নাগরিক গল্প নিয়ে কাজ করা পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম মাকোতো শিনকাই। জাপানি জীবনের প্রতিচ্ছবি থাকে তার এনিমেতে। এমনকি তার শেষ অ্যানিমি ‘‌সুজুমে’ও ব্যতিক্রম না। অ্যানিমিটি ২০১১ সালে জাপানের তোহুকো অঞ্চলের ভূমিকম্প-পরবর্তী অবস্থার গল্প বলে। সেই এলোমোলো অবস্থার মধ্যে সুজুমে কেমন করে বাঁচে সে গল্পটি বলেন শিনকাই। সম্প্রতি এ সিনেমার ভিশন নিয়ে ভ্যারাইটির সঙ্গে কথা বলেছেন শিনকাই। তিনি জানিয়েছেন এ সিনেমায় ভিন্ন দুনিয়া তৈরি করার পেছনের গল্প।

সিনেমাটির গল্প কোথা থেকে শুরু হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শিনকাই বলেন, ‘‌২০১১ সালে পূর্ব তোহুকো অঞ্চলের ভূমিকম্প থেকে গল্পটি মাথায় আসে। ভূমিকম্পটি জাপানকে দেশ ও সমাজ হিসেবে বদলে দেয়। আমি এ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হইনি, কিন্তু জগৎ সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। সে কারণে আমার সিনেমা নির্মাণ প্রক্রিয়াও বদলে গেছে।’ ভূমিকম্পের পর মানুষের বদল লক্ষ করতে শুরু করেন শিনকাই। তিনি দেখতে শুরু করেন মানুষ কেমন করে দুর্যোগের সময় একে অন্যের সঙ্গে মিলে বাঁচে। 

শিনকাইয়ের সিনেমায় সবসময় একটা খোঁজ থাকে। কেউ কিছু খুঁজছে। সুজুমের শুরুতে দেখা যায় সে তার মাকে খুঁজছে। দৃশ্যটি হৃদয়বিদারক। এমন একটি দৃশ্য দিয়ে সিনেমা শুরু করার কারণ হিসেবে মাকোতো বলেন, ‘‌শুরুটা এমন করে করার কারণ, ২০১১ সালের ভূমিকম্প একটা সুনামি তৈরি করেছিল। সে সময় অনেক কিছু ভেসে যায়। মানুষ কাদার মধ্যে নিজের প্রিয়জনকে খুঁজে মরছিল। আমি চিন্তা করতে চেয়েছিলাম ভিজুয়ালি জিনিসটাকে কীভাবে দেখানো যায়।’

শিনকাইয়ের সিনেমার অন্যতম বৈশিষ্ট্য দৃশ্যের মধ্য দিয়ে অনেক কিছু দেখানো ও বোঝানো। শিনকাইয়ের অন্যান্য সিনেমার সঙ্গে সুজুমের একটু পার্থক্য আছে। সুজুমে কঠিন বাস্তবের সিনেমা। এখানে হারানো, ট্রমা, ক্ষতি ও সবশেষে আছে আশার কথা। সিনেমার শেষের দিকে দেখা যায় বর্তমানের সুজুমে তার আরো কম বয়সের সুজুমেকে চেয়ার দিয়ে বলে, ‘‌একদিন তুমি বড় হবে, প্রেমে পড়বে অন্যের এবং তারপর নিজেকেও ভালোবাসতে শিখবে।’ শিনকাই এখানে রূপক ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন। এ দৃশ্যে দেখা যায় সুজুমের ব্যাকগ্রাউন্ডে রাত বদলে দিন হয়ে যাচ্ছে। আশার বিষয়টি এমন করে উপস্থাপন অ্যানিমিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাকোতো বলেন, ‘‌আমি দেখাতে চেয়েছি যে সময় বদলে যাচ্ছে। তাই এর পরের দিনগুলো একটা অসীম সময়ের মধ্যে থাকে। সুজুমে তার ছোটবেলার নিজেকে যে সাহসটা দিল তাতে ভর করেই সে অনেকদিন চলবে।’

সুজুমে মূলত এমন একটা সিনেমা, যা মূল চরিত্রের নানা কিছু হারানোর গল্প বলে। শুধু এগুলো নিয়ে গল্পটা সাজালে সেটা মনোটনাস হতো। এজন্য শিনকাই এ সিনেমায় সাওতা নামে তিন পায়ার একটি চেয়ারকে চরিত্র হিসেবে এনেছেন। এখানেও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি গল্প আছে। মূলত সাওতার একটা পায়া সুনামিতে ধুয়ে যায়। সুজুমে সেটা খুঁজে আনে। শিনকাইয়ের ভাষায়, ‘‌তারা অনেক কিছু হারিয়েছে, তবু তারা জাপানে অ্যাডভেঞ্চার করতে থাকে এবং লড়াই করে তারা নিজেদের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে।’ শিনকাই মূলত এ সিনেমায় ধ্বংসের মধ্যেও জীবনের গান গেয়েছেন। তাই তিনি ধ্বংসস্তূপের পাশে মাউন্ট ফুজি দেখান। তিনি বলেন, ‘‌এটা একটা রূপক যে সুজুমে নানা প্রতিকূলতা পার করে এগিয়ে যায়।’

ভ্যারাইটি অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান