জেমস ক্যামেরন আধুনিক সিনেমার সবচেয়ে প্রভাবশালী নির্মাতাদের অন্যতম। ‘‌টাইটানিক’ (১৯৯৭), ‘অ্যাভাটার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য তিনি সারা বিশ্বে খ্যাতি পেয়েছেন। প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে নতুন ধরনের সিনেমা তৈরির পথপ্রদর্শক এ পরিচালক সাধারণত তার চলচ্চিত্রগুলো মুক্তির পর আর দেখেন না। এ বিষয়ে তার মন্তব্য হলো ‘সাধারণত আমি কয়েক বছরের জন্য নিজেকে বিরতি দিই এবং তখন আর চিন্তা করতে চাই না। একটি সময় আসে যখন আপনি সমালোচক না হয়ে কিছুটা দর্শকের মতো হয়ে যেতে পারেন।’

তবে ২০২২ সালের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’-এর ক্ষেত্রে তিনি এ নিয়ম ভাঙতে বাধ্য হন। কারণ সে বছরই ডিসেম্বরে সিরিজের তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ মুক্তির কথা ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশের ভিজুয়াল ইফেক্টস শেষ করার কাজ করছি। আমি চাই সিনেমার সংগীত ব্যবহার ও সংলাপ দৃশ্যে আন্ডারস্কোরিংয়ে থিম্যাটিক সামঞ্জস্য থাকুক।’

আজ ৩ অক্টোবর দর্শক আবার বড় পর্দায় দ্য ওয়ে অব ওয়াটার দেখার সুযোগ পাবেন। এটি পুনরায় দেখানো হবে ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশের জন্য। সিনেমাটি জ্যাক সুলি (স্যাম ওয়ার্থিংটন) ও নেটিরির (জো স্যালডানা) পারিবারিক কাহিনী অনুসরণ করে করা। গল্পটি ২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’-এর পর ঘটে, যেখানে তারা নাভি (অ্যাভাটার সিনেমার কল্পিত প্রাণী জাতি) জনগণের ওপর মাইলস কোয়ারিচের সামরিক আক্রমণ রুখে দেয়। সিকুয়ালে ১৬ বছর পর জ্যাক ও নেটিরির পাঁচটি সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দত্তক কন্যা কিরি (সিগারনি উইভার), যিনি উইভারের মৃত মানবচরিত্র ডক্টর গ্রেস অগাস্টিনের নিষ্ক্রিয় নাভি অবতার থেকে জন্মেছেন এবং একটি অর্ধ দত্তক মানবছেলে স্পাইডার (জ্যাক চ্যাম্পিয়ন)।

ভ্যারাইটিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্যামরন বলেছেন, ‘চলচ্চিত্র পুনরায় দেখলে নতুন কিছু লক্ষ করা যায়, যা আগে নজরে আসেনি। এটি প্রমাণ করে সিনেমা তৈরির অনেক কিছু অচেতনভাবে ঘটে এবং সবকিছু পরিমাপ করা যায় না। আমার কাজ সবসময় ক্ষুদ্রতম জিনিসগুলো খুঁজে দেখা। উদাহরণস্বরূপ, ভিএফএক্স শট দেখছি—‘চরিত্রটি যখন সেই ফার্নের ওপর পা রাখছে, তা ঠিক মনে হচ্ছে না। সুতরাং সেটি আবার করা দরকার। প্রতিটি ছোট বিষয়ও দেখতে হয়। ঘাসের কণা, আগুনের চকমক, আলো সবই গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্ম দেখতে বসলে বোঝা যায় পুরো দৃশ্যের মূল অনুভূতি কোথায়।’

আপনার জন্য ভিএফএক্স প্রক্রিয়া এখন কেমন চলছে? প্রশ্নের জবাবে ক্যামেরন বলেন, ‘আসলে যখন আমি ভিএফএক্স টিমের সঙ্গে কাজ করছি, আমি একটি নতুন সংস্কৃতি তৈরির চেষ্টা করছি। এটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বরং সৃজনশীল সংস্কৃতি।’

সূত্র: ভ্যারাইটি