কোনো রকমের সংশোধন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে সেন্সর পেয়েছে ‘পায়ের তলায় মাটি নেই’। মোহাম্মদ রাব্বি মৃধা পরিচালিত প্রথম সিনেমা এটি। সিনেমাটির চিত্রনাট্যও তার লেখা। সোমবার সিনেমাটির কোনো কর্তন ছাড়াই মুক্তির অনুমতি দেয়া হয়েছে। পায়ের তলায় মাটি নেই সিনেমাটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে একজন মানুষের জীবনের টানাপোড়নের গল্প দেখানো হয়েছে। সিনেমার গল্প মূলত নায়ক সাইফুল নামের এক সাধারণ ব্যক্তিকে নিয়ে। যিনি একজন দরিদ্র অ্যাম্বুলেন্স চালক। তাকে তার দুই স্ত্রী, পরিবার, কাজ, নৈতিকতা ও সামাজিকতার নানা দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়ে যেতে হয়।

মোহাম্মদ রাব্বি মৃধা সিনেমাটি নিয়ে জানান, ‘এটা আমার প্রথম সিনেমা। আমি এটা নিয়ে খুব এক্সসাইটেড। বাংলাদেশের মানুষ যতক্ষণ না সিনেমাটা দেখবে, এটা সম্পূর্ণ হবে না। দেশের বাইরে তো সিনেমাটা সাড়া পেয়েছে। এখন দেশের মানুষ এটা কীভাবে নেয় সেটা দেখার পালা। আমরা যত দ্রুত সম্ভব সিনেমাটা মুক্তি দিয়ে দেব। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে একটা মানুষের জীবনে যে প্রভাব পড়ে তারই আলোকে এ সিনেমা। একটা চরিত্রের মধ্য দিয়ে আমরা অনেক গল্প দেখিয়েছি। এখানে আমি মানুষের গল্প বলতে চেয়েছি, যাতে মানুষ তার জীবনের সঙ্গে মিলাতে পারে।’

সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন আবু শাহেদ ইমন। বক্স অফিস নিবেদিত আর গল্পরাজ্য ফিল্মসের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটিতে সহযোগিতা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও বাতায়ন প্রডাকশনস। নির্বাহী প্রযোজক মীর মোকাররম হোসেন। সহপ্রযোজক হিসেবে আছেন ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও বাতায়ন প্রডাকশনসের তাহরিমা খান।

চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু শাহেদ ইমন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে একজন ব্যক্তির জীবনে যে প্রভাব পড়তে পারে, সে টানাপোড়নের গল্প উঠে এসেছে এ সিনেমায়। সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা সিনেমাটা দেখার পর প্রশংসা করেছেন। আপনারা জানেন সিনেমাটি দেশের বাইরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে দেখানো হয়েছে, সেখানেও সাড়া ফেলেছে পায়ের তলায় মাটি নেই। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি ভিন্নধারার চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় পায়ের তলায় মাটি নেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পালক যুক্ত করবে বলে প্রযোজক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়। দেশে এখন সিনেমার জোয়ার বইছে। আমার বিশ্বাস অত্যন্ত সুনির্মাণে নির্মিত ও সুচিন্তিত কনসেপ্টের সিনেমাটি দর্শকের ভালো লাগবে। সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে তা আমরা শিগগিরই জানাব।’

এর আগে বুসান (কোরিয়া), ইন্ডিয়ার বেঙ্গালুরু, পুনেসহ শ্রীলংকা, জাপান, নেপাল, অস্ট্রিয়া, লন্ডন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের জনপ্রিয় ১৪টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে পায়ের তলায় মাটি নেই। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন দীপান্বিতা মার্টিন, মোস্তফা মনোয়ার, প্রিয়াম অর্চি প্রমুখ।

সিনেমাটি নিয়ে দীপান্বিতা মার্টিন বলেন, ‘এটা আমার প্রাণের একটা সিনেমা। সত্যি বলতে এটা আমার খুব ভালোবাসার একটা সিনেমা। এ সিনেমায় আমি যে চরিত্রটা করেছি সেটা আমার খুব পছন্দের। এটা করতে গিয়ে খুব তৃপ্তি পেয়েছি। এটা করে আমার কাছে মনে হয়েছে মনের মতো একটা চরিত্র পেলাম। এখন আমি আমার মতো করে কাজ করতে পারব। সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র করেছি, তাই আলাদা মজা পেয়েছি। কাজটা করতে গিয়ে এমন কনফিডেন্স তৈরি হয়েছে।’

পায়ের তলায় মাটি নেই এর সেন্সর পাওয়া নিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘সিনেমাটা মুক্তি নিয়ে আমি অপেক্ষায় ছিলাম। আমি প্রায়ই পরিচালককে ফোন দিয়ে সিনেমাটা মুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করতাম। সবশেষে এটা এখন সেন্সর পেল। আমি অনেক খুশি। অনেক সময় এমন হয় না যে প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে কিন্তু দেখা হচ্ছে না। তারপর হঠাৎ দেখা হয়ে গেল, সে সময়ে মনে যে আনন্দ কাজ করে আমার এখন তাই হচ্ছে।’ সিনেমাটা চলতি বছর মুক্তি পাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে এ তারকা বলেন, ‘এটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। এ বছরের আর চার মাস আছে এখন দেখা যাক কী হয়।’

পায়ের তলায় মাটি নেই সিনেমায় নিজের চরিত্র নিয়ে দীপান্বিতা বলেন, ‘আমার চরিত্রটার নাম মনোয়ারা। সে খুব সংগ্রামী একজন মেয়ে। তার জীবন তাকে এমন জায়গায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে যে সে নিজে টিকে থাকার জন্য যেকোনো কিছু করতে পারে। সিনেমাটা দেখলে দর্শক বুঝতে পারবে জীবন তাকে এমন একটা পরিস্থিতিতে নিয়ে গিয়েছে যে বেঁচে থাকার জন্য সে মানুষকে খুনও করতে পারে। আমার মনে হয়েছে চরিত্রটা নারী শক্তির প্রতীক।’

পায়ের নিচে মাটি নেই সিনেমাটি বিদেশের মাটিতে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি এলে দেশের সিনেমাপ্রেমীরা কীভাবে তা গ্রহণ করবে সেটি এখন দেখার পালা।