মিশন: ইম্পসিবল ৭-এর খরচ বেড়ে ব্যয়বহুল তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিচ্ছে। নিজের সিনেমা নিয়ে মহামারী চলাকালে নতুন করে আলোচিত হয়েছেন টম ক্রুজ। বহুবার পেছানোর পর টপ গানের সিকুয়েল টপ গান: ম্যাভেরিক এ বছর মুক্তি পাচ্ছে। বন্ডের সিনেমা নো টাইম টু ডাইয়ের আগেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল এর। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে মুক্তিপ্রত্যাশী সিনেমাটি নিয়ে ২০২০ সালে একটি ভিডিওতে ক্রুজ বলেছিলেন, থিয়েটারে গিয়ে সিনেমা দেখতে তিনি আগ্রহী। কিন্তু একই সময়ে ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে শোনা যায়, শারীরিক দূরত্ব মানার জন্য তিনি সিনেমার ক্রুদের সঙ্গে কড়া ব্যবহার করছেন। কিন্তু সব আলোচনা স্তিমিত হয় যখন সিনেমা মুক্তির ঘোষণা আসে।

কিন্তু আরো কিছু বিষয় থাকে। সিনেমার নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। মিশন: ইম্পসিবলের খরচ অসম্ভব রকম বেড়ে ছাড়িয়ে গেছে সব হিসাব-নিকাশ। খরচ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য মহামারীর মধ্যে পৃথিবীর নানা অঞ্চলে ছুটেছেন টম ও পরিচালক ক্রিস্টোফার ম্যাকুয়ের। ফলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়ে এ পর্যন্ত সাতবার কাজ বন্ধ হয়ে পুনরায় শুরু করার কারণে সিনেমার ব্যয় ২৯ কোটি ডলারে এসে ঠেকেছে। সিনেমার ক্ষেত্রে প্রতিবার কাজ বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে খরচ বাড়ে, কেননা কাজ বন্ধ থাকলেও কলাকুশলী ও কর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমার সঙ্গেই যুক্ত থাকেন। সিনেমার সেট ধরে রাখা, কখনো কখনো নতুন সেট তৈরির জন্য অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন হয়। মিশন: ইম্পসিবল ৭-এর ক্ষেত্রে বারবার নতুন করে শুট করার কারণেও খরচ বেড়েছে। ভ্যারাইটি অনুসারে, ভেনিস কার্নিভালে একটি অ্যাকশন সিকোয়েন্স প্ল্যান করে একাধিকবার শুট করা হয়েছে।

খরচের পরিমাণের দিকে তাকিয়ে দেখা যাচ্ছে, সিনেমাটি এর পূর্ববর্তী পর্ব মিশন: ইম্পসিবল-ফলআউটের তুলনায় ১০ কোটি ডলার বেশি ব্যয়ে নির্মিত। এর মধ্য দিয়ে সিনেমাটি সর্বাধিক ব্যয়বহুল সিনেমার তালিকায় উঠে এসেছে। কিন্তু সিনেমার আয় করার ক্ষেত্রে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে যাচ্ছে। অতীতের দিকে তাকিয়ে বলা যায়, ‘খরুচে সিনেমা’ আসলে গর্ব করার মতো কোনো বিষয় নয়। খরুচে সিনেমার তালিকায় মিশন: ইম্পসিবল ৭ থাকছে ১৩ নম্বরে, যেখানে ১২তম সিনেমা ওয়েস্টওয়ার্ল্ড এবং ১১তম সিনেমা জন কার্টার রীতিমতো ফ্লপ করেছিল। তালিকার অষ্টম সিনেমা জাস্টিস লিগ তৈরিতে ওয়ার্নাস ব্রোস খরচ করেছিল প্রায় ৫০ কোটি ডলার, যেখানে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ কোটি ডলার লোকসান গুনতে বাধ্য হয়।

