নয় বছর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল— ডিসির ‘দ্য ফ্ল্যাশ’ আসছে। সুপারহিরো হিসেবে ফ্ল্যাশের বৈশিষ্ট্য তার গতি। কিন্তু ডিসির এ সুপারহিরো ডিসির ব্যবস্থাপনার (কিংবা অব্যবস্থাপনা) কারণে গতি হারিয়েছে। কোনোমতে টলতে টলতে সিনেমাটি এ বছর মুক্তি নিশ্চিত হয়। মুক্তিও পেল কিন্তু সিনেমাটি যে আশা জাগিয়েছিল তার কিছুই তুলতে পারল না বক্স অফিসে। ‘দ্য ফ্ল্যাশ’ প্রথম দিন বক্স অফিসে আয় করেছে মাত্র ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৯৭ লাখ ডলার এসেছে বৃহস্পতিবারের প্রিভিউ স্ক্রিনিং থেকে। ভ্যারাইটির দেয়া তথ্যের পাশাপাশি ডেডলাইন জানিয়েছে সিনেমাটি প্রথম তিনদিনে প্রায় ৯ কোটি ডলার আয় করার সম্ভাবনা তৈরি করলেও আয় ৬ কোটি ডলারেই থেমে যাবে।
দ্য ফ্ল্যাশ নিয়ে একাধিক সমস্যা ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল সিনেমার প্রধান চরিত্র এজরা মিলার। তাকে নিয়ে নানা অভিযোগ-সমালোচনা সিনেমাটিকে পিছিয়ে দিয়েছে। এরপর ডিসি নতুন করে তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা ছিল সিনেমা নিয়েও। সব মিলিয়ে এরপর তারা সিনেমাটি মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। তবে খোলনলচে অনেকটাই পাল্টেছেন। নির্মাতারা মার্ভেলের আদলে তৈরি করতে চেয়েছেন মাল্টিভার্স। আনা হয়েছে ডিসির অন্যান্য সিনেমার জনপ্রিয় সব চরিত্রদের। তা সত্ত্বেও সিনেমাটি বক্স অফিসে আশানুরূপ আয় করতে পারল না। মাইকেল কিটন, বেন অ্যাফ্লেকের ক্যামিও যে আশা জাগিয়েছিল বক্স অফিসে তার প্রতিফলন নেই। মুক্তি পেতে না পেতেই কমে গেছে ফ্ল্যাশের গতি।
সিনেমাটি মুক্তির আগে স্টুডিও আশা করেছিল চারদিনে (বৃহস্পতিবারের প্রিভিউসহ) সিনেমাটি প্রায় ৭-৮ কোটি ডলার আয় করবে। কিন্তু সে তুলনায়ও ১ কোটি ডলার কম আয় করেছে। সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ৪ হাজার ২৩৪টি স্ক্রিনে। জুনের বিশেষ ছুটিতে মুক্তি পাওয়া সিনেমার হিসেবে দ্য ফ্ল্যাশের আয় অনেক কম। অন্যদিকে ডিসির সাম্প্রতিক সিনেমাগুলোর হিসেবেও এর আয় কম। কেননা ২০২২ সালে ব্ল্যাক অ্যাডাম শুরু করেছিল ৬ কোটি ডলার দিয়ে। দ্য ফ্ল্যাশ নিয়ে তাই আশা ছিল আরো বেশি। কিন্তু সে আশা অনুসারে আয় করতে না পারার কারণ কী?
এ নিয়ে বিভিন্ন মত ও বিশ্লেষণ আছে। প্রথমত, এজরা মিলার সম্পর্কিত বিতর্ক এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে সিনেমার আয়ে। দ্বিতীয়ত, ‘দ্য ফ্ল্যাশ’ যে আইডিয়া নিয়ে নির্মিত তা ভালো হলেও উপস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে ডিসি। সিনেমা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে
ভ্যারাইটি, গার্ডিয়ান প্রভৃতি গণমাধ্যমে সমালোচকরা এ কথাই বলেছেন। সিনেমাটি যেভাবে শুরু হয় তার গতি পুরোদমে এক ছিল না। অন্যদিকে যে চরিত্রগুলোর সমাবেশ ঘটিয়ে সিনেমাটি তৈরি করা হয়েছে তাদের সবাইকে প্রায় একত্রে নিয়ে আসার কারণে গল্পটি জমে ওঠার আগেই শুরু হয়েছে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা।
সিনেমাটি নিয়ে ডিসি ও গান-স্যাফ্রান জুটি বেশ গর্ব করেছিলেন। ট্রেলারের পর একে ‘সম্ভাব্য সেরা সুপারহিরো সিনেমা’ও বলা হয়েছে। কিন্তু সিনেমা দেখে বের হওয়া দর্শকরা ‘দ্য ফ্ল্যাশ’কে বি গ্রেড সিনেমা বলেই উল্লেখ করছেন। মূলত মার্ভেল যেভাবে তাদের গল্প ধাপে ধাপে সাজায় সেটা না করাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ফ্ল্যাশের ক্ষেত্রে। মার্ভেলের সিনেমাগুলো মুক্তি পেয়েছিল বেশ আগে। তাদের আয়ের সঙ্গে তুলনা দিয়ে লাভ নেই। তবু বলতে হয় প্রতিটি সিনেমার তুলনায় আয় কম দ্য ফ্ল্যাশের। অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে নতুন করে দৌড় শুরু করাও সম্ভব না।
সূত্র: ভ্যারাইটি










