বিশ্ব তারকাদের উদ্বেগ : বর্তমানে
চলচ্চিত্র নেহায়েত একটি বিনোদন মাধ্যম নয়। এর সঙ্গে জড়িত একটি দেশ কিংবা জাতীর আচার-আচরণ, ভাষা ও সংস্কৃতি। যুদ্ধ যেমন জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে, তেমনি আঘাত হানে শিল্পাঙ্গনেও। আবার অনেক চলচ্চিত্র কিংবা শিল্পকর্মে ফুটে ওঠে যুদ্ধের ভয়াবহতা। গত বৃহস্পতিবার পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার সামরিক অভিযানের আঁচ লেগেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। এরই মধ্যে মিস ইউক্রেনের অস্ত্র হাতে যুদ্ধে নামার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এ হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, মার্ক রাফেলো, জ্যারেড লেটো, মাইলি সাইরাস, প্রিয়াংকা চোপড়ার মতো তারকারা।
মাতৃভূমির পক্ষে ভাইকিংস অভিনেত্রী : রাশিয়ার
সেনা অভিযানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী ক্যাথরিন উইনিক। যিনি আলোচিত টিভি সিরিজ ‘ভাইকিংস’-এ অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। ক্যাথরিন ওই সিরিজে র্যাগনার লদব্রোকের স্ত্রী ল্যাগার্থার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এটি ছাড়াও ‘বিগ স্কাই’, ‘বোনস’সহ বেশ কয়েকটি সিরিজের পাশাপাশি ‘চুজ’, ‘দ্য আর্ট অব দ্য স্টিল’, ‘পোলার’, ‘দ্য মার্কসম্যান’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যাথরিন। ইউরোপের প্রতিবেশী দুই দেশের ‘শীতল লড়াইয়ের’ মধ্যে বরাবরই রাশিয়ার অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করতেন ‘ভাইকিংস’
সিরিজের এ অভিনেত্রী। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনীয় শিশুদের তোলা নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে দেশটির পক্ষে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ক্যাথরিন।
ইউক্রেনীয় সিনেমায় রাশিয়া প্রসঙ্গ: ইউক্রেনের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বেশ জনপ্রিয়। প্রতি বছর নানা ধাঁচের সিনেমা তৈরি হয়। তবে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে তৈরি সিনেমাগুলো পশ্চিমা বিশ্ব বা প্রতিযোগিতায় বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে ইউক্রেন একাধিক চলচ্চিত্র তৈরি করেছে। ভ্যালেন্টিন ভাসানোভিচ পরিচালিত ‘রিফ্লেকশন’
সিনেমাটি গত বছর ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বেশ প্রশংসা পেয়েছিল। এ সিনেমার কাহিনী এমন—ইউক্রেনীয় সার্জন সের্হি সীমান্তে রুশ সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি। অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয় সে। একটা সময় তার মুক্তি মেলে। মুক্তির পর জীবনকে নতুনভাবে খোঁজার চেষ্টা করে সে। ‘রিফ্লেকশন’
সিনেমায় রুশদের অত্যাচারের ভয়াবহতা যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনি পারিবারিক বন্ধনও দেখানো হয়েছে। ইভজেনি আফিনিভস্কি পরিচালিত ‘উইন্টার অন ফায়ার: ইউক্রেনস ফাইট ফর ফ্রিডম’
নামে একটি ডকুফিল্মে তুলে ধরা হয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের আরেক রূপ। আন্তর্জাতিকভাবে বহুল প্রশংসিত হয়েছে ডকুফিল্মটি। ৯৩ দিনে কীভাবে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, সেটাই আছে এতে।
ইরিনা সিলিকের ‘দ্য আর্থ ইজ ব্লু অ্যাজ অ্যান অরেঞ্জ’
সিনেমায় দোনবাসে ইউক্রেনের বহু বছর ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে বসবাসকারী নারী ও শিশুদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া হোমওয়ার্ড (২০১৯), দ্য
আর্থ ইজ ব্লু অ্যাজ অ্যান অরেঞ্জ (২০২০) সিনেমাগুলোও উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রুশ অভিযান নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করতে এখন ইউক্রেনে আছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা শন পেন। যুদ্ধের চূড়ান্ত ঝুঁকির মধ্যেই ইউক্রেনে অবস্থান করছেন তিনি। কিয়েভে একটি সরকারি সংবাদ ব্রিফিংয়ে শন পেনকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। সেখানে তার তথ্যচিত্র ধারণ করার বিষয়টি জানানো হয়। গত সপ্তাহে ইউক্রেনে পৌঁছেই শন পেন প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যান। উপপ্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভারেশচুকের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।
ভারতীয় সিনেমায় ইউক্রেন: এছাড়া ভারতের দক্ষিণী সিনেমার পরিচালকদের অন্যতম পছন্দের লোকেশন ইউক্রেন। দক্ষিণী বেশকিছু সিনেমার শুটিং সেখানে হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বর্তমানে তামিল সিনেমার একটি শুটিং টিম ইউক্রেনে অবস্থান করছে। আলোচিত সিনেমা ‘আরআরআর’-এর কিছু অংশের দৃশ্যধারণ হয়েছে ইউক্রেনে। এছাড়া ৯৯ সংস, ২.০, দেব, উইনার, দ্য লিজেন্ডসহ বেশকিছু দক্ষিণী সিনেমার শুটিং হয়েছে সেখানে।
অভিনেতা থেকে প্রেসিডেন্ট: ২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর আগে জেলেনস্কি জনপ্রিয় হয়েছিলেন অভিনেতা হিসেবে। তিনি যে কমেডি শোর জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, সেখানেও প্রেসিডেন্টের চরিত্রেই অভিনয় করেছিলেন। ‘সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল’ টেলিভিশন শোতে তিনি একজন স্কুলশিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে দেখা যায় আচমকা দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন তিনি। বাস্তবেও জেলেনস্কির যাত্রাটা অনেকটা সে রকম। ১৭ বছর বয়সে কমেডি প্রতিযোগিতায় নাম লেখান জেলেনস্কি। বিজয়ী হন ইউক্রেনের জাতীয় কমেডি প্রতিযোগিতা কেভিএনে। গড়ে তোলেন নিজের কমেডি দল। ১৯৯৮-২০০৩ সালে কেভিএন নামের ওই জাতীয় প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চবার বিজয়ী হয় তার দল ‘কোয়ার্তার ৯৫’। এ কমেডি দল নিয়ে বহুবার মস্কো ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ভ্রমণ করেছেন জেলেনস্কি। ২০০৩ সাল থেকে টেলিভিশন শো শুরু করেন তিনি। রুশ ও ইউক্রেনীয় ভাষার বেশকিছু টিভি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি অভিনয় করেছেন সিনেমায়ও। এর মধ্যে রয়েছে ‘লাভ ইন দ্য বিগ সিটি’, ‘অফিস রোম্যান্স’, ‘প্রেজেন্ট ডে’-এর মতো ইউক্রেনে জনপ্রিয় হওয়া আটটি সিনেমা। জেলেনস্কি যেসব সিনেমায় কাজ করেছেন, তার বেশির ভাগ রুশ ভাষার। ২০১৮ সালের ‘আই, ইউ, হি, শি’ তার সর্বশেষ সিনেমা।










