তরুণ অভিনেতা শাহজাহান সম্রাট টেলিভিশন, বড় পর্দা, ওটিটিতে অভিনয় করে পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা। ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমায় ক্যাপ্টেন জাভেদ নকভি চরিত্রে অভিনয় করে বড় পর্দায় ক্যারিয়ারের সূচনা সম্রাটের। চলতি বছর একাধিক সিনেমায় দেখা যাবে তাকে। ঈদ সামনে রেখে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
ঈদ কীভাবে উদযাপন করেন আপনি?
আমি ঈদ উদযাপন করি না। এখন আমি সবার চোখে-মুখে ঈদ দেখি। আজ ঈদ। সবার মনে আনন্দ, এটা ভেবে আমার ঈদের দিন খুব ভালো লাগে। ঢাকায়ই আমার ঈদ করা হয়। তাই ফাঁকা রাস্তায় আমি একা শহরটা ঘুরে দেখি। আমার ঈদের সঙ্গী কেউ হতে পারে না। আমি একাই থাকি সারাক্ষণ।
কেন একা থাকা হয়?
সচরাচর তো আমরা ঢাকা ফাঁকা পাই না। ওই সময়টা দেখা যায় নিজেকে সময় দেয়া যায়, বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়া যায়। আমার বর্তমান এলাকা মতিঝিল। এদিকটায় সারা বছর কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ থাকে। তবে ঈদে সুন্দর নিরিবিলি। পুরো শহরটা ফাঁকা আর লাল-নীল বাতি জ্বলছে। এ অদ্ভুত সময়টা আমার পুরো শহরটা একা ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে। তাই একা ঘোরা হয়। বরং এ সময় কেউ সঙ্গে থাকলে আমার বিরক্তি লাগে। ঈদের দিনের থেকে আমার কাছে চাঁদরাত খুব ভালো লাগে। এদিন আমি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করি, অনেক আড্ডাবাজি করি। আর ঈদের দিনে আমার মনে হয়, ইশ ঈদ তো শেষ!
ঈদ উৎসবে আপনার প্রিয় খাবার?
আমার প্রিয় খাবার ফুচকা। ঈদে বাসায় ফুচকা বানানো হয়। আমি বিকালের পর থেকেই একটু পরপর ফুচকা খাই। ঈদের দিন মায়ের হাতের সেমাই আমার খুব প্রিয়। ভুনা খিচুড়ি গরুর মাংস দিয়ে খেতে খুব ভালো লাগে।
ঈদের ছোটবেলার কোনো স্মরণীয় স্মৃতি?
ছোটবেলায় আমাদের দুই ভাইকে খুব দাম দিয়ে একই রকমের কাবলি সেট কিনে দেয়া হয়েছিল। আমার খুব পছন্দ ছিল ওই ড্রেসটা। খুব অদ্ভুতভাবে নামাজ পড়ে আসার ২০ মিনিটের মাথায় আমার পাঞ্জাবিটা তারকাঁটায় ছিঁড়ে যায়। তখন আমার শুধু মনে হচ্ছিল আমার ঈদ শেষ। এরপর বাসায় এসে আমি আর বের হইনি। কারণ আমার ঈদ তো শেষ হয়ে গেছে। তখন আমি ক্লাস ফোরে পড়ি। এত বছর পর এসে এখনো আমার ওই ড্রেসটার কথা মনে পড়লে খারাপ লাগে। আমার সবচেয়ে প্রিয় পাঞ্জাবিটা আমি পরতে পারিনি।
এবার একটা আনন্দের স্মৃতি বলুন।
ঈদের নাটক দেখাটা অনেক আনন্দের ছিল। আমার বড় আপা সাতদিন আগে থেকে তালিকা করত টিভিতে কী দেখা হবে। টিভির রিমোট থাকত আমার বড় বোনের কাছে। এছাড়া ঈদের দিনে গানের ক্যাসেট কেনা ছিল উৎসব। চাঁদরাতে জেমস বা আইয়ুব বাচ্চুর গান ছাড়া চাঁদরাত হবে না। আর ঈদের রাতে হুমায়ূন আহমেদের নাটক তো ছিল সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। আরেকটা ঈদের স্মৃতি আমি বলতে চাই। এটাও যদিও কষ্টের। ঈদে আমার সবচেয়ে বেশি কষ্ট হতো যখন দেখতাম আমার কাছের বন্ধুটা ঈদের এই কয়দিন গায়েব। কারণ আমার সব তো ঢাকায়। সবাই দেশের বাড়িতে গেলেও আমার তো যাওয়া হতো না। আমার বন্ধুটা তার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছে। কিন্তু আমি যে সারা বছর তাকে পরিবার মেনে থাকলাম, কিন্তু ঈদের আনন্দে সে নেই। তখন বিটিভিতে রাত ৮টার সংবাদ হতো। তখন দেখতাম সবাই বাড়ি যাচ্ছে। তখন আমার বন্ধুদের কথা ভাবতাম যে তারা গেল কিনা আবার যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটত তখন কষ্ট হতো। আমি আসলে নিতে পারতাম না যে মানুষ কেন এত কষ্ট করে যাবে।










