বারবি বললেই একটা সুন্দর পুতুলের কথা মাথায় আসে। সৌন্দর্যের একটি মাপকাঠি হয়ে উঠেছিল বারবি। প্রায় ৬৪ বছর ধরে সে অবস্থানে আছে চরিত্রটি। তাকে নিয়েই সিনেমা বানিয়েছেন গ্রেটা গেরউইগ। মার্গো রবি ও রায়ান গসলিংকে নিয়ে নির্মিত এ সিনেমা নিয়ে বছরের শুরু থেকেই ছিল নানা আলোচনা। কস্টিউম ও সাজ নিয়ে সিনেমাটি ভিন্নধর্মী হবে, তা সবার জানাই ছিল। কিন্তু সিনেমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হলো ভিন্ন কারণে। একটি মানচিত্র তৈরি করল বিতর্ক। সিনেমাটি নিষিদ্ধ হলো ভিয়েতনামে। তাদের দাবি নাইন ড্যাস লাইন দিয়ে সমুদ্রে চীনের যে অধিকার দেখানো হয়েছে, তা ভিয়েতনামের সার্বভৌমত্বে আঘাত করে। কিন্তু এবার ওয়ার্নার ব্রোস থেকে বলা হলো একটি শিশুতোষ মানচিত্র নিয়ে এত চিন্তিত হওয়া উচিত নয়।

ওয়ার্নার ব্রোসের এক মুখপাত্র ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘‌বারবি ল্যান্ডের মানচিত্রটি শিশুতোষ একটি কাজ। ক্রেয়ন দিয়ে আঁকা। এটা নিয়ে কেবল বারবি ল্যান্ড থেকে মূল দুনিয়ায় যাওয়ার একটা স্বপ্ন বারবি দেখছে।’ কিন্তু এমন কথা ভিয়েতনাম মানবে কেন? বিষয়টি শিশুতোষ নয়, কেননা এর আগেও নানা সিনেমা ও সিরিজে এ নাইন ড্যাশ লাইন প্রচার করা হয়েছে। সিনেমার মাধ্যমে কিছু বিষয় প্রচার করা হয়। সে কারণেই এর আগেও ভিয়েতনামে বেশকিছু সিনেমা ও সিরিজ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। টম হল্যান্ডের আনচার্টেডও এর মধ্যে ছিল। তাছাড়া শিশুতোষ বিষয় হলে সেটি ছেঁটে ফেলতে আপত্তিও থাকা উচিত নয়।

নাইন ড্যাশ লাইন দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের অধিকার বোঝানো হয়। প্রশ্ন হচ্ছে সিনেমায় এ ম্যাপের প্রয়োজন কী? মূল গল্প যথাসম্ভব না বলে বিষয়টি খোলাসা করতে গেলে বলতে হয় গল্পে একটা পর্যায়ে বারবি আস্তিত্বের সংকটে পড়ে। এ সময় সে বারবির দুনিয়া থেকে বাস্তবের দুনিয়ায় যেতে চায়। সে সূত্রেই ম্যাপটি দেখানো হয়েছে। সেক্ষেত্রেও প্রশ্ন ওঠে ম্যাপটিতে বাস্তবের দুনিয়া কতটা আছে। এ প্রসঙ্গে টরন্টো সানে বিনয় মেনন লিখেছেন, ‘‌আমি নিশ্চিত নই আন্তর্জাতিক আদালত এ মানচিত্র মেনে নেবেন কিনা। বিষয়টি খুবই অবাস্তব। এখানে কন্টিনেন্টাল ইউরোপ কোথায়? নিউজিল্যান্ড কোথায়? এছাড়া পালতোলা নৌকাগুলো কী বোঝায়?’

বারবি নতুন বিতর্ক তুলেছে সন্দেহ নেই। তবে এর মাধ্যমে সিনেমায় ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিষয় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের আরো বেশি সতর্ক হওয়ার বার্তাটি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সূত্র: ফোর্বস