মাসুদ রানা ভক্তদের অপেক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে। মাসুদ রানা অবলম্বনে ‘এমআর নাইন: ডু অর ডাই’ সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে আজ। চলতি মাসে মুক্তির মিছিলে এটি পঞ্চম সিনেমা। কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা। বড় পর্দায় মাসুদ রানাকে দেখার অপেক্ষা ছিল দর্শকের। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে নির্মাণ শুরুর আগেই। হলিউডের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনা নির্মাণ হয়েছে এমআর নাইন: ডু অর ডাই।
এ সিনেমায় এবিএম সুমনকে দেখা যাবে গোয়েন্দা মাসুদ রানার চরিত্রে। এমআর নাইন নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন নির্মাতা আসিফ আকবর। কাজী আনোয়ার হোসেন গোয়েন্দা চরিত্র মাসুদ রানা নিয়ে অনেক বই লিখেছেন। এর মধ্যে ‘ধ্বংসপাহাড়’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এমআর নাইন । নির্মাতা আসিফের সঙ্গে চিত্রনাট্য লিখেছেন আব্দুল আজিজ ও নাজিম উদ দৌলা।
সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন এমআর নাইনের নির্মাতা, অভিনেতা ও সংশ্লিষ্টরা। এবিএম সুমন তার অভিনীত মাসুদ রানা সিনেমাটি নিয়ে বলেন, ‘অনেক পরিশ্রম করে অবশেষে সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এ অনুভূতি বোঝানোর মতো ভাষা নেই আমার। এর আগে এত বড় সিনেমায় লিড করার সুযোগ হয়নি। সিনেমাটি দেখার পর মাসুদ রানার প্রেমে সবাই পড়ুক, এটাই চাই এখন। করোনা মহামারীর সময় ডিপ্রেশনে ছিলাম। প্রায়ই মনে হতো, আসলেই কি সিনেমাটা হবে। তবে নির্মাতা আসিফ আকবর সবসময় আমার পাশে ছিলেন, উৎসাহ দিয়েছেন।’ মাসুদ রানা পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করেছি এমআর নাইন বিশ্বব্যাপী ছয় মাস শুধু থিয়েটারে রিলিজ দেব। বাইরে ওটিটিতে রিলিজ হবে না।’ এরই মধ্যে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে সাবেক মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুটজয়ী জেসিয়া ইসলামের। তিনি বলেন, ‘এ সিনেমার অংশ হতে পেরে আমি অনেক খুশি। আমি এটাকে একটা সুযোগ হিসেবে নিয়েছি। আমি মনে করি, এটি আমার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এমন বড় প্রজেক্ট হচ্ছে, আমি মনে করি, সিনেমাটি সাফল্য পাবে।’
আন্তর্জাতিক পরিবেশক সংস্থা স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর পরিবেশনায় কানাডা ও আমেরিকার ১৫১টি স্ক্রিনে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর প্রেসিডেন্ট অলিউল্লাহ সজীব বলেন, ‘আমাদের সিনেমা আমেরিকা ও কানাডার ১৫০-এর বেশি থিয়েটারে একযোগে চলছে, এ অবিশ্বাস্য ঘটনা এখন বাস্তব। এর আগে আমরা কখনো ১০০ থিয়েটারের বেঞ্চমার্ক ছুঁতে পারিনি। সবচেয়ে বেশি কাছে গিয়েছিল ‘‘পাপ পুণ্য’’, ৯১ থিয়েটারে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। এরপরের স্থান ‘‘হাওয়া’’র। ৮৮টি থিয়েটারে চলেছে এ সিনেমা। এবার ১০০ তো হয়েছেই, ১৫০ও হয়ে গেছে। ঘটনাটি আরো তাৎপর্যপূর্ণ এ কারণে, এ বিশাল আকারের রিলিজে ‘‘রিগ্যাল’’-এর একটা থিয়েটারও নেই। অথচ আমাদের সব রিলিজে তাদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক থিয়েটার থাকে। এবারো তাদের কাছে বেশকিছু থিয়েটারের রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে তারা এ সপ্তাহে এমআর নাইন: ডু অর ডাই চালাতে পারছে না। যদি পারত, তাহলে থিয়েটার সংখ্যা আরো বাড়ত। তবে এখনো এমআর নাইন: ডু অর ডাইয়ের মোট থিয়েটার সংখ্যা বাড়ার সুযোগ আছে। কারণ রিগ্যাল ২৫ আগস্ট না পারলেও আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সিনেমাটি চালাবে বলে জানিয়েছে।’
এমআর নাইন: ডু অর ডাই সিনেমায় এবিএম সুমন ও জেসিয়া ছাড়া বাংলাদেশী অভিনেতাদের মধ্যে শহীদুল আলম সাচ্চু, আনিসুর রহমান মিলন ও টাইগার রবি অভিনয় করেছেন। এছাড়া অভিনয় করেছেন মাইকেল জেই হোয়াইট, সাক্ষী প্রধান, নিকো ফস্টার, ম্যাট পাসমোর, কেলি গ্রেসন, ফ্রাঙ্ক গ্রিলো প্রমুখ।