ক্রুজ ঠিক করেছেন, অষ্টম সিনেমার শুটিং শেষ না করে সপ্তমটির মুক্তি দেয়া হবে না। সে হিসাবে বলা যায়, মিশন: ইম্পসিবল এ বছরের মাঝামাঝি মুক্তি পেলে পরেরটি মুক্তি পাবে ২০২৪ সালে। কিন্তু সেখানেও নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। মহামারীর অবস্থা বুঝে মুক্তি পেছাতে পারে এবং আবার যত পেছাবে, ব্যয় তত বাড়বে।

মুক্তি পেলেই যে আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারবে তাও বলা যায় না। কেননা যদিও স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম দর্শক টানার মাধ্যমে ভালো ব্যবসা করেছে, বক্স অফিসে ব্যর্থ সিনেমার সংখ্যাও কম নয়। রিডলি স্কটের হাউজ অব গুচি, স্পিলবার্গের ওয়েস্ট সাইড স্টোরি, দ্য ম্যাট্রিক্সের চতুর্থ পর্ব এবং মুনফল—প্রতিটি সিনেমাই ব্যর্থ হয়েছে। অদূরভবিষ্যতে এ অবস্থা উত্তরণের সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থার কারণে চীনের বক্স অফিস থেকে সিনেমাটি কোনো ইতিবাচক ফল আশা করতে পারে না। তাই তাত্ত্বিকভাবে বলা যায়, মিশন: ইম্পসিবল ৭ টালমাটাল অবস্থার মধ্যে মুক্তি পাবে। হাওয়া ঘুরে গিয়ে মহামারী অবস্থার অবনতি হলে বক্স অফিসে সিনেমাটির ব্যর্থ হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

মিশন: ইম্পসিবলের একটি গুণ হলো একে পারফেক্ট অ্যাকশন সিনেমা বলা যায়। এখন পর্যন্ত সিরিজের প্রতিটি সিনেমা দর্শকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করেছে। কেবল তা-ই নয়, মিশন: ইম্পসিবলের প্রতিটি সিনেমা দর্শক রুদ্ধশ্বাসে উপভোগ করে। ফলআউটের একটি দৃশ্য ছিল, যেখানে টম ক্রুজ বাইক নিয়ে প্যারিসের রাস্তায় একটি ‘চেজিং’ করেছিলেন। পুরো দৃশ্যটির সময় দর্শকরা দমবন্ধ অবস্থায় বসে ছিল। দৃশ্য শেষ হওয়ার পর যেন তারা দম নেয়ার সুযোগ পায়। মিশন: ইম্পসিবলের দর্শকরা বলে, সিনেমাগুলো আরো বড় পর্দায় দেখতে পারলে ভালো হতো। সিনেমাগুলো দলবেঁধে দেখার মতো। তাই আশা করা যায়, এবারো দলবেঁধে তারা দেখতে যাবে।

মহামারী এবং ক্রমেই বাড়তে থাকা ব্যয় যদিও একটা বড় চ্যালেঞ্জ, টম ক্রুজ এর চেয়ে বড় প্রতিকূলতা পার করেছেন। ২০০৬ সালে মিডিয়া ম্যাগনেট সামনার রেডস্টোন যখন টম ক্রুজকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন, মিশন: ইম্পসিবল ৩-এর ব্যবসার পরিমাণ রাতারাতি কমে যায়। সিরিজের এ সিনেমাটির আয় সর্বনিম্ন। কিন্তু সেখান থেকে টম ক্রুজ চমত্কারভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। মিশন: ইম্পসিবল সিরিজ তার ক্যারিয়ারের ব্যবসাসফল সিনেমার তালিকায় সবার ওপরে থাকে। বারবার পেছালেও মিশন: ইম্পসিবল ৭ নিয়ে দর্শকের আগ্রহের কমতি নেই। বহু দর্শক একাধিকবার সিনেমাটি দেখতে যাবে বলেও তারা দাবি করেন। সবকিছু মিলিয়ে আশা করা যায়, ব্যয়বহুল সিনেমাটি ব্যবসার ক্ষেত্রে সিরিজের পূর্ববর্তী সিনেমাগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান