অনুরাগ কাশ্যপ নির্মাণ করেছেন গ্যাংস অব ওয়াসিপুরের মতো কাল্ট সিনেমা। নির্মাতা অনুরাগের ব্যক্তিজীবনে আছে উত্থান-পতন, আছে মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের টানাপড়েন। সেসব নিয়ে বিভিন্ন সময় কথাও বলেছেন তিনি। সামনে আসছে তার নতুন ছবি অলমোস্ট লাভ উইথ ডিজে মোহাব্বত। সহিংসতা, গ্যাংস্টারগিরি ছেড়ে এবার তিনি আনছেন প্রেমের গল্প। সম্প্রতি মরক্কোর মারাকেচ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটির প্রিমিয়ার শো হয়েছে। 

গত চার বছরে নিজেকে চারপাশ থেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন অনুরাগ। কারণটা ডিপ্রেশন। এর মধ্যেই কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। সেকরেড গেমস, গোস্ট স্টোরিজ, লাস্ট স্টোরিজ এ সময়েরই কাজ। অলমোস্ট লাভ উইথ ডিজে মোহাব্বতের কাজও কয়েক বছর আগে ধরেছিলেন। এ সিনেমার শুরুটা লন্ডনে, কারণ তখন অনুরাগ ভারত ছেড়ে সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

অনেকে ধারণা করেন বোম্বে ভেলভেটের ব্যর্থতা অনুরাগকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু ঘটনা তেমনটা না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনুরাগ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে—‘‌আমি টুইটার ত্যাগ করি, কারণ আমার মেয়েকে ট্রল করা হচ্ছিল, তাকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া হচ্ছিল। সে এসব দেখে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই ২০১৯-এর আগস্টে আমি টুইটার ছেড়ে দিই। এরপর পর্তুগাল চলে যাই। অলমোস্ট লাভ উইথ ডিজে মোহাব্বতের শুটিং করছিলাম লন্ডনে। তখন জামিয়া মিলিয়ায় আক্রমণের ঘটনা ঘটে। আমি দেশে ফিরে আসি।’ 

ভারতের সমাজ-রাজনীতিতে ঘটে চলা এসব ঘটনা অনুরাগকে অস্থির করে তুলেছিল। চারপাশে কেউ কিছু বলছিল না দেখে পরিস্থিতি অনুরাগের জন্য আরো অসহ্য হয়ে ওঠে এবং তিনি টুইটারে ফিরে জামিয়া নিয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর আবার সিনেমার শুটিং শুরু করেন। এবার লকডাউন এসে আবার ব্যাঘাত ঘটায়। এরপর ওয়েব সিরিজ ‘‌তান্ডব’ নিয়ে বিতর্ক উঠলে এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুরাগের একটি প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ডিপ্রেশনে চলে যান। আবার টুইটার ত্যাগ করেন। একবার তার হার্ট অ্যাটাক হয়, তিন দফা যেতে হয়েছে রিহ্যাবে। শরীর ভেঙে পড়ে। ‘‌বুঝতে পারছিলাম না এ পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করব। ধীরে ধীরে হামাগুড়ি দিতে শুরু করলাম। খুব ধীরে নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করি। এখন আমি শুধুই আমার। তার পরও সিনেমা বানাচ্ছি। কারণ বসে বসে খাওয়ার মতো অবস্থা আমার নেই।’

অলমোস্ট লাভ উইথ ডিজে মোহাব্বতের গল্পে আছে অনুরাগের মেয়ের জীবনের ছায়া। অনুরাগ দেখেছেন এ প্রজন্ম ভালোবাসায় বিশ্বাসী। এ ভাবনাই উঠে এসেছে তার নতুন ছবিতে। এবার অনুরাগ তার ট্রেডমার্ক ডার্ক জোন থেকে বেরিয়ে এসেছেন। গ্যাংস্টারদের গল্প নিয়ে তিনি এখন বিরক্ত। গ্যাংস অব ওয়াসিপুরের চরিত্রগুলোকে তার ‘বোকা’ মনে হয়, যারা একই রাস্তায় থেকে বছরের পর বছর ধরে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। এটাই তিনি তুলে ধরতে আগ্রহী ছিলেন। সঙ্গে বিহারের ইতিহাসও। কিন্তু এসব ছেড়ে এখন অনুরাগ নিজেকে খুঁজে দেখতে চান। তাই বদলে যাচ্ছে তার নির্মাণও। 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস