় তারকা হয়ে উঠেছিলেন বিক্রান্ত। সে অবস্থায়ই তিনি ছেড়েছিলেন টেলিভিশন। দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে বিভা মারু জানিয়েছেন, বিক্রান্ত যে সময় টেলিভিশন ছাড়েন সে সময় তার মাসিক পারিশ্রমিক ছিল ৩৫ লাখ রুপি।

এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল সঠিক চরিত্র বাছাই। বিক্রান্ত কখনই প্রধান চরিত্র বা নায়ক হওয়ার চেষ্টা করেননি। অন্তত প্রথম দিকে না। বিচিত্র সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যেমন জয়া আখতারের ‘দিল ধাড়াকনে দো’য় তিনি রানা খান্না চরিত্রে অভিনয় করেন। মাল্টি স্টারার সিনেমায় তার মতো ছোট চরিত্র মনে রাখার কথা নয়। কিন্তু তিনি ঠিকই দর্শকের মনে টিকে গেছেন তার অভিনয়ের কারণে। পরের বছর কঙ্গনার ডেথ ইন দ্য গঞ্জ। ছোটুকে দর্শক ঠিকই মনে রেখেছে। 

এরপর ‘‌লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’, তার দুই বছর পর ‘‌ক্রিমিনাল জাস্টিস’। অসাধারণ অভিনয় কিন্তু দর্শকের কাছে পৌঁছয়নি। তারপর দীপিকার সঙ্গে ‘‌ছাপাক’। নজরে আসেন মির্জাপুর থেকে। এরপর ‘‌হাসিন দিলরুবা’ অনেক কিছুই পাল্টে দিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি পাল্টে দিয়েছে টুয়েলফথ ফেইল। বিধু বিনোদ চোপড়া নিজেও জানতেন না এ ছেলে কেমন অভিনয় করে। কিন্তু স্ত্রীর কথা শুনে বিক্রান্তকে কাস্ট করেছিলেন তিনি। ৩৫ লাখ রুপি ছেড়ে দিয়ে আসা বিক্রান্ত এ সিনেমার মাধ্যমে বিধুকে দিয়েছেন একটি দর্শকপ্রিয় সিনেমা। সেই সঙ্গে প্রমাণ করেছেন বহুদিন আগে তিনি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।