সালমান খানের সর্বশেষ সিনেমা ‘কিসি কা ভাই কিসি
কি জান’ বাজে রিভিউ পেলেও
মুক্তির কয়েক দিনের মাথায় ১০০ কোটি ক্লাবে ঢুকে পড়েছে। টানা ১৬টি সিনেমা নিয়ে এই ক্লাবের
শীর্ষে আছেন তিনি। কালেকশনের এমন বাড়বাড়ন্তে তার ধারে-কাছেও নেই বলিউডের কোনো তারকা।
বলা যায়, তার রেকর্ড ভাঙা ‘অসম্ভব’!
২০০৮ সালে আমির খানের ‘গজিনি’ সিনেমার মাধ্যমে
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হানড্রেড কোরস ক্লাব’ শব্দটি প্রচলিত
হয় বলিউডে। তবে এই ক্লাবের সবচেয়ে সফল নামটি ভাইজানের।
২০১০ সালে ‘দাবাং’ সিনেমার মাধ্যমে
প্রথমবার সালমানের কোনো সিনেমা ১০০ কোটি রুপি আয় করে। যদিও কয়েক দশক আগে এই তারকার
‘হাম আপ হ্যায়
কৌন’-এর আয় শতকোটি
রুপি ছিল। কিন্তু তখন বক্সঅফিসে নতুন টার্মটি চালু হয়নি। এ ছাড়া তখন এত আয় ছিল অভাবনীয়।
‘দাবাং’-এর পর একে একে
রেডি, বডিগার্ড, এক থা টাইগার, জয় হো, কিক, বাজরঙ্গি ভাইজান, প্রেম রতন ধন পায়ো, সুলতান,
টিউবলাইট, টাইগার জিন্দা হ্যায়, রেস থ্রি, ভারত, দাবাং টু ছবিগুলো ১০০ কোটি রুপির মাইলফলক
অতিক্রম করে। সামনে দিওয়ালিতে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘টাইগার থ্রি’ সন্দেহাতীতভাবে
হতে যাচ্ছে শত কোটি রুপির ১৭তম সিনেমা।
বলা হয়ে থাকে, সালমানের সিনেমা খারাপ হলেও
বক্সঅফিস আয় শুরু হয় ১০০ কোটি রুপিতে। কারণ তারকাখ্যাতির ক্ষেত্রে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
অন্যদিকে তুলনামূলক ভালো রিভিউ পাওয়া অনেক সিনেমাকে ১০০ কোটি আয় করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে
হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে আকাশচুম্বী বাজেট ও পারিশ্রমিকের
তুলনায় সালমান পরপর কয়েকটি ফ্লপ সিনেমা দিয়েছেন। কিন্তু তার কোনোটিই ১০০ কোটি রুপি
নিচে আয় করেনি। অর্থাৎ, মরা হাতিও লাখ টাকা প্রবাদকে সত্যে পরিণত করছেন তিনি। প্রেক্ষাগৃহে
ভালো ব্যবসা না করা এই সব ছবি আবার ডিজিটাল মাধ্যম ও টেলিভিশনে তুমুল জনপ্রিয়।
সিনে বিশ্লেষকদের মতে, পরপর ১৬টি সিনেমায় ১০০ কোটি রুপি আয়ের যে রেকর্ড তা সহসা ভাঙছে না। কারণ বর্তমান শীর্ষ তারকাদের কেউ সালমানের অর্ধেকও অর্জন করতে পারেননি। আবার বলিউডে হালে বেশির ভাগ সিনেমায় ব্যর্থ হচ্ছে। হয়তো আগামী দুই দশকেও সালমানের বক্সঅফিস রিপোর্ট ‘বিরল’ বলে গণ্য হবে। যদি না তখন পর্যন্ত এমন স্টারডম নিয়ে নতুন কোনো তারকা হাজির হন।
১০০ কোটি রুপি ক্লাবে সালমানের পরে রয়েছেন
অক্ষয় কুমার। তবে খিলাড়ির অর্জন ভাইজানের অর্ধেকেরও কম। গোল্ড, ২.০, কেশারি, মিশন মঙ্গল,
হাউসফুল ফোর ও গুড নিউজ এই ছয় সিনেমা শতকোটি ক্লাবে স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু টানা
ফ্লপের কারণে সালমানকে হারাতে হলে নতুন করে শুরু করতে হবে অক্ষয়কে।
এরপরই আছেন অজয় দেবগন। তার আছে গোলমাল
অ্যাগেইন, রেইড, টোটাল ধামাল, দে দে পেয়ার দে ও তানাজি। এরপর কয়েকটি ছবিতে ১০০ কোটি
রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি অজয়। অর্থাৎ তাকেও শুরু থেকে ভাবতে হবে।
রা ওয়ান, ডন টু, জাব তাক হ্যায় জান, চেন্নাই
এক্সপ্রেস, হ্যাপি নিউ ইয়ার ও দিলওয়ালে- শাহরুখের এই ছয়টি ছবি শতকোটি রুপি আয় করলেও
এরপর আছে দু-তিনটি বিলো অ্যাভারেজ সিনেমা। রণবীর সিং টানা চারটি ছবিতে শত কোটির মুখ
দেখলেও সর্বশেষ তিনটি সিনেমা প্রত্যাশার তুলনায় একদমই কম আয় করেছে।
ধুম থ্রি, পিকে, দঙ্গল ও থাগস অব হিন্দুস্তান নিয়ে টানা চারটি ১০০ কোটি রুপি আয়ের সিনেমা উপহার দিলেও ‘লাল সিং চাড্ডা’ মাইলফলকে পৌঁছাতে পারেনি। টানা তিনটি টানা শত কোটি রুপি ছবি রয়েছে হৃতিক রোশনের, তবে তিনি যে গতিতে সিনেমা করেন তাতে আগামী সব ছবি সুপারহিট হলেও দুই দশকের আগে সালমানকে ছাড়াতে পারবেন না।
বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে










