ভারতে চলচ্চিত্রের ইতিহাস এক শতাব্দী পেরিয়ে গেছে। অথচ অভিনেতাদের জন্য পরিকল্পিতভাবে সিনেমায় কাজ করার বয়স খুব বেশি নয়। এই তো ৩০ বছর আগেও নায়করা সিনেমায় কাজ করতেন শিফট ভিত্তিতে। সম্প্রতি দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই তুলে ধরেন চলচ্চিত্র সমালোচক অনুপমা চোপড়া। তিনি নব্বইয়ের দশকে সিনেজগৎ নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগে একজন অভিনেতা ১২-১৪টি পর্যন্ত সিনেমা করতে পারত। তিন-চারটি শিফটে কাজ করতেন তারা প্রতিদিন। ফলে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগত, অন্যদিকে খরচও হতো বেশি।’
অনুপমার দাবি, সেই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সহঅভিনেতা ছিলেন অনুপম খের। একই সময়ে ৬০টি সিনেমায় কাজ চালিয়ে যাওয়ারও রেকর্ড আছে তার। সে সময় অনেকেই বলতেন, অনুপম খেরকে ছাড়া সিনেমা করাই সম্ভব নয়। তবে বলিউডে পরিবর্তনের হাওয়া আসতে শুরু করে আমির খানের হাত ধরে। নব্বইয়ের দশকে নিজেকে তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন আমির খান। প্রথম অভিনেতা হিসেবে তিনি একসঙ্গে কেবল একটি সিনেমা করার ঘোষণা দেন। সে সময় তাকে অনেকে মেনে নিতে পারেনি। অনুপমা চোপড়া বলেন, ‘আমির প্রথম ব্যক্তি, যে একটি সিনেমা করার ট্রেন্ড চালু করেছেন। সে সময় মানুষ তাকে পাগল মনে করত।’
অনুপমা চোপড়ার দাবি, ১৯৭০ সালের দিকেও একসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমায় কাজ করে যাওয়ার প্রচলন ছিল অভিনেতাদের মধ্যে। এ প্রবণতার জন্যই শশী কাপুর পরিচিত ছিলেন ট্যাক্সি বলে। একটা শিফট শেষ হওয়ার পর তিনি আরেকটা শিফটের জন্য বের হতেন। এক স্টুডিও থেকে ট্যাক্সি নিয়ে চলে যেতেন অন্য স্টুডিওতে। পোশাকও বদল করতেন সেখানেই। এভাবে তিনি নিজেই পরিচিত হন ‘ট্যাক্সি’ নামে।
অনুপমা চোপড়ার আগে ২০২৩ সালে অজয় দেবগনও এমনটা জানিয়েছিলেন। সে সময় অজয় বলেন, ‘আজকাল আমরা একটা সিনেমা করি। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন আমরা একসঙ্গে ১৫-২০টা সিনেমাও করেছি। আমরা চারটি শিফটে কাজ করতাম আলাদাভাবে। ৫-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত শিফট থাকত। সকাল ৭টার দিকে কাজে বের হতাম, বাইরেই থাকতাম রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত। একটা জিন্স পরেই ছুটে যেতাম এক সেট থেকে আরেক সেটে। কেবল জ্যাকেট কিংবা শার্টটা বদলে নিতাম। সেটা দিয়েই শুটিং হতো ৪-৫ ঘণ্টা।’
বলিউডের এখন পরিকল্পিত এক ইন্ডাস্ট্রি। অভিনেতারা একটা সিনেমার চরিত্রেই ডুব দেন গভীরভাবে। খুব জোর হলে দুটো। কিন্তু এ প্রবণতার বয়স খুব বেশি নয়। তিন দশক আগের সে শিফট প্রবণতাকে তখনকার ইন্ডাস্ট্রির অপরিকল্পিত পরিস্থিতি হিসেবেই চিহ্নিত করেন অনুপমা চোপড়া।
সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি










